যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষই যৌন নিপীড়ক জেফ্রি এপস্টিনের মামলার নথি প্রকাশের পক্ষে ভোট দিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে ৪২৭–১ ভোটে বিলটি পাস হয়। অন্যদিকে সিনেটে কোনো আনুষ্ঠানিক ভোট ছাড়াই সবার সম্মতিতে বিলটি দ্রুত গৃহীত হয়।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এপস্টিনের নথি প্রকাশে সায় দেয় কংগ্রেসের দুই কক্ষ।
কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অবস্থান পাল্টে কংগ্রেসকে এ নথি প্রকাশে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিবিসির খবর বলছে, সমর্থকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে তার এই সিদ্ধান্ত আসে। এর ঠিক আগেই ট্রাম্পকে ঘিরে এপস্টিন ইস্যু নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল। সম্প্রতি কিছু নথি প্রকাশ করেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেখা যায়, সেগুলোর বেশ কয়েক জায়গায় ট্রাম্পের নাম রয়েছে।
বিলটি সিনেটে উঠতে কয়েক দিন লাগবে বলে ধারণা করা হলেও প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল সমর্থনে পাস হওয়ার পর প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগোয়। সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি উপস্থাপন করেন। সেখানে কেউ আপত্তি না করায় কোনো বিতর্ক বা সংশোধনী ছাড়াই বিলটি গৃহীত হয়। এখন বিলটি প্রেসিডেন্টের ডেস্কে যাবে এবং তিনি আইনে স্বাক্ষর করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিবিসির খবর বলছে, নথি প্রকাশে কংগ্রেসের ভোট জরুরি ছিল না। ট্রাম্প চাইলে নিজেই বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিতে পারতেন।
আইনটি পাস হলে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে ৩০ দিনের মধ্যে এপস্টিন ও তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের ব্যাপারে সব গোপনীয় নথি, যোগাযোগ, তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিতে হবে।
ওই নথিগুলোর মধ্যে বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ, ফ্লাইট লগ ও এপস্টিনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যও রয়েছে। তবে কোনো তথ্য প্রকাশ পেলে যদি চলমান তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা কোনো ভুক্তভোগীর পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়, তা হলে বন্ডি চাইলে সেসব তথ্য গোপন রাখতে পারবেন। সে বিষয়টিরও উল্লেখ রয়েছে বিলে। সূত্র: বিবিসি