ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিদায়ের আগে আবেগঘন এক বন্ধনের গল্প বস্টনের মন জয় করেছে টার্টান আর্মি দ্রুততম গোলে এগিয়ে বিরতিতে মরক্কো সুইডিশ সমর্থকদের ‘ইয়েলো মার্চ’ রদ্রিকে নিয়ে সমালোচনা ‘অপমানজনক’ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে স্পেন ৭২ সেকেন্ডে গোল করে বিশ্বকাপে রেকর্ড মরক্কোর জয়ের খোঁজে নেদারল্যান্ডস ফুরফুরে মেজাজে ইংলিশরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পেল যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বিধিনিষেধ ফিফার কাছে অভিযোগ করবে ইরান ২-০ গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতেই আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে অভিষেক হবে স্প্যানিশ হার্নান্দেজের সিরিজ হারের পর বাংলাদেশ শিবিরে দুসংবাদ হোর্হে মেসির গুজব ছড়ানোয় বরখাস্ত তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বকাপে মরক্কোর নতুন বিস্ময় আয়ুব বুয়াদ্দি সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ার সাংবাদিক কারাগারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ব্রাজিল ম্যাচে থাকছে বিরল ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল লেখক শিবিরের ১৭তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার হিলি স্থবন্দরের পাইকারি বাজারে বেড়েছে চালের দাম অস্ট্রেলিয়ার গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাকে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র

সুদানে নিখোঁজ হাজারো মানুষ, প্রকাশিত হচ্ছে নতুন সব নৃশংসতার চিত্র

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৪৩ পিএম
আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৪৫ পিএম
সুদানে নিখোঁজ হাজারো মানুষ, প্রকাশিত হচ্ছে নতুন সব নৃশংসতার চিত্র
দারফুরের এল-ফাশের শহর থেকে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত সুদানি নাগরিকরা সুদানের তাওইলায় অস্থায়ী তাবুর আশপাশে জড়ো হয়েছেন। ছবিটি ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখের। সংগৃহীত

সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরে বিদ্রোহী আধা সামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) দখলদারত্বের পর ক্ষুধা ও নির্যাতনের শিকার সাধারণ মানুষ এখন একের পর এক ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ দিচ্ছেন। হাজারো মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।

উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের ছিল ওই অঞ্চলে সুদানি সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি। গত রবিবার টানা ১৮ মাসের অবরোধের পর এটি আরএসএফের দখলে যায়।

এর পর থেকেই জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গণহত্যা, ধর্ষণ ও অন্যান্য নৃশংসতার খবর ক্রমেই প্রকাশ পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: সুদানে গৃহযুদ্ধ কেন? মিসর-আরব আমিরাতের ভূমিকা কী

তাওইলা শহরে পালিয়ে আসা তরুণ সুদানি নাগরিক আলখেইর ইসমাইল জানান, রবিবার তিনি প্রায় ৩০০ জনের সঙ্গে এল-ফাশের থেকে পালানোর সময় আরএসএফ যোদ্ধারা তাদের আটকায়। তার সঙ্গে থাকা সবাইকে হত্যা করা হলেও তিনি বেঁচে যান, কারণ যোদ্ধাদের একজন তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী হিসেবে চিনতে পারেন।

 

নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে প্রমাণিত হয়েছে সুদানের আল-ফাশেরে গণহত্যা অব্যাহত

তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে পড়ত এক ছেলে। সে তাদের বলল, ‘ওকে মেরো না।’ এরপর আমার পাশে থাকা অন্য সবাইকে, আমার বন্ধুরাসহ, তারা হত্যা করে।”

তাওইলায় পৌঁছানো আরও কয়েকজন সুদানি বর্ণনা দিয়েছেন কীভাবে তাদের ভয় দেখানো ও মারধর করা হয়।

তাহানি হাসান বলেন, “হঠাৎ তিনজন যুবক সামনে আসে, তারা চিৎকার করে বলে ‘থামো, থামো’। তারা আরএসএফের পোশাক পরা ছিল। তারা আমাদের মারধর করে, কাপড় ছুড়ে ফেলে দেয়। এমনকি আমাকে, একজন নারীকে পর্যন্ত তল্লাশি করে—আমার ধারণা, আক্রমণকারীটি আমার মেয়ের চেয়েও ছোট ছিল।”

