সামরিক জোট থেকে কোনো সদস্য দেশকে সাময়িকভাবে স্থগিত বা বহিষ্কার করার কোনো বিধান নেই বলে জানিয়েছে ন্যাটো। এর আগে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সদস্যপদ স্থগিত করার চেষ্টা করতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে এমন কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের শাস্তি দিতে পারে। যাদের তারা মনে করে ইরানবিরোধী অভিযানে যথেষ্ট সমর্থন দেয়নি।
ওই ইমেইলে আরও বলা হয়, দক্ষিণ আটলান্টিকে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। এই দ্বীপপুঞ্জের দাবি আর্জেন্টিনাও করে।
এসব খবর প্রকাশের পর ন্যাটোর এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, জোটটির প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে ‘সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কারের কোনো বিধান নেই’। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও এই প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেননি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি পেন্টাগন ও যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর এবং ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার পর থেকেই তিনি মিত্রদের আরও সক্রিয় ভূমিকা না নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরছেন।
স্পেন তার ভূখণ্ডের বিমানঘাঁটি ইরানে হামলার জন্য ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর একটি রোটা নৌঘাঁটি এবং মোরন বিমানঘাঁটি।
সানচেজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইমেইলের ভিত্তিতে কাজ করি না। আমরা সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক অবস্থানের ভিত্তিতে কাজ করি। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, স্পেন মিত্রদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতায় বিশ্বাসী, তবে তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে হতে হবে। এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ইরান যুদ্ধ বা ইরানের বন্দর অবরোধে আরও গভীরভাবে জড়ানো যুক্তরাজ্যের স্বার্থে নয়। তবে যুক্তরাজ্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার সুযোগ দিয়েছে এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্সের বিমান ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার অভিযানে অংশ নিয়েছে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা যুদ্ধ শেষ হলে তারা হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে কাজ করতে প্রস্তুত। গত মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি সবসময় ন্যাটোকে ‘একতরফা রাস্তা’ হিসেবে দেখেছেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘আমরা তাদের রক্ষা করি, কিন্তু তারা আমাদের জন্য কিছুই করে না।’
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ ইমেইলে বলা হয়েছে, সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি, অবস্থান সুবিধা ও আকাশপথ ব্যবহারের অধিকারে বিষয়গুলো ন্যাটোর ক্ষেত্রে ন্যূনতম প্রত্যাশা।
মিত্রদের এই সহযোগিতার ঘাটতির প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘ঔপনিবেশিক সম্পদ’, যেমন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে তাদের কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও ওই ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যা আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত, যুক্তরাজ্য থেকে প্রায় ৮ হাজার মাইল এবং আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত। আর্জেন্টিনা বহু আগে থেকেই ওই দ্বীপপুঞ্জ নিজেদের বলে দাবি করে। অন্যদিকে ব্রিটিশরা সেটিকে নিজেদের বলে ধরে। দুই দেশ এর আগে এটি নিয়ে যুদ্ধেও জড়িয়েছিল। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার বাহিনী দ্বীপটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। সূত্র: বিবিসি