চলতি বছর ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ হবে বলে মনে করছেন না দেশটির নাগরিকরা। কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্যোশিওলজির করা এক জরিপে উঠে এসেছে বিষয়টি। আর ঠিক এ রকম একটি সময়েই মিত্রদের কাছ থেকে নতুন সহায়তা পাওয়ার পথ খুঁজে বেড়াচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভ মূলত যুদ্ধের নতুন পর্বের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন । তবে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে– এমন ভরসা তারা করতে পারছে না। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পর এক নজিরবিহীন বাদানুবাদ হয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইউরোপের কূটনীতি ও ইউক্রেনের দুঃখ প্রকাশের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক হয়েছে সব।
তবে কোনোভাবেই তারা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে পারেনি। ট্রাম্প এর আগে কয়েক দফা হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত আর তা করেননি। ইউক্রেন ও ইউরোপের দেশগুলোর আশা ছিল, যেকোনোভাবে রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাপে ফেলা গেলে পুতিনকে আলোচনার টেবিলে সহজে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। পুতিন ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আলোচনার টেবিলে এসেছেন ঠিকই, তবে তিনি নানাবিধ শর্ত রেখেছেন। ইউক্রেনকে যুদ্ধ অবসানের জন্য সেসব শর্ত মেনে নিতে হলে শুধু যে ভূখণ্ড হারাতে হবে তা নয়, তাদেরকে নিজেদের অরক্ষিতও রাখতে হবে।
মাত্র ১৮ শতাংশ ইউক্রেনীয় মনে করেন যে চলতি বছর যুদ্ধ থামতে পারে। কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্যোশিওলজির প্রধান অ্যান্টন গ্রুশেতস্কি জানিয়েছেন এ তথ্য। ইউক্রেনীয়রা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
নতুন বাস্তবতায় ভিন্নভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউক্রেন। যেমন এর আগে দেশটির এক থিংকট্যাংক রাশিয়ার সরকারের নানাবিধ বিষয় নিয়ে গবেষণা করত, খুঁজে বের করার চেষ্টা করত যে কোথায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা গেলে তা কাজে দেবে। এখন ওই একই থিংকট্যাংক এ কাজ থেকে সরে এসেছে। তারা এখন রাশিয়ার কোন স্থানে ড্রোন হামলা চালালে তা ইউক্রেনের কাজে আসবে, সে বিষয়টি নির্ণয়ে ব্যস্ত। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার হামলার মুখে বেশ কয়েকবার পাল্টা জবাবও দিয়েছে ইউক্রেন। সূত্র: রয়টার্স