ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে হত্যা মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি অভিযান আজ শুরু বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম? হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার দুপুরের মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.) নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের মরক্কো-ব্রাজিল দ্বৈরথে কাঁপল মেটলাইফ, গ্যালারিতে ৮০ হাজারের মহাসমুদ্র! চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে যুবক আটক, বিএসএফের মারধরের অভিযোগ রংপুরে চিকিৎসককে মারধর: মায়ের মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস যুবকের সিলেট সিটি করপোরেশনে চলতি বছরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে: সিসিক প্রশাসক চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের মধুখালীতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’ প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি ‘ফেবারিট’ তুরস্কের সামনে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া পরিদর্শন নেই, অরক্ষিত রেলপথ বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’
Nagad desktop

ভারতে জেন জিদের ‘ককরোচ পার্টি’র চাপে মোদি

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
আপডেট: ২৩ মে ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
ভারতে জেন জিদের ‘ককরোচ পার্টি’র চাপে মোদি
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বেকার যুবসমাজকে ‘তেলাপোকা’ বা ‘ককরোচ’ বলে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির করা একটি মন্তব্য ঘিরে দেশটিতে অভূতপূর্ব এক গণ-আন্দোলন শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা মাত্র এক সপ্তাহে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় দুই কোটি অনুসারী পেয়েছে সিজেপি। আর বিজেপির অনুসারী প্রায় ৮৭ লাখ।

বেকারত্ব, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ জেন জি বা তরুণ প্রজন্মের এই ডিজিটাল প্রতিরোধ এখন মোদি সরকারের জন্য বড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ একটি ব্যঙ্গচিত্রকে হাতিয়ার করে তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ ভারতের মূলধারার রাজনীতিতে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তেলাপোকা এখন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে। দেশটির তরুণ সমাজ এই পতঙ্গটিকে নিজেদের অধিকার আদায়ের ঢাল হিসেবে বেছে নিয়েছে। 

চলমান এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে গত ১৫ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। একটি মামলার শুনানির সময় তিনি দেশের বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে, যাদের কোনো কর্মসংস্থান নেই। পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তিনি কেবল জাল ডিগ্রিধারী ছদ্মবেশীদের বুঝিয়েছেন। তবে ততক্ষণে ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের দেশে তীব্র বেকারত্বে ভুগতে থাকা তরুণদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

পরদিনই অর্থাৎ ১৬ মে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতার ছাত্র এবং আম আদমি পার্টির সাবেক রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামের একটি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা এই ব্যঙ্গাত্মক পেজটি এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে প্রায় দুই কোটি অনুসারী সংগ্রহ করেছে, যা ভারতের বর্তমান সরকারি দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারী সংখ্যাকেও প্রায় দ্বিগুণ ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে।

দলটি নিজেদের ইশতেহারে ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস’ বলে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে মোদি সরকারের ঘনিষ্ঠ ধনকুবের মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির মালিকানাধীন সব মিডিয়া হাউসের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছে, যেন একটি স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা যায়। আন্দোলনটি কেবল অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নেই। এই সপ্তাহের শুরুতে দিল্লির তীব্র দূষিত যমুনা নদী পরিষ্কার করতে বহু তরুণ তেলাপোকার পোশাক পরে রাস্তায় নেমে আসে।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপক গতকাল শুক্রবার প্রথম একটি আনুষ্ঠানিক পিটিশন দায়ের করেছেন। এই পিটিশনে তিনি বহুল আলোচিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দেশবাসীকে এই পিটিশনে ব্যাপকভাবে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানান।

‘ককরোচ ইজ ব্যাক’ নামে নতুন অ্যাকাউন্ট
এই আন্দোলনের তীব্রতা দেখে সরকারপন্থি প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার সিজেপির মূল এক্স অ্যাকাউন্টটি আইনি নোটিশের অজুহাতে ভারতে ব্লক বা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে দমে না গিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ‘ককরোচ ইজ ব্যাক’ নামে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে তারা প্রতিবাদের নতুন পোস্ট দেয়। 