ফাতিমা আব্দুররহিম, যিনি নাতি-নাতনিদের সঙ্গে পালিয়ে এসেছেন, বলেন, “তারা ছেলেদের মারধর করেছে, আমাদের যা ছিল সব নিয়ে গেছে। কিছুই রাখেনি। পরে শুনেছি, আমাদের পরের দলে থাকা মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়েছে, তবে আমাদের মেয়েরা কোনোভাবে পালিয়ে এসেছে।”

অন্যদিকে রাওয়া আবদাল্লাহ, যিনি শহর থেকে পালিয়েছেন, জানান তার বাবা এখনও নিখোঁজ।

তিনি বলেন, “আমরা জানি না তিনি জীবিত না মৃত, আহত না কি অন্যদের সঙ্গে চলে গেছেন।”

গত বুধবার রাতে এক ভাষণে আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান ‘হেমেদতি’ দাগালো তার যোদ্ধাদের সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার নির্দেশ দেন এবং বলেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচার হবে। 

বৃহস্পতিবার আরএসএফ দাবি করে, তারা কিছু অপরাধী যোদ্ধাকে আটক করেছে। তবে জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার আরএসএফের প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আরএসএফের এক সিনিয়র কমান্ডার অবশ্য এসব ঘটনার বিবরণকে “মিডিয়ার অতিরঞ্জন” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, দাবি করেছেন সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্ররা নিজেদের পরাজয় ঢাকতেই এসব প্রচারণা চালাচ্ছে।

তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত দশ হাজারের বেশি মানুষ নিহত, প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত, এবং ক্ষুধা ও কলেরার মতো রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে — যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

খুন, অবরোধ, খুঁজে খুঁজে শিকার

গত রবিবার থেকে বুধবারের মধ্যে এল-ফাশের থেকে ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ পালিয়েছে, জানায় জাতিসংঘ। আগস্টের শেষ নাগাদ শহরটিতে এখনও প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল।

গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানায়, গত পাঁচ দিনে মাত্র ৫ হাজারের কিছু বেশি মানুষ তাওইলায় পৌঁছাতে পেরেছেন।

সংস্থার জরুরি বিভাগের প্রধান মিশেল অলিভিয়ার লাকারিতে বলেন, “রোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, যারা পালাতে পারেননি, তারা হয় নিহত, আটকানো, অথবা তাড়া খেয়ে বন্দি হয়েছেন।”

এমএসএফ আরও জানায়, ২৭ অক্টোবর তাওইলায় পৌঁছানো ৭০ জন শিশুর মধ্যে পাঁচ বছরের নিচের প্রত্যেকেই অপুষ্টিতে ভুগছে, এবং ৫৭ শতাংশ গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত।

বেঁচে যাওয়া অনেকেই জানান, আরএসএফ যোদ্ধারা মানুষকে লিঙ্গ, বয়স ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা করেছিল এবং অনেককে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য বন্দি করে রেখেছিল। মুক্তিপণের অঙ্ক ছিল ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি সুদানি পাউন্ড— যা ৮ হাজার থেকে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) জানায়, তাদের সুরক্ষিত সাক্ষাৎকারে একজন ২৪ বছর বয়সী পুরুষ বলেন, ২০০ জনের একটি দলের মধ্যে মাত্র চারজন মুক্তিপণ দিয়ে বাঁচতে পেরেছিল।

তিনি বলেন, “বাকি সবাইকে হত্যা করা হয়—শিশু, নারী, বৃদ্ধ—সবাইকে। প্রতিজনকে এক গুলিতে মারা হয়। এ দৃশ্য দেখার মতো নয়।”

একজন ২৬ বছর বয়সী নারী বলেন, তার স্বামী কেবল তাকে ও সন্তানদের জন্য মুক্তিপণ দিতে পেরেছিলেন, কিন্তু তার চোখের সামনেই স্বামীকে হত্যা করা হয়।

অন্যদিকে এক ১৯ বছর বয়সী তরুণী জানান, তাকে আরএসএফ যোদ্ধারা ধর্ষণ করেছে, তার কুমারীত্ব আছে কি না জিজ্ঞেস করার পর।

ইউএনএফপিএ নিশ্চিত করেছে, ২৯ অক্টোবর এল-ফাশের গাইনি হাসপাতালেই আরএসএফের হাতে অন্তত ৪৬০ জন নিহত হয়েছেন—যাদের মধ্যে রোগী, দর্শনার্থী, বাস্তুচ্যুত মানুষ ও স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন। প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

সুদানের বিভিন্ন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল। লাল অংশটি নিয়ন্ত্রণ করে সুদানের সেনাবাহিনী, হলুদ অংশটি নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্রোহী আরএসএফ, সবুজ অংশটি নিয়ন্ত্রণ করে অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী। ছবি: সংগৃহীত

