ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন নাগরিকদের গোপন প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দেশটির প্রধান জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত তিনজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থা যাদের সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্ক থেকে আলাদা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে গোপনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লকে রাসমুসেন এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা জানি, কিছু বিদেশি শক্তি গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের রাজত্ব নিয়ে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। তাই ভবিষ্যতে বাইরের হস্তক্ষেপের চেষ্টা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে ডেনমার্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ অবশ্যই অগ্রহণযোগ্য।’’
তিনি আরও জানান, এ কারণেই তিনি মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে আলোচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে তলব করেছেন।
এ বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানসম্পন্ন ও সম্পদসমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড দরকার। এমনকি এটি অধিগ্রহণের জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও তিনি খারিজ করেননি।
তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরিচালিত এক মতামত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৫৭ হাজার মানুষের বেশিরভাগই ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হতে চায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না।
ট্রাম্পের প্রস্তাবের পর ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে এবং ইউরোপের সমর্থন আদায়ে তৎপর হয়। গ্রিনল্যান্ড একসময় ডেনমার্কের উপনিবেশ ছিল, বর্তমানে এটি স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে ডেনমার্ক রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত।
ডেনমার্ককে সমর্থনের প্রতীকী প্রদর্শনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গত জুনে গ্রিনল্যান্ড সফর করেন এবং স্থানীয়দের উষ্ণ অভ্যর্থনা পান। এর বিপরীতে গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সেখানে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত তাকে একটি দূরবর্তী মার্কিন বিমানঘাঁটিতে সীমিত সফর করতে হয় এবং তার স্ত্রীর কুকুর স্লেজ রেসে অংশগ্রহণের পরিকল্পনাও বাতিল হয়।
ডেনমার্কের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা পিইটি এক বিবৃতিতে জানায়, আমরা মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড নানা ধরনের প্রভাব বিস্তারের অভিযানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এটি বিদ্যমান কিংবা মনগড়া মতবিরোধকে কাজে লাগিয়ে হতে পারে। যেমন: নির্দিষ্ট কোনো ইস্যুতে বিভাজন সৃষ্টি করা, অথবা গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা এ অঞ্চলে আগ্রহী অন্য কোনো দেশের বিষয়ে নির্দিষ্ট মতাদর্শকে উসকে দেওয়া।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসন এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর্কটিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তিনি ওয়াশিংটনের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি বলেন, আপনারা যদি গ্রিনল্যান্ডে আরও সক্রিয় হতে চান, তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক প্রস্তুত। আর যদি আর্কটিকে নিরাপত্তা জোরদার করতে চান, তবে আমাদের সঙ্গে মিলেই তা করুন। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/