ইকুয়েডরের দক্ষিণাঞ্চলের এক কারাগারে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংদের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষে অন্তত ৩১ জন বন্দি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধে। স্থানীয় সময় গত রবিবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দেশটির অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী জন রেইমবার্গ সোমবার রেডিও সেন্ট্রো ইকুয়েডরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, প্রথম হামলাটি ঘটে ভোরে যখন ‘সাও-বক্স’ নামে এক ভিন্নমতাবলম্বী গ্যাং মূল গোষ্ঠী ‘লোস লোবোস’-এর সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায়। দক্ষিণাঞ্চলীয় মাচালা ডিটেনশন সেন্টারে ওই সংঘর্ষে অন্তত ৪ জন বন্দি নিহত হন এবং প্রায় ৩৬ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যেতে গিয়ে দুইজন কর্মকর্তা সামান্য আহত হন।
রেইমবার্গ জানান, একই দিন দুপুরের পর ‘লোস লোবোস’ প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় ‘সাও-বক্স’-এর সদস্যদের ওপর। তারা একই কারাগারের কয়েকটি সেলে প্রতিপক্ষের ২৭ সদস্যকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
মন্ত্রী বলেন, “প্রতিশোধ হিসেবে লোবোস গোষ্ঠী প্রতিপক্ষকে শ্বাসরোধে হত্যা করে, যাতে তাদের দেহে দৃশ্যমান সহিংসতার চিহ্ন না থাকে।”
কারা কর্তৃপক্ষ বিকেল ৬টার দিকে নিয়মিত তল্লাশির সময় এসব মরদেহ উদ্ধার করে।
দেশটির কারা প্রশাসন সংস্থা এসএনএআই (SNAI) এক বিবৃতিতে জানায়, “বন্দিরা নিজেদের মধ্যে শ্বাসরোধ ঘটায়, যার ফলে তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়।” তবে “শ্বাসরোধ” বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে বা তারা ফাঁসিতে ঝুলেছিল কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
সিএনএনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে এসএনএআই জানায়, “কর্তৃপক্ষ ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে, তথ্য যাচাই করছে এবং জরুরি সহায়তা দিচ্ছে।”
মন্ত্রী রেইমবার্গ জানান, দুই গোষ্ঠীর সদস্যরা একসময় একই সংগঠনের অংশ ছিল। পরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ‘সাও-বক্স’ আলাদা হয়ে যায়, তবে এখনও তাদের একই সেলে রাখা হয়েছিল কেন, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
কারা প্রশাসন জানায়, রবিবারের প্রথম সংঘর্ষটি শুরু হয় বন্দিদের নতুন উচ্চ-নিরাপত্তা কারাগারে স্থানান্তরের সময়। রেইমবার্গের মতে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিরা এই স্থানান্তর ঠেকাতে অরাজকতা সৃষ্টি করছে।
মাচালার এই ঘটনা ইকুয়েডরের কারাগারগুলোতে চলমান সহিংসতার সর্বশেষ উদাহরণ।
এর আগে, গত সেপ্টেম্বর মাসে উপকূলীয় শহর এসমেরালদাসের এক কারাগারে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়। তিন দিন আগে একই মাচালায় আরও ১৪ বন্দি নিহত হয়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ইকুয়েডরের কারাগারগুলোতে সহিংসতায় ৫০০-র বেশি বন্দি প্রাণ হারিয়েছে।
দেশজুড়ে সহিংসতা দমনে সরকার ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে “অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের” অবস্থা ঘোষণা করে এবং সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করে। তবু কারাগারগুলোতে রক্তপাত থামছে না।
উল্লেখ্য, ‘লোস লোবোস’ ইকুয়েডরের দুটি বড় অপরাধী সংগঠনের একটি, যাকে যুক্তরাষ্ট্র গত সেপ্টেম্বরে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার ঘোষণা দেয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র ইকুয়েডরের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদন পায় বলে জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সূত্র: সিএনএন
মাহফুজ/