ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁট: মানবিক সংকটে রোহিঙ্গারা রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্কটল্যান্ড কোচ ক্লার্ক শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট-শপিংমল বন্ধ জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানো অন্যতম চ্যালেঞ্জ প্যারাগুয়ে বনাম তুরস্ক ম্যাচে যে কারনে মিগুয়েল আলমিরনকে লাল কার্ড দেখানো হলো অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা জিতলেই নকআউটে জার্মানি গতির রাজা জর্ডান মরোক্কোর রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম গোল প্যারাগুয়ের ব্রাজিল ম্যাচের চেয়েও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো খেলেছে মরক্কো: ওয়াহবি হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন ব্রাজিলের রাফিনহা ৯ বছরেও খোলেনি রোহিঙ্গাদের ফেরার পথ বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলে সাগরিকায় ক্রিকেটের উন্মাদনা শ্রীমঙ্গলে হারমোনি ফেস্টিভ্যালের বর্ণিল উদ্বোধন ইসমাইল সাইবারিকে ছাড়িয়ে এবার ৬৪ সেকেন্ডে দ্রুততম গোল গ্যালারজারের দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত? ব্রেকে হাওয়া না থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর পাড়ে ঝুলে পড়ল যাত্রীবাহী বাস আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ফিফায় আলজেরিয়ার অভিযোগ সিরিজ বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া জয়ী ৭ রানে নাটোরে ওড়না পেঁচিয়ে যুগলের আত্মহত্যা প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল ঈশ্বরদীতে রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর

ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থ জমা হবে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থ জমা হবে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, তারা ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রয় ব্যবস্থা ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং এই বিক্রয়লব্ধ অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হবে তাও তারাই ঠিক করবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করার পর দেশটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

গতকাল বুধবার মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানায়, তারা বিশ্ববাজারে ভেনেজুয়েলার তেল ‘বিপণন শুরু করেছে’। এই বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ প্রাথমিকভাবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ব্যাংকগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে জমা হবে। 

বিভাগটি আরও জানায়, এই তহবিলগুলো মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমেরিকান এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। প্রাথমিকভাবে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা অনির্দিষ্টকাল চলবে।

এই ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানান যে, ভেনেজুয়েলা তাদের তেলের টাকা দিয়ে শুধুমাত্র আমেরিকার তৈরি পণ্য কিনতে রাজি হয়েছে। এর মধ্যে থাকবে কৃষি পণ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ভেনেজুয়েলার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি।

আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও সমালোচনা

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গত শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন করেছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা তিনি অস্বীকার করে আসছেন। এই উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার মার্কিন বিশেষ বাহিনী উত্তর আটলান্টিকে একটি রুশ জাহাজসহ ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজ জব্দ করেছে।

রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও ডেমোক্র্যাটরা অনেক প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে এই অভিযান কতদিন চলবে, এতে কত খরচ হবে এবং ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সৈন্য মোতায়েন করা হবে কি না—তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ট্রাম্পের এই গোপন পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে সিনেট শুনানির দাবি তুলেছেন।

 তিন ধাপের পরিকল্পনা

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তারা একটি তিন ধাপের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন:

১. ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ নিয়ন্ত্রণ করা।

২. ভেনেজুয়েলার বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং বিরোধী রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিয়ে জাতীয় পুনর্মিলন শুরু করা।

৩. সবশেষে একটি রাজনৈতিক উত্তরণ বা ট্রানজিশন ঘটানো।

ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রিউ মনে করেন, এই ব্যবস্থা অনেকটা ১৯৭০-এর দশকের আগের সেই পুরনো ব্যবস্থার মতো, যেখানে তেলের মালিক রাষ্ট্র হলেও উৎপাদন, বিপণন এবং মুনাফার সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করত পশ্চিমা কোম্পানিগুলো।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ দখল করার এই চেষ্টা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী। কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের অধিকারকে অগ্রাহ্য করে সামরিক আগ্রাসন বা শাসন পরিবর্তনের কৌশল চালানো উচিত নয়।

অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি

ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর অনুপস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘‘কোনো বিদেশি শক্তি ভেনেজুয়েলা শাসন করছে না।’’ 

তবে বিশ্লেষক রেনাটা সেগুরা মনে করেন, দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও চরম অস্থিতিশীল। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী, যাদের হাতে বিশাল অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়েছে, তারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই শর্তগুলো মেনে নেবে কি না—তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

মাহফুজ/

 

আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁট: মানবিক সংকটে রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁট: মানবিক সংকটে রোহিঙ্গারা
ছবি: সংগৃহীত

