ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কসবায় হজযাত্রীর লাগেজ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ নিখোঁজ নাটকের অবসান, ‘গুপ্ত’ ছিলেন শিবির নেতা জিসান! যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পর ঐক্যের গান গাইলেন পচেত্তিনো মীনা বাজারে চাকরির সুযোগ, শুক্র-শনিবার ছুটি ইংল্যান্ডের ফুটবল ও বুট চুরি করল কে? গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ মদে ট্যাক্স বাড়ানোই বিরোধী দলের দুঃখ: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার বাজেটে জনগণের স্বস্তি হলেও বিরোধী দলের অস্বস্তি: প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ইউপি কার্যালয়ে চুরি শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কুইজ ও রিচার্জ অফার, থাকছে জামাল ভূঁইয়ার সাথে খেলা দেখার সুযোগ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বিশেষ আয়োজন জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গাড়ি ভেঙে ইংল্যান্ড দলের সরঞ্জাম চুরি, গ্রেপ্তার ২ কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি বোয়ালমারীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা যদি এই ছবিগুলো আপনি না দেখে থাকেন শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারক? কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী, চকরিয়া-পেকুয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি কক্সবাজারের ‘পাতলী খাল’ পুনর্খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত যেভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হলেন মাস্ক এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ
Nagad desktop

দৃষ্টিনন্দন অ্যাজালিয়া

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১১:২০ এএম
দৃষ্টিনন্দন অ্যাজালিয়া
ময়মনসিংহের কাচারিঘাটের নার্সারিতে অ্যাজালিয়া ফুল। ছবি:  লেখক

বসন্তের আগমনে প্রকৃতির রূপ পাল্টে দিতে যে কয়টি ফুলের নাম সবার আগে আসে। অ্যাজালিয়া  তাদের মধ্যে অন্যতম। এর বৈজ্ঞানিক নাম Rhododendron indicum। এটি  Ericaceae পরিবারের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং দৃষ্টিনন্দন উদ্ভিদ। পাহাড়ের ঢাল থেকে শুরু করে ড্রইংরুম ও বারান্দার টবে, সবখানেই এর উজ্জ্বল উপস্থিতি মন জয় করে নেয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শেষের কবিতা উপন্যাসে লিখেছেন,
‘প্রভাতবেলায় হেলাভরে করে
অরুণকিরণে তুচ্ছ
উদ্ধত যত শাখার শিখরে
রডোডেনড্রন গুচ্ছ। ’

অ্যাজালিয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় উল্লেখিত  হিমালয় অঞ্চলের রডোডেনড্রন নয়।

অ্যাজালিয়া মূলত এশিয়া, বিশেষ করে চীন ও জাপানের আদি উদ্ভিদ। তবে বর্তমানে এটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এই গাছটি সাধারণত ঝোপঝাড় প্রকৃতির হয়। এর পাতাগুলো কিছুটা ডিম্বাকৃতির এবং গাঢ় সবুজ রঙের হয়ে থাকে। অ্যাজালিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ফুল। সাদা, গোলাপি, লাল, বেগুনি এমনকি দ্বিবর্ণের ফুলের সমারোহে এই গাছটি যখন ভরে ওঠে, তখন গাছের পাতা প্রায় দেখাই যায় না। চলতি বছরের ১২ মার্চ ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপুত্র তীরের বাংলাদেশ নার্সারি থেকে এই অ্যাজালিয়া ফুলের ছবিটি তুলেছিলাম। 

লাল, গোলাপি, কমলা এবং সাদা রঙের অ্যাজালিয়া ফুল দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। কিন্তু গাছ তত আকর্ষণীয় নয়। জীর্ণশীর্ণ গাছে যে এমন বাহারি ফুল ফুটতে পারে, তা ফুল ফোটা অবস্থায় গাছটিকে না দেখলে বোঝা যায় না। ফুলের দল ঘণ্টাকার, মুখে পাপড়িগুলো ছড়ানো। গুচ্ছবদ্ধ হয়ে অনেক ফুল একত্রে কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে ফুলদানিতে ভালো মানায়। ফুলটি এসেছে চীন, তিব্বত ও জাপান থেকে।