জানা গেছে, বিজেপির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ৮৭ লাখ। অন্যদিকে মাত্র কয়েক দিনে সিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক দল না হলেও জনপ্রিয়তার নিরিখে দেশের বড় দলগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে এই ‘পার্টি’। 

বিরোধী দলগুলোর উচিত তরুণদের ক্ষোভকে কাজে লাগানো: শশী থারুর
মোদি সরকারের এই ডিজিটাল সেন্সরশিপের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস দলের প্রবীণ সংসদ সদস্য শশী থারুর। তিনি এই অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে ‘বিপর্যয়কর এবং গভীর অবিবেচকের মতো কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। থারুর বলেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত, কৌতুক ও হতাশা প্রকাশের জায়গা থাকা উচিত এবং দেশের বিরোধী দলগুলোর উচিত তরুণদের এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্রও ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ হয়ে মুখ খুলেছেন। এক্স-এ কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন, ‘দেশের সরকার যুবসমাজকে এতটাই ভয় পায় যে একটি অনলাইন আন্দোলনকেও সহ্য করতে পারছে না।’ তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। উল্লেখ্য, মহুয়া মৈত্র নিজেও ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) একজন ফলোয়ার। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন তৃণমূলের আরেক নেতা শশী পাঁজা।

আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের মা-বাবা
এদিকে এই আন্দোলনের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের মা-বাবা। মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বাসিন্দা ভগবান ও অনিতা দীপক জানান, তাদের ছেলে ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারে। ছেলের নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা দুই রাত ধরে ঘুমাতে পারেননি। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা চান না তাদের ছেলে রাজনীতিতে জড়াক। তারা চান অভিজিৎ পড়াশোনা শেষ করে পুনে বা দিল্লিতে সাধারণ একটি চাকরি করুক। অভিজিতের মা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে প্রথম এই খবর জানতে পারেন এবং তিনি এই আন্দোলনে ছেলের পাশে নেই বলে জানান। অভিজিৎ নিজেও এক সাক্ষাৎকারে দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

যে কারণে ককরোচ পার্টি দ্রুত জনপ্রিয়তা পেল
সমালোচকদের কেউ কেউ এই আন্দোলনকে শহুরে মধ্যবিত্তের একটি ক্ষণস্থায়ী ‘মিম’ বা তামাশা বলে অভিহিত করলেও দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন যেভাবে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে এবং নেপালে যেভাবে তরুণদের হাত ধরে র‌্যাপার বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় এসেছেন, সিজেপিকে অনেকেই সেই ধারার অংশ মনে করছেন। যদিও অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, তারা কোনো সহিংসতা চান না এবং সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের অধিকারের লড়াই চালিয়ে যাবেন। 

কর্ণাটকের আজিম প্রেমজি ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের ২৫ বছর বা তার কম বয়সী স্নাতকদের প্রায় ৪০ শতাংশই আজ বেকার। কর্মসংস্থানের এই ভয়াবহ সংকট ও তরুণদের তীব্র ক্ষোভের মুখে দাঁড়িয়ে জেন জির এই ‘তেলাপোকা বিদ্রোহ’ এখন ভারতের ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের জন্য এক বড় পরীক্ষা।

তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে, সিজেপি অনেক তরুণ ভারতীয়ের হতাশা ও অসন্তোষের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাদের অভিযোগ, তারা প্রতিদিন সামাজিক মাধ্যমে রাজনীতি দেখলেও নিজেদের মতামত বা স্বার্থের যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পান না। ভারতের ১৪০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বয়স ৩০ বছরের নিচে। বিশ্বের অন্যতম তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ হওয়া সত্ত্বেও তরুণদের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখনো তুলনামূলকভাবে কম।

সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে, ২৯ শতাংশ তরুণ কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন না এবং মাত্র ১১ শতাংশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের ভাষায়, ‘অনেক মানুষ হতাশ, কারণ তারা মনে করেন তাদের কথা শোনা হচ্ছে না এবং তাদের যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্বও করা হচ্ছে না।’

