তুরস্কের এসকিশেহির অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১০ জন বনকর্মী ও উদ্ধারকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫ জন বন বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং বাকি ৫ জন উদ্ধারকারী দলের সদস্য।
বুধবার (২৩ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির কৃষিমন্ত্রী ইব্রাহিম ইউমাকলি।
এর আগে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে দাবানলটি ইস্তানবুল ও রাজধানী আঙ্কারার মধ্যবর্তী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচণ্ড তাপদাহ ও দমকা হাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা অনেক বসতবাড়িকে হুমকির মুখে ফেলে। এরই মধ্যে কয়েকটি গ্রাম খালি করে ফেলা হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী ইউমাকলি জানান, হঠাৎ দমকা হাওয়ায় আগুনের গতি ও দিক পাল্টে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে থাকা ২৪ জন কর্মী আগুনের মধ্যে পড়লে দুঃখজনকভাবে আমরা পাঁচজন বনকর্মী এবং পাঁচজন উদ্ধারকারীকে হারিয়েছি। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং শাসক দল একেপির নেতা নেবি হাতিপোগলু এক্স (সাবেক টুইটার)-এ বলেন, 'এ শোক ভাষায় প্রকাশের নয়।'
গত রবিবার (২০ জুলাই) থেকে তুরস্কে চলমান তাপদাহ পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা মৌসুমি গড়ের চেয়ে ৬ থেকে ১২ ডিগ্রি বেশি। এই অবস্থায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে একের পর এক এলাকায়।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা- যেমন দাবানল ও তাপপ্রবাহ আরও বাড়বে।
সাইপ্রাসেও দাবানল, খালি করা হয়েছে চারটি গ্রাম
এদিকে একই দিনে সাইপ্রাসেও শুরু হয়েছে ভয়াবহ দাবানল। দ্বীপটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লিমাসোলের উত্তরের পার্বত্য এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে অন্তত চারটি গ্রাম খালি করে ফেলা হয়েছে।
সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোদুলাইডস জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী জর্ডান থেকেও সাহায্য আসছে।
তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই ৪৩ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) তা ৪৪ ডিগ্রি ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে- যা এ বছরের সর্বোচ্চ।
অতীতে দাবানল স্বাভাবিক ঘটনা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর ভয়াবহতা ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মেহেদী/