যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান।
রবিবার (১০ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এই জবাব পাঠানো হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বার্তার বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন প্রস্তাবে বলা হয়েছিল-পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল ও বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার আগে দুই পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এই আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতেই তেহরান তাদের অবস্থান পরিষ্কার করল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এই প্রথম কোনো বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা দিল।
এদিকে, আলোচনার আবহের মধ্যেই অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। গত দুই মাস ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত বন্ধ থাকার পর গতকাল কাতার এনার্জির এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আল খারাইতিয়াত’ নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। শিপিং অ্যানালিটিকস ফার্ম কেপলারের তথ্যমতে, জাহাজটি এখন পাকিস্তানের কাসিম বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গ্যাস আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় পাকিস্তানে চলমান ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় এটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। মূলত মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে আস্থা বাড়াতেই ইরান এই জাহাজটি ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই দিনে পানামার পতাকাবাহী আরেকটি কার্গো জাহাজও ইরানের সামরিক বাহিনীর নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে সফলভাবে প্রণালি পার হয়েছে।
তবে কূটনৈতিক এই তৎপরতার মধ্যেই এই অঞ্চলে উত্তেজনার রেশ কাটেনি। গত ৪৮ ঘণ্টা পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও গতকাল বেশ কিছু উপসাগরীয় দেশের আকাশে শত্রু ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা দুটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করেছে। কাতার তাদের জলসীমায় একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ড্রোনগুলো মোকাবিলা করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরকে কেন্দ্র করে এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। ইরান-যুদ্ধ এবং জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন সফরের আগেই একটি সম্মানজনক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠানো এবং জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পরও ড্রোন হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, মধ্যপ্রাচ্যে এখনো পূর্ণাঙ্গ স্থিতিশীলতা ফিরতে অনেক দেরি।