প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির দাবি, এমন এক অস্ত্র খুব শিগগিরই মোতায়েন করা হবে, যাকে শত্রুপক্ষ ‘মারাত্মক ভয় পায়’ এবং যার মুখোমুখি হলে তাদের ‘হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে’।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানা গেছে, দেশটির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র খুব শিগগিরই এমন একটি অস্ত্র ব্যবহার করবে, যা শত্রুদের জন্য ভয়াবহ চমক হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমরা এমন একটি অস্ত্র ব্যবহার করব, যাকে তারা খুবই ভয় পায়। এটি তাদের একেবারে পাশেই রয়েছে। আশা করি, এতে তাদের হার্ট অ্যাটাক হবে না।’
শাহরাম ইরানি ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল নিয়েও কটাক্ষ করেন। তার অভিযোগ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের তেল-বাণিজ্য বন্ধ করে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে চেয়েছিল। তবে তার মতে, এই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শত্রুরা ভেবেছিল, সবশেষ আগ্রাসনের মাধ্যমে তারা খুব অল্প সময়েই কাঙ্ক্ষিত ফল পাবে। কিন্তু সেই ধারণা এখন সামরিক একাডেমিগুলোতে হাসির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ইরানি আরও দাবি করেন, ইরানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনের উপর অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তার ভাষ্য, এসব হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র কিছু সময়ের জন্য রণতরীটি থেকে বিমান উড্ডয়ন ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি।
যুদ্ধে ইরানের ব্যবহৃত পদক্ষেপ
শাহরাম ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংবেদনশীল মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে তারা অন্তত ১০০টি সফল প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়।
স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। পরে ইরান জানায়, কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আরব সাগর থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছি। তারা আরও কাছে এলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে অভিযানিক ব্যবস্থা নেব।’
তিনি আরও জানান, অবরোধের মধ্যেও কিছু জাহাজ ইরানি বন্দর ছেড়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানি জাহাজ অবৈধভাবে আটকের অভিযোগ তুলে তিনি এটিকে ‘জলদস্যুতা’ এবং ‘জিম্মি করা’ বলে অভিহিত করেন।
তার ভাষায়, ‘তারা শুধু জাহাজ নয়, নাবিক ও তাদের পরিবারকেও জিম্মি করেছে। আমেরিকানরা সোমালি জলদস্যুদের চেয়েও খারাপ।’
এছাড়া যুদ্ধে নিহতদের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের এমন আঘাত করব, যা তাদের অনুশোচনায় ফেলবে।’
ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের
ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানান, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার যে প্রস্তাব ইরান দিয়েছিল, তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখার কথাও বলা হয়েছিল।
ট্রাম্প বলেন, ‘বোমা হামলার চেয়ে অবরোধ কিছু ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। আর এটি তাদের জন্য আরও খারাপ হবে। তারা পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।’
আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা জানান, ইরানের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যেত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠিত একাধিক রুদ্ধদ্বার আলোচনার ভিত্তিতেই এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি হলো- ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা। সূত্র: এনডিটিভি
অমিয়/