ওয়েস্ট ব্যাংকে ফিলিস্তিনি অ্যাক্টিভিস্ট এবং শিক্ষক ওদেহ মুহাম্মদ হাদালিনকে গুলি করে হত্যা করেছে এক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী।
সোমবার (২৮ জুলাই) রাতে ফিলিস্তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানায়,অধিকৃত পশ্চিম তীরের উম্ম আল-খাইর গ্রামে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় হাদালিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।
হাদালিন তার সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র নো আদার ল্যান্ড -এর নির্মান টিমের একজন ছিলেন। চলচ্চিত্রটি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের মাসাফের ইয়াত্তার উপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী এবং সৈন্যদের আক্রমণের ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয়েছে।
‘নো আদার ল্যান্ড’-এর নির্মাতা দুই সাংবাদিক—ইসরায়েলি সাংবাদিক ইউভাল আব্রাহাম এবং ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বাসেল আদরাও নিশ্চিত করেছেন,এই কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আদরা লিখেন, ‘আমার প্রিয় বন্ধু ওদাহকে আজ সন্ধ্যায় হত্যা করা হয়েছে।’
আদরা আরও জানান, তিনি গ্রামের কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন একজন বসতি স্থাপনকারী তার বুকে গুলি চালায়।
চলচ্চিত্রটির সহ-পরিচালক আব্রাহাম জানান, ওদেহ একজন অসাধারণ কর্মী যিনি আমাদের মাসাফের ইয়াত্তায় নো আদার ল্যান্ড ছবিটি নির্মাণ করতে সাহায্য করেছিলেন।
আব্রাহাম ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, ‘স্থানীয়রা গুলিবর্ষণকারীকে শনাক্ত করেছেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ ইয়িনন লেভি।
আব্রাহাম আরো বলেন, 'ভিডিওতে তাকে পাগলের মতো গুলি ছুড়তে দেখা গেছে।'
ইসরায়েলি সেনারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চার ফিলিস্তিনি ও দুই বিদেশি পর্যটককে গ্রেফতার করেছে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানায়, হামলার সময় আরেকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। তাকে একজন বসতি স্থাপনকারী পিটিয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাদালিন মসাফের ইয়াত্তার বাসিন্দা ছিলেন। ওই এলাকা হেব্রোনের দক্ষিণে পাহাড়ে অবস্থিত। এখানে বাসিন্দারা দশকের পর দশক ধরে তাদের ঘরবাড়ি ধরে রাখতে লড়াই করে আসছেন। কারণ ইসরায়েল এই এলাকা একটি সামরিক শুটিং বা প্রশিক্ষণ এলাকা ঘোষণা করেছে।
তাদের বাড়িঘর ধ্বংস হওয়া রোধের চেষ্টা ‘নো আদার ল্যান্ড’চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে। চলচ্চিত্রটি গত মার্চে অস্কারে সেরা ডকুমেন্টারি হিসেবে পুরস্কৃত হয়।
সুলতানা দিনা/