রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের প্রধান কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী ওদেসা এবং ঝাপোরিঝিয়া অঞ্চলের একটি রেলপথ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এতে এক ট্রেনচালক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা।
গতকাল বুধবার ভোররাতে চালানো এই হামলায় ওদেসা বন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জেটি, গুদামঘর, রেললাইন এবং বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের স্থাপনাও রয়েছে। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের একটি স্টেশনের সোর্টিং ইয়ার্ডে হামলায় একজন সহকারী ট্রেনচালক নিহত হন। প্রধান চালক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কুলেবা বলেন, এটি আবারও প্রমাণ করে যে রাশিয়া সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে, যারা শুধু তাদের কাজ করছিল এবং দেশকে সচল রাখছিল। এদিকে রাশিয়া কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র এমন একটি রুটে পাঠায়, যা পরিত্যক্ত চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছ দিয়ে যায়। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের শীর্ষ প্রসিকিউটর।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল দুর্ঘটনার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইউক্রেন আগামী রবিবার স্মরণ দিবস পালন করতে যাচ্ছে। প্রসিকিউটর জেনারেল রাসলান ক্রাভচেঙ্কো জানান, রাশিয়ার ৩৫টি কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো চেরনোবিল স্থাপনা বা খেমেলনিতস্কি পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছাকাছি দিয়ে উড়ে গেছে। এর মধ্যে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র একই ফ্লাইটপথে উভয় স্থাপনার কাছ দিয়ে অতিক্রম করে।
তিনি বলেন, এই ধরনের হামলার কোনো সামরিক যুক্তি নেই। বরং এটি ভয় সৃষ্টি ও সন্ত্রাস ছড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। রাশিয়া সম্ভবত চেরনোবিল এলাকাকে ড্রোন হামলার রুট হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে ইউক্রেনের ঘন বিমান প্রতিরক্ষা এড়ানো যায়।
ইউক্রেনের সীমিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকায় তারা প্রধানত জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষা দিতে সেগুলো ব্যবহার করে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর ২১৫টি রুশ ড্রোনের মধ্যে ১৮৯টি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ২৪টি ড্রোন ১৩টি স্থানে আঘাত হানে এবং ছয়টি স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ে। আরও কিছু ড্রোন তখনো আকাশে সক্রিয় ছিল। সূত্র: আল-জাজিরা