পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) মালিক ইলন মাস্কের কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। ইমরানের কারাবাস ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে সরাসরি ইলন মাস্কের কাছে কিছু অভিযোগ করেছেন জেমিমা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত সেই খোলা চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, ইমরান খানের গ্রেপ্তার, কারাবন্দি জীবন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা তুলে ধরার কারণে তার পোস্টগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করে দেওয়া হচ্ছে।
জেমিমা গোল্ডস্মিথ চিঠিতে উল্লেখ করেন, ২০২২ সালে ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর টানা প্রায় ২২ মাস ধরে ইমরান খান কার্যত একঘরে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তার দাবি, এটি কোনও সাধারণ কারাবাস নয়, বরং একজন রাজনৈতিক বন্দিকে ‘নৃশংস নিঃসঙ্গ কারাবাসে’ আটকে রাখার শামিল। এই দীর্ঘ সময়ে তাদের দুই ছেলে বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। এমনকি মাসের পর মাস ফোনে কথা বলা কিংবা চিঠি পাঠানোর অনুমতিও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জেমিমা আরও লিখেন, পাকিস্তানের টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো থেকে ইমরান খানের নাম কার্যত মুছে ফেলা হয়েছে। তাকর মতে, দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় একমাত্র স্বাধীন মঞ্চ হিসেবে এক্স-ই ছিল সত্য বলার জায়গা। কিন্তু এখন সেই প্ল্যাটফর্মেও তার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।
এক্সে করা দীর্ঘ এই পোস্টে জেমিমা জানান, প্ল্যাটফর্মটির নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল গ্রোক (Grok) তার অ্যাকাউন্টের অ্যানালিটিক্স বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে—ইমরান খানের জেল পরিস্থিতি, একাকী বন্দিত্ব কিংবা সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয় নিয়ে পোস্ট করলেই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সেগুলোর পৌঁছনো সীমিত করে দেওয়া হচ্ছে।
এরপর ইলন মাস্ককে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, মুক্ত বাকস্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি থাকলেও যদি কথা বলার পর কেউ তা শুনতেই না পায়, তবে সেই স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়ে।
জেমিমার দাবি অনুযায়ী, তার প্রায় ৩৫ লাখ ফলোয়ার থাকা সত্ত্বেও ২০২৫ সালে এক্সে তার পোস্টের রিচ ভয়াবহভাবে কমে গেছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত প্রতি মাসে তার পোস্টে গড়ে ৪০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ইমপ্রেশন হতো। কিন্তু পুরো ২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত মোট ইমপ্রেশন নেমে এসেছে মাত্র ২ কোটি ৮৬ লক্ষে, যা প্রায় ৯৭ শতাংশ পতনের সমান।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানে এক্সের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার দিন তার একটি পোস্ট চার মিলিয়নেরও বেশি ইমপ্রেশন পায়। এতে প্রমাণ হয় যে তার অনুসারীরা এখনও সক্রিয় রয়েছেন। তবে ওই দিনের পর থেকেই হঠাৎ করে তার পোস্টের পৌঁছনো প্রায় শূন্যে নেমে আসে।
জেমিমার দাবি, গ্রোকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—এই চাপ মূলত পাকিস্তানি প্রশাসনের দিক থেকেই আসছে, যারা ইমরান খানের ঘনিষ্ঠদের অনলাইন কার্যকলাপকে কড়া নজরদারিতে রেখেছে।
এদিকে, এই অভিযোগ সামনে আসার পর জেমিমার পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগান। তিনি বলেন, ইমরান খানের পক্ষে কথা বলার প্রচেষ্টাকে স্পষ্টভাবেই দমন করা হচ্ছে। মরগানের মতে, ইমরান খানের সঙ্গে যা ঘটছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং পাকিস্তান সরকারের উচিত তার মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ক্ষমতা হারানোর পর একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০২৩ সালের অগস্ট থেকে কারাবন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
সুলতানা দিনা/