শুক্রবার রাতভর চালানো রাশিয়ার নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউক্রেন। এই হামলায় একজন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এমন এক সময়ে এই হামলা হলো যখন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিব্বিহা বলেছেন, রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে চালানো এই ‘নৃশংস’ ও ‘নিন্দনীয়’ হামলাটি কেবল ইউক্রেনের মানুষের ওপর নয়, বরং ‘আলোচনার টেবিলের ওপরও আঘাত হেনেছে’।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় রুশ আক্রমণ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছে।
বিবিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও ভূখণ্ড বা সীমানা সংক্রান্ত প্রধান ইস্যুটি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
রাজধানী কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিটস্কো জানিয়েছেন, সেখানে একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৬ হাজার ভবন এখন তাপ নিয়ন্ত্রণ (হিটিং) ব্যবস্থা ছাড়াই রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ইউক্রেনের কিছু অংশে তাপমাত্রা বর্তমানে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।
খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ জানিয়েছেন, শনিবার ভোরের হামলায় সেখানে ৩১ জন আহত হয়েছেন। একটি প্রসূতি হাসপাতাল এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য তৈরি একটি হোস্টেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘রুশদের প্রধান লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো।’’
শান্তি আলোচনা ও ভূখণ্ড ইস্যু
শনিবার আবুধাবিতে আলোচনার দ্বিতীয় দিনে সিব্বিহা বলেন, এই ‘বর্বর’ হামলা প্রমাণ করে যে পুতিনের জায়গা শান্তি আলোচনার টেবিলে নয়, বরং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায়।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, পুতিন তার প্রতিষ্ঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে পুতিন এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে রয়েছে। ক্রেমলিন চায় ইউক্রেন এই ভূখণ্ডের বড় অংশ তাদের ছেড়ে দিক, কিন্তু ইউক্রেন তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে জেলেনস্কি বলেন, ‘‘সবকিছুর মূলে রয়েছে জমি। এটিই সেই অমীমাংসিত ইস্যু।’’
তবে তিনি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার একটি সমঝোতা হয়েছে, যা উভয় দেশের পার্লামেন্টে অনুমোদিত হতে হবে।
আবুধাবি আলোচনা শুরুর আগের দিন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে দেখা করেন। চার ঘণ্টার সেই বৈঠক শেষে ক্রেমলিন জানায়, পুতিন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে আন্তরিক।
তবে রুশ কর্মকর্তা ইউরি উশাকভ স্পষ্ট করেছেন যে, ‘অ্যাঙ্করেজ ফর্মুলা’ অনুযায়ী ভূখণ্ড সংক্রান্ত ইস্যুটির সমাধান ছাড়া স্থায়ী নিষ্পত্তি সম্ভব নয়। গত আগস্টে আলাস্কার অ্যাঙ্করেজে ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠকে একটি সমঝোতা হয়েছিল বলে জানা যায়, যেখানে রাশিয়াকে ডনবাস অঞ্চল এবং ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক নিয়ে গঠিত ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রথম দিনের আলোচনা শেষে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান রুস্তম উমেরভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাদের বৈঠকটি ছিল যুদ্ধের সমাপ্তি এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নির্ধারণ করার বিষয়ে। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/