ভারত এখনো বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা বা নেপালের মতো বড় রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয়নি। তবে যেসব কারণে সেখানে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তার অনেকগুলোই ভারতে বিদ্যমান বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। দেশের অর্থনীতি দ্রুত বাড়লেও কর্মসংস্থান, আয়বৈষম্য এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ কমেনি। অনেক তরুণের কাছে উচ্চশিক্ষা আর নিশ্চিত চাকরি বা স্থিতিশীল জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির স্বপ্নও আগের তুলনায় অনিশ্চিত মনে হচ্ছে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক অবশ্য নেপাল বা শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক সংকটের সঙ্গে ভারতের তুলনা করতে রাজি নন। তার মতে, ভারতের পরিস্থিতি আলাদা। তবে তিনি স্বীকার করেন, তরুণদের মধ্যে হতাশা বাস্তব এবং সেটি এখন মূলত সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। দীপক বলেন, ‘জেনারেশন জেড বা জেন জি প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আস্থা হারাচ্ছে। তারা নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চায়।’ সূত্র: সিএনএন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা এবং দাফন প্রক্রিয়া জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা শনিবার (১৩ জুন) এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে একটি বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এরপর ৬ জুলাই তেহরানে এবং ৭ জুলাই কোম শহরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠানের পর খামেনির মরদেহ সেখানে দাফন করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের শুরুতেই তেহরানে নিজের সরকারি বাসভবনে খামেনি নিহত হন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন তারই ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি। তবে বাবার মৃত্যুর পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ/ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ধীরাজ শেঠ। বর্তমানে তিনি ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ (ভিসিওএএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আগামী ৩০ জুন বিকেলে বর্তমান সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হবেন। গতকাল শনিবার এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। 

ধীরাজ শেঠ ১ এপ্রিল ২০২৬ সালে উপ-সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী ধীরাজ শেঠ ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে আর্মার্ড কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি নানা ধরনের দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও বিদ্রোহ দমন কার্যক্রমে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি মরু অঞ্চলে একটি আর্মার্ড রেজিমেন্ট, একটি আর্মার্ড ব্রিগেড এবং জম্মু-কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে তিনি মর্যাদাপূর্ণ সুদর্শন চক্র কোরের কমান্ডার ছিলেন। পরবর্তীতে দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আর্মি কমান্ডার পদে উন্নীত হওয়ার পর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। খুব কম কর্মকর্তাই এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

প্রচলিত যুদ্ধ পরিচালনা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং কৌশলগত নেতৃত্বে বিস্তৃত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ধীরাজ শেঠ এমন এক সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করতে গণভোট

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করতে গণভোট
ছবি: সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করার পরিকল্পনা হ্যাঁ ভোটের পোস্টার

কোনো দেশ কি তাদের জনসংখ্যার একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিতে পারে? সুইজারল্যান্ডের ভোটাররা আজ রবিবার ঠিক এই প্রশ্নটিরই মুখোমুখি হচ্ছেন। দেশটির জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ১ কোটিতে (১০ মিলিয়ন) সীমিত করার একটি প্রস্তাবের ওপর আজ (১৪ জুন) গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই প্রস্তাবের পেছনে মূল সমর্থন রয়েছে দেশটির ডানপন্থি দল ‘সুইস পিপলস পার্টি’র। তারা এটিকে একটি ‘স্থায়িত্বের উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করছে। যার লক্ষ্য হলো আবাসন, সরকারি সেবা এবং পরিবেশের ওপর তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চাপ কমানো।

তবে সুইস সরকার, অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী নেতা এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এই প্রস্তাবকে একটি ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্যোগ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের যুক্তি, এই প্রস্তাব পাস হলে দেশের হাসপাতাল ও হোটেলগুলোতে প্রয়োজনীয় কর্মীর তীব্র সংকট দেখা দেবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের কষ্টার্জিত সম্পর্কে ফাটল ধরবে।

২০০২ সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ। বর্তমানে তা দ্রুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ লাখে, যার মধ্যে ২৭ শতাংশই বিদেশি নাগরিক। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড়, ফ্ল্যাটের চড়া দাম এবং স্বাস্থ্য খাতের ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশই এখন বেশ উদ্বিগ্ন।

সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, এই গণভোটে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের ৫২ শতাংশ এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে ৪৫ শতাংশ ভোটার এই প্রস্তাবের পক্ষে সায় দিয়েছেন এবং একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

অনিন্দ্যসুন্দর এই দেশটির ভোটারদের বড় অংশই এখনো নিশ্চিত নন যে এই জনসংখ্যা সীমা ঠিক কীভাবে কার্যকর করা হবে। কোনো দেশের জনসংখ্যার ওপর এমন কঠোর আইনি সীমা আরোপের নজির বিশ্বের কোথাও নেই। যদিও চীন অতীতে তাদের ‘এক সন্তান নীতি’র মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধীর করার চেষ্টা করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে তা বাতিল করে।

সুইস এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের আগে দেশটির জনসংখ্যা কোনোভাবেই ১ কোটি অতিক্রম করতে পারবে না এবং জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছামাত্রই সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে থাকতে পারে সুইজারল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) মঞ্জুরের সংখ্যা সীমিত করা এবং বিদেশি শ্রমিকদের পরিবারকে সঙ্গে রাখার অধিকার বাতিল করা।সূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবশেষ পরিস্থিতি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবশেষ পরিস্থিতি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইরান গতকাল শনিবার বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই দেশ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) কাঠামোতে সই করতে পারে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী আজ রবিবার চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকলেও তা হবে না বলে স্পষ্ট করেছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই গত শুক্রবার জানায়, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, উভয় পক্ষ একটি খসড়া পাঠে সম্মত হয়েছে এবং ওয়াশিংটন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গতকাল বলেন, দুই পক্ষ একটি শান্তিচুক্তির কাঠামোতে একমত হয়েছে এবং ইসলামাবাদ ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক চুক্তিটি আজ রবিবারই স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে পরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বাঘাই বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক ঠিক কবে স্বাক্ষরিত হবে, তা দেখতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি আজ হবে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু অপর পক্ষের দ্বিধার কারণে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

এর আগেও একাধিকবার দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধের প্রাথমিক চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়নি। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা শান্তিচুক্তির যতটা কাছে এখন আছি, আগে কখনো ছিলাম না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তিনি শরিফের পোস্টটি রিপোস্ট করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং লেবাননে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়।

এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন। যাদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে।

যুদ্ধের প্রথম দিন বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পরে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জানাজাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই আলী খামেনিকে জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হবে। সূত্র: রয়টার্স

ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ
ধীরাজ শেঠ। ছবি: সংগৃহীত

ভারত সরকার বর্তমান ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেশটির পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) এ নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনীর সহপ্রধান (ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) এ খবর জানিয়েছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি সাঁজোয়া বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি অপারেশন, কৌশলগত পরিকল্পনা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি রয়েছে তার।

সামরিক জীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন ধীরজ শেঠ। তার কমান্ড দায়িত্বের মধ্যে ছিল মরু অঞ্চলে একটি সাঁজোয়া রেজিমেন্ট, পশ্চিমাঞ্চলে একটি সাঁজোয়া ব্রিগেড এবং জম্মু ও কাশ্মিরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর নেতৃত্ব।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক ফরমেশন সুদর্শন চক্র কোরের নেতৃত্ব দেন। পরে দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব তদারকি করেন।

আর্মি কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতির পর ধীরাজ শেঠ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন। এর মাধ্যমে দুইটি অপারেশনাল আর্মি কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অঞ্চলে কৌশলগত তদারকির দায়িত্বও পালন করেন।

সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বিভিন্ন কোর্সে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি তিনি হায়ার কমান্ড কোর্স ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের স্নাতক। এছাড়া প্যারিসের মর্যাদাপূর্ণ কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্সেও অংশ নিয়েছিলেন ধীরাজ শেঠ।

এসএন/