ইসরায়েলের গাজা শহর দখলের পরিকল্পনাকে ‘ভুল’ ও ‘রক্তক্ষয়ী’ বলে এর কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বেশিভাগ সদস্যের সমর্থনে গাজায় আক্রমণ আরও তীব্র করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি ইসরায়েল সরকারের প্রতি এই সিদ্ধান্ত তৎক্ষণাৎ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকার পুরো অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিতে আগ্রহী হলেও, অনুমোদিত পরিকল্পনায় গাজা সিটি দখলের ওপর জোর দিয়েছেন। এটি গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় শহর।
এই পরিকল্পনার ফলে গাজায় হামাসের হাতে বন্দি থাকা ২০ জন ইসরায়েলি বন্দির নিরাপত্তা বিপন্ন হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা। হামাস বন্দিদের প্রতি নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
স্টারমারের বিবৃতিতে বলা হয়, “এই পদক্ষেপ কোনোভাবেই সংঘাত শেষ করবে না বা বন্দিদের মুক্তিতে সাহায্য করবে না। বরং রক্তপাত আরও বাড়াবে।’’
স্টারমার বলেন, ‘‘আমাদের দরকার একটি শান্তি প্রক্রিয়া, হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, সব বন্দির মুক্তি এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান। হামাস গাজার ভবিষ্যতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না; তাদের অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে এবং চলে যেতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের বার্তা স্পষ্ট: কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব, কিন্তু উভয় পক্ষকে ধ্বংসাত্মক পথে থেকে সরে আসতে হবে।”
ব্রিটেনের লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা এড ডেভি পরিকল্পনাকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “নেতানিয়াহুর লক্ষ্য স্পষ্ট—এটি এক ধরনের জাতিগত নির্মূলকরণ। যুক্তরাজ্যের সরকারকে এখনই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।’’
এড ডেভি আরও বলেন, ‘‘কিয়ার স্টারমারকে আজই ইসরায়েলে যাবতীয় অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করতে হবে এবং নেতানিয়াহু ও তার মন্ত্রিসভার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।”
এদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তাদের আলোচনায় যুক্তরাজ্য-আমেরিকা সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য ঘোষণা করেছে, গাজার বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতি বন্ধ করতে ইসরায়েল যদি যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সেপ্টেম্বর থেকে তারা প্যালেস্টাইনের স্বাধীন রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেবে।
ইসরায়েল এই পদক্ষেপকে ‘হামাসের দানবীয় সন্ত্রাসবাদের পুরস্কার’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান আমেরিকার সঙ্গে বিপরীত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, কারণ আমেরিকা-ইসরায়েল উভয়ই এই স্বীকৃতিকে হামাসকে পুরস্কৃত করার মতো বলেছে।
জাতিসংঘ আগাম সতর্ক করেছে যে, গাজার সম্পূর্ণ সামরিক দখল একত্রে ফিলিস্তিনি নাগরিক ও বন্দিদের জন্য ‘পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে’।
বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার প্রায় তিন চতুর্থাংশ দখল করেছে। আর ২.১ মিলিয়ন মানুষের বেশিরভাগই গাজার সেই অংশে বসবাস করে, যা ইসরায়েলি সেনার নিয়ন্ত্রণে নেই।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে এক পরিকল্পনার খসড়া প্রকাশ করেছে, যার পাঁচটি মূল উদ্দেশ্য হলো—হামাসকে অস্ত্র থেকে মুক্ত করা, সব বন্দি মুক্ত করা, গাজা স্ট্রিপকে সামরিকভাব থেকে নিরস্ত্রীকরণ, গাজার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং হামাস বা প্যালেস্টাইন অথরিটির বাইরে একটি বিকল্প প্রশাসন গঠন।
তবে হামাস ইসরায়েলকে ‘জাতিগত নির্মূলের পরিকল্পনা’ ও ‘বন্দিদের ভবিষ্যৎ উপেক্ষা’ করার অভিযোগ তুলেছে এবং যুদ্ধ সম্প্রসারণের জন্য কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েল যদি পুরো গাজা নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়, তাহলে শক্ত প্রতিরোধ করার অঙ্গীকার করেছে। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/