বুরকিনা ফাসোতে সমকামিতা নিষিদ্ধ করে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন পাস করা হয়েছে। আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে সম্প্রতি যে ধরনের সমকামীবিরোধী আইন পাস হয়েছে, এটি তার সর্বশেষ উদাহরণ।
আফ্রিকার প্রায় ৩০টি দেশে সমকামিতা আগে থেকেই অবৈধ। তবে তিন বছর আগে বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরের ক্ষমতা দখলের আগে পর্যন্ত দেশটিতে সমকামিতা নিষিদ্ধ ছিল না।
২০২২ সালে পরপর দুটি অভ্যুত্থানের পর গঠিত ৭১ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সংসদে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকলেও প্রস্তাবিত আইনটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
দেশটির ন্যায়বিচার মন্ত্রী এদাসো রদ্রিগ বায়ালা জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবিতে বলেন, “এই আইনে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সমকামিতা বা এ ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ এবং এতে লিপ্ত যে কেউ বিচারকের মুখোমুখি হবে।” তিনি আরও জানান, বিদেশি নাগরিকরা এই অপরাধ করলে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, পরিবার ও নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত বিস্তৃত সংস্কারের অংশ হিসেবে এই আইন আনা হয়েছে এবং সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণাও চালানো হবে।
বুরকিনা ফাসোর ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ মালি ২০২৪ সালের নভেম্বরে সমকামিতাকে অপরাধ ঘোষণা করে আইন পাস করে।
ঘানা ও উগান্ডাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সমকামীবিরোধী আইন কঠোর করেছে, যদিও এতে তারা ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
উগান্ডার আইনে “অ্যাগ্রাভেটেড হোমোসেক্সুয়ালিটি” বা ‘গুরুতর সমকামী অপরাধকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে সমলিঙ্গের সম্পর্ক স্থাপনের জন্যও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সূত্র: এএফপি
মাহফুজ/