গত বছর ছাত্র নেতৃত্বাধীন জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে চূড়ান্তভাবে শেখ হাসিনার স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটে। এই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শত শত বিপ্লবীর রক্ত ঝরে। অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। সেই থেকেই তিনি সেখানে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।
চলতি জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এই এক বছর পরও ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশটির বিরোধপূর্ণ রাজনীতি ও বিশৃঙ্খল অর্থনীতি নিয়ে ধুঁকতে হচ্ছে।
ব্রিটেনের লন্ডনের বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট খাত বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অর্থ হরিলুটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। কারণ শেখ হাসিনা সরকারের বিতর্কিত ব্যক্তিরা সরকারি চ্যানেলে ব্যাংকিং খাত থেকে অর্থ লুট করে ব্রিটেনের রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগ করেছেন।
গত মে মাসে ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) বাংলাদেশের সালমান এফ রহমানের পরিবারের সদস্যদের রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগ করা ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড মূলের সম্পত্তি জব্দ করে। গত বছর গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে সালমান এফ রহমান পরিবারের ওই সম্পদ কেনার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।
ওই ঘটনার তিন সপ্তাহ পর এনসিএ বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ব্রিটেনে রিয়েল এস্টেট খাতের ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তি জব্দ করে। সাইফুজ্জামান চৌধুরী শেখ হাসিনার শাসনামলে ব্রিটেনে ৩০০-এর বেশি বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছিলেন।
গার্ডিয়ান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশি অর্থ লুটেরাদের সম্পত্তি নিয়ে নতুন করে তদন্ত করেছে। তাতে দেখা গেছে, কিছু বাংলাদেশি যাদের ব্যাপারে ঢাকার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে, তারা লন্ডনে তাদের সম্পত্তি হয় বিক্রি করছেন নতুবা হস্তান্তর করছেন কিংবা পুনরায় বিনিয়োগ করছেন। অভ্যুত্থান শুরুর পর থেকেই তারা এসব কাজ করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
ব্রিটেনের বেশ কিছু ল ফার্ম লন্ডনে বাংলাদেশি লুটেরা ব্যবসায়ীদের সম্পদ কেনার ক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু তারা লন্ডনে তাদের সেই ব্যবসা এখন স্বাধীনভাবে চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা লুটের অর্থ দিয়ে কেনা এসব সম্পত্তি ফ্রিজ করার চেষ্টা করছেন। তারা এ বিষয়ে তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ এসব সম্পত্তি আরও অধিক হারে জব্দ করতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।
গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি লুটেরাদের সম্পদ জব্দ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে লন্ডন প্রপার্টি। এর ফলে হয়তো বাংলাদেশের অবাঞ্ছিত দুর্নীতির খানিকটা অবসান ঘটতে পারে।