কোর্দোফানে নতুন হত্যাযজ্ঞ

এদিকে পাশের রাজ্য উত্তর কোর্দোফানে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়েছে। জাতিসংঘ জানায়, আরএসএফের দখলের পর বারা এলাকা থেকে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ পালিয়েছে। রাজ্যের রাজধানী এল-ওবেইদ এখনও সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকায়, এটি পরবর্তী বড় যুদ্ধক্ষেত্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দ্যুজারিক বলেন, “বারা শহরে রেড ক্রিসেন্টের পাঁচজন স্বেচ্ছাসেবককে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া যৌন সহিংসতার ভয়াবহ প্রতিবেদনও পাওয়া যাচ্ছে।”

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের মুখপাত্র মোহাম্মদ এলশেইখ বলেন, “বারা থেকে পালানো মানুষদের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তারা দিনের তীব্র গরম ও রাতের প্রচণ্ড ঠান্ডায় মরুভূমির দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছে, যেখানে রাস্তা অত্যন্ত অনিরাপদ।”

এর আগে জুলাই মাসে আরএসএফ যোদ্ধারা উত্তর কোর্দোফানের বেশ কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে প্রায় ৩০০ জনকে হত্যা করে, যাদের মধ্যে শিশু ও গর্ভবতী নারীও ছিলেন।

জাতিসংঘ বলছে, সুদানে চলমান সংঘাত এখন এক ভয়ঙ্কর মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে নিহত, বাস্তুচ্যুত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা। সূত্র: আল জাজিরা

মাহফুজ/

 

ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরাইল। দুই পক্ষের মধ্যকার এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

 শুক্রবার (১৯ জুন) মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতভর লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এ হামলার জেরে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা বাতিল করা হয়েছে।

সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

একই সময়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে লেবানন কর্তৃপক্ষ এটিকে চলমান সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এদিকে লেবাননের পরিস্থিতির কারণে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকটি আপাতত স্থগিত হলেও আলোচনার প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

এসএন/

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টে উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

শুক্রবার (১৯ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।  এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন শামা ওবায়েদ।

প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের সহায়তায় চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানান।

দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই সমস্যার একমাত্র টেকসই সমাধান।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।

এসএন/

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার জানায় যে, তাদের বাহিনী গত রাতে দক্ষিণ লেবানন জুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ ওই এলাকায় তীব্র লড়াইয়ের কথা জানিয়েছে, যা মূলত ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হওয়া নতুন চুক্তিটিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

লেবাননে এই চলমান লড়াই নতুন স্বাক্ষরিত চুক্তিটিকে ভেস্তে দিতে পারে। কারণ এই চুক্তিতে লেবাননসহ "সব ফ্রন্টে" সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে ইসরায়েল ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করছে। একই সঙ্গে চুক্তিতে লেবাননের "আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব" নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

চলতি বছরের শেষের দিকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননেই অবস্থান করবে।

ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার তার সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেন, যেখানে আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার যাওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউস এর পেছনে লজিস্টিক বা অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার সমস্যার কথা উল্লেখ করলেও, এই ঘোষণাটি মূলত আল-মায়াদিন (হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক মিত্র একটি প্যান-আরব স্যাটেলাইট চ্যানেল)-এর একটি রিপোর্টের পর আসে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে ইরান সুইজারল্যান্ডে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠাতে বিলম্ব করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে প্যালেস অব ভার্সাই-এ নৈশভোজের সময় ইরানের সঙ্গে এই প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভ্যান্স ইসরায়েলকে একটি স্পষ্ট ও কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন যে, ট্রাম্পই হচ্ছেন ‘এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি সহানুভূতিশীল।’ সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড
ছবি: রয়টার্স

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক মাউন্টেন রিসোর্টে শুক্রবার (১৯জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যে আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা আর হচ্ছে না। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র গত রাতে জানান যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করার পূর্বপরিকল্পিত সফর থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। মূলত এর পরপরই সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে। যুদ্ধ বন্ধে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি–পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড সফর করার কথা থাকলেও তা স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

শুক্রবার (১৯জুন) এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে একটি পূর্বপরিকল্পিত সফর পিছিয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর, ইরানের সাথে একটি নতুন দফা আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

এর আগে, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখেও ভ্যান্স এই চুক্তির পক্ষে যুক্তি দেখান। একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ৬০ দিনের আলোচনার সময়কাল শুরু হয়েছে।