জীবন বাঁচাতে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা নতুন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিবন্ধন না হওয়ায় নতুনরা প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য পাচ্ছেন না। ফলে তারা ক্যাম্পে থাকা স্বজনদের ওপর নির্ভর করছেন। তবে আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁটের কারণে সামগ্রিক ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী কমে যাওয়ায় ১০ লাখের বেশি মানুষের এই মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাটি এখন ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত একটি রোহিঙ্গা যুব সংগঠন। এই সংস্থাটি মূলত শরণার্থী ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গা তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে। 

গত বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে ‘ফ্রম অ্যারাইভাল টু সারভাইভাল: কন্ডিশনস অব নিউলি অ্যারাইভাল রোহিঙ্গা রিফিউজিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’ এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ফরটিফাই রাইটস’-এর সহায়তায় তারা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। সেমিনারে আঞ্চলিক গবেষক, মানবাধিকার কর্মী ও ‘ফর্টিফাই রাইটস’-এর আইনি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে ফর্টিফাই রাইটসের পরিচালক পুত্তানি কাংকুন প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

বিদেশি সংস্থাগুলোর তৈরি করা গতানুগতিক প্রতিবেদনের বাইরে গিয়ে এই প্রতিবেদনে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোর বাস্তব চিত্র এবং সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে বেশি প্রধান্য দেওয়া হয়েছে।

‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’র স্বেচ্ছাসেবী গবেষণা উপদেষ্টা হ্যালি রিটসেমা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সব সময় অন্যরা রোহিঙ্গাদের পক্ষে এবং রোহিঙ্গাদের নিয়ে কথা বলে। কিন্তু প্রায়ই এই আলোচনাগুলো থেকে রোহিঙ্গাদেরই বাদ দেওয়া হয়।’

তিনি জানান, সম্প্রতি আসা নতুন শরণার্থীরা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তারা জীবনধারণের জন্য পুরোপুরি ক্যাম্পে আগে থেকে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের ব্যক্তিগত সহায়তার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁটের কারণে ক্যাম্পে আগে থেকে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজেদেরই রেশন ও চিকিৎসাসামগ্রী কমে গেছে। ফলে নতুনদের সাহায্য করার এই অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি এখন ভেঙে পড়ার মুখে পড়েছে।

সেমিনারে আলোচকরা সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নতুন শরণার্থীদের নিবন্ধনের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা না থাকায় এই সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে নীতিগত পরিবর্তন না আনলে নতুন আসা এই বিশাল জনগোষ্ঠী চরম দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে। 

ফর্টিফাই রাইটসের অপর পরিচালক জন কুইনলি বলেন, ‘বাংলাদেশে যে নতুন শরণার্থীরা আসছেন, তাদের সহজে নিবন্ধন করার এবং সেবা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।’ বিশ্বজুড়ে দাতাদের আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ১০ লাখের বেশি মানুষকে টিকিয়ে রাখা মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাটি এখন ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘মানবিক সহায়তা ছাড়া শরণার্থীরা ক্যাম্পে বেঁচে থাকতে পারবে না।’ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী উভয় পক্ষকেই জরুরি ভিত্তিতে তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানান।

গবেষকদের মতে, এই সংকটকে কেবল সীমান্ত সুরক্ষার একটি সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখলে ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটবে। ‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো নতুন আসা পরিবারগুলোর জন্য আইনি সুরক্ষা ও জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সরকার ও আন্তর্জাতিক দাতাদের দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

তারা জোর দিয়ে বলেন, মায়ানমারের ভেতরে রোহিঙ্গাদের ওপর চলা সামরিক সহিংসতা, নাগরিকত্বের অভাব এবং বাস্তুচ্যুতির মতো মূল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান না করা পর্যন্ত এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।

সূত্র: ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ/ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইসলামাবাদ স্মারককে একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে এ সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান।

জাতীয় পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘অনেক দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী এমন সম্মান অর্জনের চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। আজ বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানের নাম সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে।’

তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের প্রশংসা করেন।

শেহবাজ বলেন, ‘তিনি দিন-রাত শান্তির জন্য কাজ করেছেন। এমন মুহূর্তও এসেছিল, যখন যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া ভেঙে পড়তে পারে বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান সমাধানের পথ খুঁজতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।’ এ সময় উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির ভূমিকাও তিনি প্রশংসা করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, গত বৃহস্পতিবার তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সেই আলোচনা ছিল আন্তরিক ও ইতিবাচক।

শেহবাজ বলেন, পেজেশকিয়ান কঠিন সময়ে ইরানের পাশে থাকার জন্য পাকিস্তান ও দেশটির জনগণকে ধন্যবাদ জানান এবং শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ইসলামাবাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্টকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। পেজেশকিয়ান পাকিস্তানকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

