যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, এক্সক্যালিবার প্রজেক্টাইল (কামান বা হাউইজারে গোলা) এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির সম্ভাব্য একটি চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯২.৮ মিলিয়ন ডলার।
গতকাল বুধবার প্রকাশিত দুইটি পৃথক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি জানায়, তারা কংগ্রেসকে প্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন পাঠিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে এবং ওয়াশিংটন-দিল্লি কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও মজবুত করবে।
প্যাকেজে কী থাকছে
প্রথম প্যাকেজের মূল্য ৪৫.৭ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রয়েছে জ্যাভেলিন FGM-148 ক্ষেপণাস্ত্র (ফ্লাই-টু-বাই মডেল), ২৫টি জ্যাভেলিন লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিট (LwCLU) অথবা ব্লক-১ কমান্ড লঞ্চ ইউনিট।
এ ছাড়া আরও থাকবে ট্রেনিং সিমুলেশন সরঞ্জাম, ব্যাটারি কুল্যান্ট ইউনিট, ইন্টারঅ্যাকটিভ টেকনিক্যাল ম্যানুয়াল, অপারেটর ম্যানুয়াল, লাইফসাইকেল সাপোর্ট, নিরাপত্তা পরিদর্শন ব্যবস্থা, খুচরা যন্ত্রাংশ, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, টেকনিক্যাল সহায়তা, সরঞ্জাম মেরামত, টুলকিট, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক সহায়তা।
দ্বিতীয় প্যাকেজের মূল্য ৪৭.১ মিলিয়ন ডলার। এতে রয়েছে সর্বোচ্চ ২১৬টি M982A1 এক্সক্যালিবার ট্যাকটিক্যাল প্রজেক্টাইল। সঙ্গে আরও যুক্ত হবে অ্যানসিলারি আইটেম, পোর্টেবল ইলেকট্রনিক ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, প্রাইমার, প্রপেল্যান্ট চার্জ, টেকনিক্যাল ডেটা, মেরামত-ফেরত সেবা এবং সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক সহায়তা। ভারত তাদের ইতোমধ্যেই কেনা M777 হাউইজারে এক্সক্যালিবার শেল ব্যবহার করতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি জানায়, এই বিক্রি ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে এবং দেশটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া এতে ভারতের স্বদেশ রক্ষায় সক্ষমতা বাড়বে এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ ক্ষমতাও উন্নত হবে।
সংস্থা আরও জানায়, এই অস্ত্র বিক্রি দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে ভারতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি এর মতে, এই বিক্রি অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তন করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এ কারণে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
জ্যাভেলিন ও M982A1 এক্সক্যালিবার প্রজেক্টাইলের বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতা
জ্যাভেলিন FGM-148 হলো বিশ্বব্যাপী বহুল ব্যবহৃত ‘ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট’ অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র, যা ইনফ্রারেড গাইডেন্স ব্যবস্থায় লক্ষ্য শনাক্ত করে নিজে নিজে আঘাত হানতে পারে। এটি টপ-অ্যাটাক মোডে সাঁজোয়া যান ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর এবং যুদ্ধক্ষেত্রে উচ্চ সাফল্যের হার রয়েছে। বহনযোগ্য হওয়ায় স্থলযুদ্ধে দ্রুত মোতায়েন করা যায়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে
অন্যদিকে, M982A1 এক্সক্যালিবার হলো জিপিএস গাইডেড অত্যন্ত নিখুঁত আর্টিলারি প্রজেক্টাইল, যার মারাত্মকতা ও লক্ষ্যভেদ নির্ভুলতা প্রমাণিত। এটি ৪০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে মাত্র কয়েক মিটারের বিচ্যুতি নিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম। উভয় অস্ত্রই আধুনিক যুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আঘাত, কম সহায়ক ক্ষতি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করে। সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স
মাহফুজ/