এই গাছের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর স্থায়িত্ব। এটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ অর্থাৎ একবার সঠিকভাবে রোপণ করতে পারলে বছরের পর বছর ফুল দিয়ে থাকে। অ্যাজালিয়া চাষের জন্য কিছুটা ধৈর্য এবং বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। এটি মূলত ছায়াপ্রিয় উদ্ভিদ। কড়া রোদে এই গাছের পাতা পুড়ে যেতে পারে, তাই আধা-ছায়া বা বড় কোনো গাছের নিচে অ্যাজালিয়া ভালো জন্মে।

হ্যাঁ, অ্যাজালিয়া গাছের সঠিক বৃদ্ধি এবং সুন্দর ফুলের জন্য অম্লীয় বা অ্যাসিডিক মাটি (pH 4.5 থেকে 6.0) অপরিহার্য। মাটিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব সার এবং বালু থাকা প্রয়োজন। যাতে পানি জমে না থাকে। এই গাছ আর্দ্রতা পছন্দ করে, কিন্তু শিকড়ে পানি জমে থাকা এর জন্য ক্ষতিকর। নিয়মিত হালকা পানি দেওয়া জরুরি। কলম করার মাধ্যমে বা ডাল কেটে খুব সহজেই এর বংশবিস্তার করা যায়। বর্ষাকাল অ্যাজালিয়ার চারা তৈরির উপযুক্ত সময়।

আধুনিক গৃহসজ্জায় অ্যাজালিয়ার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। বিশেষ করে যারা ইনডোর প্ল্যান্ট পছন্দ করেন, তাদের তালিকায় অ্যাজালিয়া ওপরের দিকে থাকে। এই গাছটি খুব ধীরগতিতে বাড়ে বলে এটি বনসাই তৈরির জন্য আদর্শ। জাপানি সংস্কৃতিতে অ্যাজালিয়া বনসাইকে ধৈর্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সঠিক ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে একে চমৎকার আকৃতি দেওয়া সম্ভব।

অ্যাজালিয়ার রয়েছে সাংস্কৃতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যাজালিয়ার ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকী অর্থ রয়েছে। জাপান ও চীনে এটি সৌভাগ্য এবং বন্ধুত্বের প্রতীক। পাশ্চাত্যে একে নারীত্বের কোমলতা এবং আত্মসংযমের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  বিশ্বের অনেক দেশেই বসন্তকালে ‘অ্যাজালিয়া ফেস্টিভ্যাল’ পালিত হয়, যেখানে হাজার হাজার প্রজাতির অ্যাজালিয়া প্রদর্শিত হয়।

অ্যাজালিয়া দেখতে যতটা সুন্দর, ততটাই এটি বিপজ্জনক হতে পারে। এই উদ্ভিদের পাতা এবং ফুলে গ্রায়ানোটক্সিন  নামক এক ধরনের বিষ থাকে। ভুলবশত এর পাতা বা ফুল খেয়ে ফেললে মানুষ বা পোষা প্রাণীর বমি ভাব, মাথা ঘোরা এমনকি শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তাই বাড়িতে ছোট শিশু বা পোষা প্রাণী থাকলে গাছটি সাবধানে রাখা উচিত।

অ্যাজালিয়া কেবল একটি ফুল নয়, এটি প্রকৃতির এক নিপুণ শৈল্পিক সৃষ্টি। সঠিক যত্ন এবং ভালোবাসায় একটি অ্যাজালিয়া গাছ আপনার বাগান বা ঘরকে স্বর্গের মতো সুন্দর করে তুলতে পারে। বসন্তের মিষ্টি রোদে যখন এই ঝোপালো গাছটি রঙিন ফুলে ছেয়ে যায়, তখন তা যেকোনো মানুষের ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তি এনে দিতে যথেষ্ট।   

লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি কলেজ, ময়মনসিংহ

রমনার বন আসরা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
রমনার বন আসরা
রমনা উদ্যানে সম্প্রতি ফুটেছে বন আসরা ফুল। ছবি: লেখক

রাজধানীর রমনা উদ্যানে দুটি গাছ আছে, যা বেশ বড়সড়, অথচ তা জবাগোত্রীয়। ফুলের গড়নে জবার সঙ্গে মিল থাকলেও অন্য আর কিছুর সঙ্গেই মিল নেই। গাছ দুটি হলো কাশিপালা ও বন আসরা। গাছ দুটির দিকে তাকালেই নিসর্গপুত্র দ্বিজেন শর্মার কথা মনে পড়ে।

রমনা উদ্যানে তিনি সিলেটের পাহাড় থেকে নানা প্রজাতির গাছের চারা তুলে এনে লাগাতেন। গাছগুলোর বেশির ভাগই কিছুদিন পর যত্নের অভাবে বা অরক্ষিত থাকায় মরে যেত, কিছু গাছ দাঁড়িয়ে যেত। সেসব গাছ বৃক্ষ হয়ে এখন তাঁর সেসব স্মৃতির কথা কইছে। বন আসরা গাছটির অবস্থান রমনা উদ্যানের লেকের পাড়ে। লেক ভ্রমণের বোটগুলোকে ওখান থেকে ছাড়া হয়। বছর দশেকের বেশি হবে।

রমনায় একদিন দ্বিজেন শর্মার সঙ্গে কয়েকজন মিলে হেঁটে হেঁটে গাছ দেখতে দেখতে এই বন আসরা গাছটিকে চোখে পড়েছিল। গাছের গোড়ার দিকটা আগুনে ঝলসে গেছে, গোড়া থেকে গজানো ডালপালার পাতাগুলোও পুড়ে গেছে। রমনা তখন এখনকার মতো রূপসী ছিল না। সেই আহত ও দগ্ধ গাছটির কাছে দাঁড়িয়ে তিনি হাহাকার করে উঠেছিলেন, বলেছিলেন, ‘গাছের সঙ্গে এমন অন্যায় কেউ করে? গাছ তো মায়ের মতন, তাকে কেউ এভাবে পোড়ায়? জানি না, কোন হতভাগার দল এখানে কী রেঁধে বনভোজন করে গেছে! এখনো সেই গাছটির কাছে গেলে সেসব কথা মনে পড়ে।

বুনোগাছ হলেও বন আসরার এই একটি গাছই রমনা উদ্যানে আছে। কিন্তু কখনো এর অনিন্দ্য রূপসী মেমসাহেবের মতো ফর্সা ফুলগুলোকে দেখার সুযোগ হয়নি। এ বছরও সে গাছে ফুল ফুটেছে। গত ৭ জুন সকালবেলায় সে গাছটিতে ফুলের দেখা পেলাম। পরপর দুদিনে আরও বেশি ফুল দেখলাম। একটি দুটি না, ডালে ডালে অনেক ফুল ফুটেছে। কুঁড়িগুলো দেখে মনে হলো কয়েকদিনে আরও ফুল ফুটবে। আহা, ফুল কী চমৎকার! ঘিয়া রঙের বড় বড় মাইকের মতো ফুল, ফুলের বোঁটার কাছে ঝালরের মতো হালকা সবুজ অঙ্গ, বৃতিগুলো যেন ছিল কলার খোসা। এদিক দিয়ে মুচকুন্দ ফুলের সঙ্গে এর কিছুটা মিল আছে। প্রচুর মৌমাছি উড়ছে ফুলে।

বন আসরা এ গাছের স্থানীয় বাংলা নাম, ইংরেজি নাম Indian Kapok ও উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম  