ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রোগী সেজে ইয়াবা পাচার, স্বামী-স্ত্রী আটক ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩, আহত ৫ ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন আনোয়ার ইব্রাহিম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীতে থাকবে ১৮০০০ পুলিশ মাদরাসা ছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতন সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন টিভিতে আজকের খেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশের চালান জব্দ, আটক ১ জুন মাসে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫৩৭ লেবাননে যেকোনো হুমকি নির্মূলে স্বাধীন ইসরায়েলি সৈন্যরা: কাটজ পদত্যাগের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপিপুত্র সজীবকে যুবদল থেকে বহিষ্কার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার মারধর, ৪ ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু সেনেগালের কঠিন পরীক্ষা, নরওয়ের চোখ নক আউটে যমুনা ফিউচার পার্কে ২ দিনের ‘কে-গুডস ফেস্টা’ মালয়েশিয়ায় ‘হালাল’ পণ্য রপ্তানির অপার সম্ভাবনা কাতারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮ হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুর পূর্ণতা পায়নি চামড়া শিল্পনগরী শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা, নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাল মিশর বর্ষা এলেই জলজট স্মার্টফোনের নতুন সেনসেশন ‘হেলিও ৪৬’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে: জেডি ভ্যান্স দুপুরের মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা মালেশিয়ায় শ্রমবাজার খোলার আশা আছে জটিলতাও নায়ক হতে প্রস্তুত এমবাপ্পে সাতসকালে ঢাকার বায়ুমান নিয়ে দুঃসংবাদ

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘শেষের পথে’, ইঙ্গিত পুতিনের

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
আপডেট: ১০ মে ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘শেষের পথে’, ইঙ্গিত পুতিনের
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হয়তো শেষের পথে, এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হলে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকে বসতেও আগ্রহী।

শনিবার (৯ মে) মস্কোতে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পুতিন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত এই কুচকাওয়াজে তিনি ইউক্রেনে রুশ সেনাদের অভিযানকে ‘ন্যায্য উদ্দেশ্য’ বলে উল্লেখ করেন।

পুতিন দাবি করেন, রাশিয়া ‘ন্যাটো জোটের সশস্ত্র ও সমর্থিত একটি আগ্রাসী শক্তির’ বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

মস্কোর রেড স্কোয়ারে সৈন্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিজয় সবসময় আমাদেরই ছিল এবং থাকবে।’

শান্তি আলোচনার ইঙ্গিত
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পুতিন পশ্চিমা ‘বিশ্বায়নবাদী অভিজাতদের’ এই যুদ্ধের জন্য দায়ী করেন।

তার অভিযোগ, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর ন্যাটো পূর্ব দিকে সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে নিজেদের বলয়ে টানার চেষ্টা করেছে।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় বিষয়টি শেষ হতে চলেছে।’

রাশিয়া ও ইউক্রেন সম্প্রতি তিন দিনের যুদ্ধবিরতি এবং এক হাজার বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে। এতে নতুন করে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়ার সেনা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণ করে রাশিয়ায় বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। এই যুদ্ধে নিহত প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ সোভিয়েত নাগরিককে সম্মান জানানো হয়।

তবে এবারের কুচকাওয়াজ ছিল তুলনামূলক নিরুত্তাপ। রেড স্কোয়ারে ভারী সামরিক সরঞ্জামের প্রদর্শনের বদলে বড় পর্দায় ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

এবারের কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার সেনারাও অংশ নেয়। রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে মস্কোর বাহিনীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য পিয়ংইয়ংকে সম্মান জানাতেই এই অংশগ্রহণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ
এর আগে রাশিয়া একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ তোলে। পরিস্থিতির মধ্যে নতুন মোড় আসে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তার আহ্বানে রাশিয়া ও ইউক্রেন শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি এবং এক হাজার বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘এই যুদ্ধবিরতিতে সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং উভয় দেশ এক হাজার বন্দি বিনিময় করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন শান্তি চুক্তির আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছি। আশা করি, এটি দীর্ঘ ও প্রাণঘাতী এই সংঘাতের অবসানের সূচনা হবে।’

জেলেনস্কির পাল্টা প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের ঘোষণার পর জেলেনস্কি বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে রাশিয়াকে বিজয় দিবস উদযাপনের অনুমতি দিয়ে একটি ডিক্রি জারি করেন এবং ইউক্রেনের হামলার জন্য রেড স্কোয়ারকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করেন। তবে ক্রেমলিন এই মন্তব্যকে ‘হাস্যকর রসিকতা’ বলে উড়িয়ে দেয়।

জেলেনস্কি আগেও শান্তি আলোচনার জন্য পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে মস্কোয় বৈঠকের রুশ প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। 

গতকাল শনিবার পুতিন বলেন, তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠক সম্ভব, তবে সেটি কেবল একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি অনুমোদনের জন্যই হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এটি আলোচনার জন্য নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহাসিক সমঝোতার চূড়ান্ত চুক্তি হওয়া উচিত।’

দীর্ঘ যুদ্ধের চাপ
১৯৯৯ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাশিয়া শাসন করে আসা পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে লাখো মানুষ নিহত হয়েছেন, ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং রাশিয়ার অর্থনীতিও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।

যদিও রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, তবুও পূর্বাঞ্চলের পুরো ডনবাস অঞ্চল এখনো দখল করতে পারেনি মস্কো।

এদিকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা সম্প্রতি বলেছেন, ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ইউরোপ ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, আলোচনার জন্য তার পছন্দের ব্যক্তি হলেন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডার। সূত্র: আল জাজিরা

অমিয়/

ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩, আহত ৫

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১১:১২ এএম
ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩, আহত ৫
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলীয় লেয়তে প্রদেশের তাকলোবান শহরের একটি হাই স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তাকলোবান শহরের সান জোসে ন্যাশনাল হাই স্কুলে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, হামলায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় আরেকজন সন্দেহভাজন এখনো পলাতক।

আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুল প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কী কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে তাকলোবান সিটি পুলিশ।

কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এই ঘটনা নিয়ে কোনো ধরনের যাচাই না করা তথ্য বা গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে।

ফিলিপাইনে সাধারণত স্কুল শুটিংয়ের মতো ঘটনা বিরল। এর আগে ২০২২ সালের জুলাইয়ে দেশটির কুইজন সিটির আতেনিও ডি ম্যানিলা ইউনিভার্সিটির ল স্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এক বন্দুকধারীর হামলায় ল্যামিটান সিটির সাবেক মেয়র রোজ ফুরিগেসহ তিনজন নিহত হয়েছিলেন।সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/অমিয়/

লেবাননে যেকোনো হুমকি নির্মূলে স্বাধীন ইসরায়েলি সৈন্যরা: কাটজ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:২৯ এএম
লেবাননে যেকোনো হুমকি নির্মূলে স্বাধীন ইসরায়েলি সৈন্যরা: কাটজ
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে যেকোনো হুমকি নির্মূল করতে ইসরায়েলি সৈন্যরা কোনো বাধা ছাড়াই ব্যবস্থা নিতে পারবে। রবিবার (২১ জুন) সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে এ কথা বলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। 

তিনি বলেন, ইসরায়েল যাকে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল বলে অভিহিত করে, সেখানে সৈন্যরা অবস্থান করছে। যা দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানায়, কয়েক মাস ধরে বাড়তে থাকা সহিংসতার পর শুক্রবার ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু শনিবার লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েল বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সৈন্যদের লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বর্ণনা অনুযায়ী 'হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে' হামলা চালানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহর একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, যতক্ষণ ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে, ততক্ষণ দলটি এতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অবাধ চলাচলের অধিকার নেই এবং হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনাদের ওপর গুলি চালায়নি।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

পদত্যাগের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
পদত্যাগের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নামের কাছে নেতৃত্ব হারানোর শঙ্কায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মতে, তিনি খুব শিগগিরই ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি সময়সীমা ঘোষণা করতে পারেন। এটি হলে গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্য সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে অ্যান্ডি বার্নাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়তে থাকে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টারমার গত কয়েকদিন ধরে তার অবস্থান এবং বার্নামের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেছেন, অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে ব্যর্থতার কারণে স্টারমার পদত্যাগ করবেন। ২০২৪ সালে লেবার পার্টিকে এক বিশাল নির্বাচনি জয় এনে দেওয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় স্টারমারের এই পরিণতি এক নাটকীয় পরিবর্তন। একের পর এক নীতিগত ভুল এবং জনপ্রিয়তার ধসের কারণে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর দলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এমপি তার পদত্যাগ দাবি করেন।

বার্নামের এই উত্থান এবং স্টারমারের সম্ভাব্য বিদায় যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

লেবার পার্টির ভেতরে এখন আলোচনা চলছে যে, বার্নাম কি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হবেন, নাকি দলের ভেতরে অন্য কেউ তাকে চ্যালেঞ্জ জানাবে।

