যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। স্যাটেলাইট চিত্রে বিষয়টি দেখা গেছে।
নতুন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরান ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির অন্তত ৫০টি প্রবেশপথ আবার পরিষ্কার ও চালু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার সময় এসব স্থাপনার প্রবেশমুখ ধ্বংস বা মাটি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম ভূগর্ভে আটকে পড়ে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সাময়িকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ইরান বুলডোজার, খননযন্ত্র ও ডাম্পট্রাক ব্যবহার করে দ্রুত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রবেশপথগুলো পুনরায় সচল করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনরুদ্ধার কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, শুধু প্রবেশমুখ ধ্বংস করলেই ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো স্থায়ীভাবে অকার্যকর করা কঠিন।
সিএনএনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুল সামরিক শক্তি ও অত্যাধুনিক বাঙ্কার-বাস্টার অস্ত্র ব্যবহারের পরও ইরান এখন সাধারণ ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে সেই ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কাটিয়ে উঠছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে তাবরিজের দক্ষিণাঞ্চলের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির টানেল প্রবেশপথ থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর দৃশ্য দেখা গেছে। একইভাবে খোমেইন অঞ্চলের আরেকটি স্থাপনায় ট্রাকের মাধ্যমে টানেলের মুখ পরিষ্কার করার কাজও ধরা পড়েছে। বিভিন্ন ঘাঁটিতে মাটি সরানো, গর্ত ভরাট এবং সুরক্ষা কাঠামো পুনর্নির্মাণের কার্যক্রমও লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর মাত্র সাত সপ্তাহের মধ্যেই এই পুনরুদ্ধার কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। অন্তত ৬৯টি ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রবেশপথের মধ্যে ৫০টিই ইতোমধ্যে পুনরায় সচল করা হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর নজর এখন ইরানের প্রায় ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের দিকে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, এই মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আরও প্রক্রিয়াজাত করা হলে তা একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদানে পরিণত হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে কিছু সংবেদনশীল স্থাপনায় অতিরিক্ত কংক্রিটের আবরণ, মাটির সুরক্ষা স্তর এবং নতুন প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো নির্মাণের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও পারমাণবিক স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত টানেল এলাকাগুলোতে এই কার্যক্রম বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয় এবং সংঘাত আবার শুরু হয়, তাহলে ইরান আগের তুলনায় অনেক দ্রুত দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে সক্ষম হতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ
অমিয়/