যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে শনিবার প্রায় ২,৬০০টি বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। এতে শত শত সহমিলিত সংগঠন অংশগ্রহণ করেছে।
নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ার, বোস্টন কমন, শিকাগোর গ্রান্ট পার্কসহ ছোট ছোট শহরও বিক্ষোভকারীদের সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। মানুষ “প্রতিবাদ করা patriotism-এর সর্বোচ্চ পরিচয়” ও “ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করো” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে ধারণ করে স্লোগান দিয়েছেন। অনেক স্থানে বিক্ষোভ যেন একধরনের উৎসবের রূপ নিয়েছে।
বিক্ষোভে বিশাল ব্যানারও দেখা গেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের “We The People” লেখা ছিল। দর্শকরা এতে স্বাক্ষরও করেছেন। পোর্টল্যান্ডের বিক্ষোভে inflatable পোষাক, বিশেষ করে ব্যাঙের পোষাকও নজর কেড়েছে।
এই বিক্ষোভ ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরার পরের তৃতীয় বৃহৎ জনসমাবেশ। সরকারি প্রোগ্রাম ও সেবা বন্ধ থাকা সময়েই এটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকরা সতর্ক করেছেন, প্রশাসনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার দিকে এগোচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো বাড়িতে ছিলেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের ‘রাজা’ বলা হচ্ছে, আমি রাজা নই।”
সিনেট নেতা চাক শুমার ও স্বাধীন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। আয়োজকরা বলছেন, “একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো দেশপ্রেমিক জনগণের ক্ষমতা।”
সংযুক্ত আরব আমেরিকান নাগরিক অধিকার সংস্থা (ACLU) Marshals হিসেবে সহায়তার জন্য লাখো মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে লন্ডন, ম্যাড্রিড ও বার্সেলোনাতেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডানা ফিশার আশা করছেন, শনিবারের বিক্ষোভ আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হতে পারে, যেখানে তিন মিলিয়নেরও বেশি মানুষ অংশ নেবে। সূত্র: আল জাজিরা
মেহেদী/