যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের ফুয়ের্তা তিউনা সামরিক ঘাঁটিতে সামরিক হমলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে পুরো বিশ্ব তোলপাড়। এ দুই পক্ষের একটি সংঘাত আসন্ন এ পুর্বানুমান থাকলেও ঠিক কবে বা কীভাবে হচ্ছে সেটি কারো জানার কথা নয়।
কিন্তু এই খবরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পাঁচ ঘণ্টারও আগেই একটি ক্রিপ্টো-ভিত্তিক জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটের মাদুরোর গ্রেপ্তারের পক্ষে চার লক্ষাধিক ডলারের বাজি ধরে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন একজন রহস্যময় জুয়াড়ি। এই বাজিতে তিনি তার বিনিয়োগের উপর ১২ গুণ বেশি রিটার্ন পেয়েছেন! আর এই রহস্যময় বাজি ঘিরেই এখন দানা বাঁধছে বিতর্ক।
প্রশ্ন উঠছে, তবে কি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের অতি গোপনীয় খবর আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল? আর সেই গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই কি কেউ পকেটে ভরল কয়েক কোটি টাকা?
ক্রিপ্টোচালিত প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম ‘পলি মার্কেট’-এ মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতি নিয়ে বাজি চলছিল। তথ্য বলছে, ২ জানুয়ারি বিকেল পর্যন্ত মাদুরোর জানুয়ারি মাসের মধ্যে ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু মধ্যরাত পেরোতেই সেই সমীকরণ নাটকীয়ভাবে বদলাতে থাকে। ৩ জানুয়ারি ভোরের দিকে মাদুরোর পতনের পক্ষে বাজির হার হু হু করে বাড়তে শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা দেন, মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক রয়েছেন।
পলিমার্কেটের তথ্য অনুসারে,, একটি বেনামি অ্যাকাউন্ট (যাতে কেবল কিছু সংখ্যা ও অক্ষর রয়েছে) মাত্র গত মাসে প্ল্যাটফর্মটিতে যোগ দেয়। অজ্ঞাতনামা এই ব্যবহারকারী এই অ্যাকাউন্ট থেকে ২৭ ডিসেম্বর একটি প্রাথমিক বাজি ধরেছিলেন, যেখানে তিনি ৯৬ ডলার মূল্যের চুক্তি কিনেছিলেন যা ৩১ জানুয়ারির মধ্যেযুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা আক্রমণ করলে লাভজনক হবে বলা হয়।
পরে ওয়াশিংটন এবং কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যক্তি পরের সপ্তাহে বাজির অর্থ বাড়িয়ে নেন এবং একই রকম কয়েকটি চুক্তিতে যুক্ত হন।
তারা মাত্র ৩২ হাজার ৫৩৭ ডলার বাজি ধরে অবিশ্বাস্যভাবে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি টাকা) জিতে নিয়েছে।
ওই অ্যাকাউন্টটি থেকে কেবল ভেনেজুয়েলা সম্পর্কিত চারটি পজিশন নেওয়া হয়েছিল, এটি স্পষ্ট নির্দেশ করে যে যিনি বাজি ধরেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত ছিলেন।
আর্থিক সংস্কার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘বেটার মার্কেটস’-এর সিইও ডেনিস কেলহের সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই বিশেষ বাজিটির ধরন দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে এটি কোনো অভ্যন্তরীণ বা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের এমন কেউ বা এমন কোনো সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এই তথ্য ফাঁস করেছেন, যারা অভিযানের খুঁটিনাটি জানতেন।
এদিকে, এই খবর সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইদানীং স্পোর্টস বা রাজনীতির ফলাফল নিয়ে বাজির বাজার বা প্রেডিকশন মার্কেট দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে। মজার বিষয় হলো, খোদ প্রেসিডেন্টের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এই ধরনের কিছু প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা পদে রয়েছেন।
সুলতানা দিনা/