ভারতের নয়াদিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ মামলায় তদন্তে নতুন উঠে এল নতুন বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, এই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল বিস্ফোরণের আগে ডাঃ উমর মহম্মদের সঙ্গে লালকেল্লা এলাকাটি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে আক্রমণের আগে পর্যবেক্ষণ করে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আগামী বছরের ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে আরও বড় হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। লালকেল্লা এলাকা সেই প্রস্তুতিরই অংশ ছিল। আর এ জন্যই অন্যতম অভিযুক্ত ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল বিস্ফোরণের আগেই ডাঃ উমর মহম্মদের সঙ্গে লালকেল্লা এলাকায় রেকি (আক্রমণের আগে লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ করা) করেতে গিয়েছিলেন।
সূত্রের খবর, মুজাম্মিলের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে জেরা করা হয়। তদন্তে মুজাম্মিল স্বীকার করেছেন যে, শুধু প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়, দীপাবলির সময়ও কোনও ভিড়ভাট্টা এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনাও ছিল তাদের। যদিও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
গ্রেপ্তার হওয়া ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল এবং অভিযুক্ত উমর মহম্মদ দু’জনেই ফারিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী ছিলেন। সোমবার সন্ধেয় দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে যে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, সেই গাড়িতেই উমর ছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
তদন্তে আরও প্রকাশ পেয়েছে, এই বিস্ফোরণ যারা ঘটিয়েছে তারা 'হোয়াইট কলার টেরর ইকোসিস্টেম' নামের এক সংগঠিত জঙ্গি নেটওয়ার্কের সদস্য। সবাই উচ্চশিক্ষিত এবং অধিকাংশই চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান - এই গোষ্ঠী এনক্রিপটেড যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করত মতাদর্শ প্রচার, তহবিল স্থানান্তর এবং লজিস্টিক সমন্বয়ের জন্য। পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগাযোগের মাধ্যমেই অর্থ সংগ্রহ করা হত, যা সামাজিক বা মানবিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে বলে দেখানো হত।
লালকেল্লা বিস্ফোরণ নিয়ে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এটিও পরিকল্পনামাফিক হামলা ছিল না। গাড়িতে থাকা সন্দেহভাজন আতঙ্কে ভুল করে বিস্ফোরক সক্রিয় করে ফেলেছিল। আসলে এই ঘটনার কয়ের ঘণ্টা আগেই ফরিদাবাদে ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক রাসায়নিক উদ্ধার এবং সারাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান হচ্ছিল। এই কারণেই সন্দেহভাজনরা লুকিয়ে পড়ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, স্থান পরিবর্তন বা বিস্ফোরক সরানোর সময়ই গাড়ির ভিতরে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে গেছে।
হামলার ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ক্রাইম স্পতে কোনও গর্ত বা ধাতব টুকরো ছড়িয়ে ছিল না, যা সাধারণত শক্তিশালী বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এছাড়া, বিস্ফোরিত হওয়া হুন্ডাই আই-২০ গাড়িতে তিনজন যাত্রী ছিলেন। তারা ছাড়াও আহতদের শরীরে কোনও ছিদ্র বা গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা এই ধরনের বিস্ফোরণে অস্বাভাবিক। সব মিলিয়ে এসব তথ্য থেকেই তদন্তকারীরা বলছেন, এটি দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ হতে পারে, ইচ্ছাকৃত বা আত্মঘাতী হামলা নয়।
সুলতানা দিনা/