শেহবাজ শরিফ বলেন, এই চুক্তি পুরো অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে এবং জ্বালানির দাম কমাতে সহায়ক হবে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে এবং পাকিস্তানের জনগণ এর সুফল পাবে। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, শুক্রবারের মধ্যেই দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হবে।

শেহবাজ শরিফ কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, চীন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যিনি এই সমঝোতায় সহায়তা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। পরে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা ঘোষণা দেন যে, চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

এই স্মারক অনুযায়ী ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন পাল্টা প্রকল্প ভারতের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন পাল্টা প্রকল্প ভারতের
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস জলবিদ্যুৎ প্রকল্প/ ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের ইয়ারলুং স্যাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে চীন। জবাবে ভারতও অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিল্লি জানায়, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়ারলুং স্যাংপো নদীর নিম্নাংশে ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মেডোগ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করেছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকল্পটি অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বেইজিংয়ের এই উদ্যোগের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দিল্লি অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্প (সাম্প) এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এনএইচপিসি পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র। বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি।

দুই প্রকল্পের অগ্রগতির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। চীনের ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার মেডোগ প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বিপরীতে ভারতের সাম্প প্রকল্প এখনো প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি নির্মাণ-পূর্ব সমীক্ষার কাজও শুরু হয়নি।

ভারত এখন কৌশলগত প্রতিক্রিয়া জোরদার করার পাশাপাশি বিতর্কিত নদীটিতে বেইজিংয়ের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।তিব্বতের ইয়ারলুং স্যাংপো নদী ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের পর সিয়াং নামে পরিচিত হয়। পরে ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়ে অরুণাচল ও আসাম প্রদেশে প্রবেশ করে এবং লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে। এতে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিব্যবস্থা বিপর্যস্ত এবং নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে।

লোকসভায় দেওয়া লিখিত জবাবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সব ধরনের কর্মকাণ্ড সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দিল্লি বরাবরই সীমান্তবর্তী নদীসংক্রান্ত সব প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য বিনিময় এবং আগাম পরামর্শের জন্য বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সাম্প প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানে পানিপ্রবাহ পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডকে সুরক্ষা দেওয়া। এ কারণে প্রকল্পটির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বও অর্থনৈতিক গুরুত্বের সমান বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সময়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা জোরদার করার কাজও এগিয়ে নিচ্ছে দিল্লি। সূত্র: এনডিটিভি

ব্রিটেনে উপনির্বাচনে বার্নহামের জয়, চ্যালেঞ্জের মুখে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
ব্রিটেনে উপনির্বাচনে বার্নহামের জয়, চ্যালেঞ্জের মুখে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব
অ্যান্ডি বার্নহাম এবং কিয়ার ষ্টারমার

যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে বড় জয় পেয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। এই জয়ের ফলে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীর পদে কিয়ার স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ আরও প্রশস্ত হলো তার জন্য। আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে প্রকাশিত ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, মেকারফিল্ড আসনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, অভিবাসনবিরোধী দল ‘রিফর্ম ইউকে’র প্রার্থী রবার্ট কেনিয়নকে ৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। বার্নহ্যাম পেয়েছেন ২৪ হাজার ৯২৭ ভোট। এর মাধ্যমে তিনি হাউস অব কমন্সের সেই আসনটি নিশ্চিত করেছেন, যা প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তার প্রয়োজন। রিস্টোর ব্রিটেনের রেবেকা শেফার্ড তৃতীয় হন।

বিজয়ী ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, ‘সবাই জানে, রাজনীতি ঠিকভাবে কাজ করছে না। সবাই অনুভব করছে, দেশ যে অবস্থানে থাকার কথা ছিল, সেখানে নেই। আজকের রাত হতে পারে–হতেই পারে একটি মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত।’ তিনি বলেন, ‘এখন থেকে আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করব, যাতে মেকারফিল্ড নামটি চিরদিনের জন্য দেশের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে থাকে।’

বার্নহ্যামের এই জয় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে স্টারমারের পদত্যাগের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে অথবা লেবার পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে স্টারমার, বার্নহ্যাম এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই পার্লামেন্ট সদস্যরা নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানালে বার্নহ্যাম পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন।

আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে ‘বড় ইউনিয়নপন্থি’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া কিথ ডেভিস বলেন, ‘আমি কিয়ার স্টারমারের প্রতি আস্থা হারিয়েছি। আমার মনে হয়, তিনি পথ হারিয়ে ফেলেছেন।’

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, ২৫ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সেখানে কিয়ার স্টারমারের পক্ষে সমর্থন ছিল ১২ শতাংশ।

ফলাফল ঘোষণার পর স্টারমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, ভোটাররা ‘বিভাজন ও ঘৃণার পরিবর্তে লেবার পার্টির আশা ও আশাবাদের প্রচারকে বেছে নিয়েছেন।’

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার পদত্যাগের কোনো ইচ্ছা নেই এবং তিনি দল ও দেশের নেতৃত্ব ধরে রাখতে লড়াই চালিয়ে যাবেন। যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন, নেতৃত্বের লড়াই দেশের জন্য ‘খারাপ বিষয়’ হবে।

স্টারমার বলেন, ‘হ্যাঁ, যদি লেবার পার্টিতে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা হয়, আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। আমি বারবার বলেছি, আমি এ দায়িত্ব থেকে সরে যাব না।’ সূত্র: আল-জাজিরা

উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাতে ইরাকে গোপন সেল গঠন ইরানের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাতে ইরাকে গোপন সেল গঠন ইরানের
ইসরায়েলি হামলার পর গতকাল দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুন এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইরাকে গোপন সশস্ত্র সেল গঠন করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আটজন ইরাকি সামরিক, নিরাপত্তা ও মিলিশিয়া সূত্রের বরাতে শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসি প্রচলিত ইরানপন্থি মিলিশিয়া কাঠামো এড়িয়ে নতুন গোপন সেলগুলো সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করছে, যাতে হামলার দায় এড়ানো এবং নজরদারি কমানো সম্ভব হয়। তিনটি বা চারটি ছোট সেলে বিভক্ত এসব ইউনিটে প্রায় ১০ জন করে অভিজ্ঞ ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছে।

তারা ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত বসরা ও সামাওয়ার মরুভূমি এলাকা থেকে ড্রোন হামলা চালায় বলে তিনটি সূত্র জানিয়েছে। ইরাকি সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব যোদ্ধার অনেকেই আগে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ জোটের অংশ ছিলেন। নতুন সেলগুলো সরাসরি আইআরজিসির কাছে জবাবদিহি করে।

মিলিশিয়া কমান্ডারদের মতে, ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়া এবং নিজেদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমে যাওয়ায় আইআরজিসি নতুন কৌশল হিসেবে এ ধরনের ছোট ও গোপন ইউনিট গঠন করছে। ইরাকের অবসরপ্রাপ্ত সেনা জেনারেল জাসিম আল-বাহাদলি এবং শিয়া জোটের দুই আইনপ্রণেতা বলেন, ইরাকের কিছু শক্তিশালী শিয়া গোষ্ঠী নিরস্ত্রীকরণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মনোযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় আইআরজিসি সরাসরি নিয়ন্ত্রিত সেল গঠন করেছে।

চলতি মাসে ইরানপন্থি দুটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী—আসাইব আহল আল-হক ও ইমাম আলী ব্রিগেড—যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে অস্ত্র রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়। বাহাদলি বলেন, নতুন সেলগুলো আকারে ছোট হলেও মতাদর্শগতভাবে বেশি কঠোর এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে ইরান এখন কম ব্যয়ে বেশি কার্যকর ও বিশ্বস্ত বাহিনীর ওপর নির্ভর করছে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টরা যুদ্ধ অবসানে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে সই করলেও ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর’ প্রতি তেহরানের সমর্থন আলোচনার বিষয় নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইরাক সরকারকে ইরানের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের সব উপকরণ, বিশেষ করে আইআরজিসি ও ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ভেঙে দেওয়ার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

গত সোমবার ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও মার্কিন দূত টম ব্যারাকের বৈঠকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকের ভূখণ্ড যেন কোনো পক্ষ আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের সময় নতুন নামে আবির্ভূত হওয়া এসব গোষ্ঠী কুয়েতে তিনটি, সৌদি আরবে দুটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুটি ড্রোন হামলা চালায়। গোয়েন্দা তথ্য, যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ এবং উৎক্ষেপণস্থল থেকে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রগুলো এ তথ্য দিয়েছে।

কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি সামরিক টার্মিনাল হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরব ও আমিরাতের দিকে ছোড়া ড্রোনগুলো প্রতিহত করা হয় বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

ইরাকি কর্মকর্তাদের মতে, নতুন সেলগুলোর মাধ্যমে আইআরজিসি হামলার দায় অস্বীকার করার সুযোগ পাচ্ছে এবং বাগদাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপও কমানোর চেষ্টা করছে। কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এপ্রিল মাসে ইরাকি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৭ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগার ঘটনায় ব্যবহৃত ড্রোন হামলার সঙ্গে এসব নতুন গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই দিনে সৌদি আরবও ইরাক থেকে নিক্ষেপ করা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানায়।

প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ওই হামলাগুলোকে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করে কুয়েত ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে তার মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান কোনো মন্তব্য করেননি। সূত্র: রয়টার্স