রাজধানীর নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’র প্লে-গ্রুপের চার বছরের শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার স্কুলটির ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাকে রিমান্ড নেওয়ার আবেদন শুনানির জন্য দিন আগামি ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এ আদেশ দেন।
শিশু নির্যাতন আইনে দায়ের করা মামলায় বিকেলে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর ইসলাম আসামিকে পাঁচদিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, একাডেমির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় শিশুটিকে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। পলাতক প্রিন্সিপাল শারমিন জাহানকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোমলমতি শিশুটিকে নির্যাতন করার কারণ ও রহস্য উদঘাটন করাসহ পলাতক অপর আসামির সম্পর্কে তথ্য জানতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
তবে, শুনানির সময় তদন্ত কর্মকর্তা এজলাসে হাজির না থাকায় আগামি ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
আদালতের প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রোকনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২২ জানুয়ারি নির্যাতিত শিশুটির মা শারমিন ফেরদৌসী বাদী হয়ে পল্টন থানায় শিশু আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১১ জানুয়ারি ভুক্তভোগী শিশু ফারয্ বিন আমানকে (৪) ওই একাডেমিতে প্লে-গ্রুপে ভর্তি করানো হয়। ১৮ জানুয়ারি সকালে তাকে স্কুলে দিয়ে আসেন তার মা। দুপুর ১টায় স্কুলে গিয়ে তিনি দেখেন, প্রচণ্ড ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তার সন্তান কাঁদছে। প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান শিশুটির হাত চেপে ধরে আছেন, পাশে বসে আছেন তার স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া।
বাসায় ফিরে সে বারবার কান্না করে বলে, “মা মিস আমাকে মেরেছে, আংকেল মারছে, আমি কিছু করি নাই, আমি তোমাদের বলে দিলে গলায় পাড়া দিবে, মুখ সেলাই করে দিবে। আমি আর স্কুলে যাবো না।”
পরে শিশুর বাবা-মা স্কুলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। তাতে দেখা যায়, প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান শিশুটিকে টেনে হিঁচড়ে অফিসে নিয়ে গিয়ে অনবরত মুখে ও গালে চড়-থাপ্পড় মারছেন। একপর্যায়ে পবিত্র কুমার বড়ুয়া শিশুটির মুখে স্ট্যাপলার ঢুকিয়ে দেন। সোফার সঙ্গে চেপে ধরে অমানুষিক নির্যাতন করেন।
নির্যাতনের ফলে মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছে। কানেও কম শুনতে পাচ্ছে। পরে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি ও স্কুলটির অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপাল) শারমিন জাহান পলাতক।
এম এ জলিল উজ্জ্বল/