তবে অধিকাংশ লেবার এমপির ধারণা, আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের ‘রিফর্ম ইউকে’ পার্টিকে ঠেকাতে বার্নামই তাদের একমাত্র ভরসা। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

কাতারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
কাতারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮
ছবি: বিস্ফোরণের পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও জানা যায়নি

বোমা হামলার পর পুনরায় কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টার সময় কাতারের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

রবিবারের (২১ জুন) এই বিস্ফোরণ ও পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং আরও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকার এই বিস্ফোরণ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কঠোর অবরোধের কারণে গ্রাহকদের কাছে চালান পাঠাতে না পেরে কাতার এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল।

চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা চলায় ইরান ওই প্রণালীর উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করার পর, কাতার তাদের রপ্তানি টার্মিনালটি পুনরায় সচল করার কাজ শুরু করে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘কাতারএনার্জি’ জানায়, রবিবার রাতে সেই কাজ করার সময়ই ‘বারজান’ গ্যাস সরবরাহকেন্দ্রে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

বিস্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে মাত্র কয়েকজন আহত হওয়ার কথা বললেও, কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করে।

বারজান প্ল্যান্টটির দৈনিক প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফুট গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। কাতার এই গ্যাস মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আরব উপদ্বীপের মরু অঞ্চলে তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধন প্ল্যান্টগুলো সচল রাখতে ব্যবহার করে থাকে।

এই প্ল্যান্টের সিংহভাগের মালিক কাতার, তবে মার্কিন তেল কোম্পানি এক্সনমবিলেরও এতে সামান্য অংশীদারত্ব রয়েছে। এ বিষয়ে এক্সনমবিলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, গত মার্চ মাসে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফানে আঘাত হেনেছিল, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ইরানি হামলার কারণেই কাতার সেখানে আগেই উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত বিশ্বের বিশালতম অফশোর প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রটি কাতার ও ইরান যৌথভাবে শেয়ার করে। এই বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কাতারকে আর্থিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে। এই অর্থ ব্যবহার করেই কাতার ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন, আল জাজিরা নিউজ নেটওয়ার্ক তৈরি এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বজুড়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে: জেডি ভ্যান্স

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে: জেডি ভ্যান্স
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আঞ্চলিক শান্তি এবং সমৃদ্ধি বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গতকাল রবিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রথম দফার আলোচনা শেষে তিনি এ কথা জানান।

বৈঠকে ভ্যান্স ইরানকে ‘আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রধান চালিকাশক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে পরিস্থিতির জন্য তাদের ওপর দোষারোপ করলেও একই সঙ্গে জানান, গত কয়েক ঘণ্টার আলোচনায় উভয় পক্ষের মধ্যে চমৎকার অগ্রগতি হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানে গতকাল সুইজারল্যান্ডে সরাসরি আলোচনা শুরু করে। গত সপ্তাহে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের কর্মকর্তারা এ আলোচনায় বসেছেন। চুক্তি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এতে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় গত শনিবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় তেহরান। যদিও সামুদ্রিক ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রবিবারও কয়েকটি জাহাজ প্রণালিটি ব্যবহার করেছে।

আলোচনা শুরু হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, লেবাননে তেহরানের ‘অত্যধিক অর্থায়ন করা প্রক্সি বাহিনীকে’ অবিলম্বে থামাতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালাবে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার আগে বলেন, ওয়াশিংটন পারমাণবিক ইস্যু ও লেবানন প্রশ্নে অগ্রগতি আশা করছে। অন্যদিকে ইরান জানায়, বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের ওপরই চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা নির্ভর করবে।

সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টক রিসোর্টে ভ্যান্স বলেন, ট্রাম্প আলোচকদের নতুনভাবে সম্পর্ক শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরান যদি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তনে প্রস্তুত। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সব সামরিক অভিযান বন্ধসহ বিদ্যমান প্রতিশ্রুতি কার্যকর হওয়ার ওপরই চূড়ান্ত চুক্তি নির্ভর করছে। মূলত এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘিরেই এই আলোচনা।

মার্কিন প্রতিনিধিদলে জেডি ভ্যান্স ছাড়াও রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও যোগ দিয়েছেন।

প্রাথমিক চুক্তির আওতায় ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা ছিল। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর সামরিক অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেয়। পাশাপাশি ইরানের পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা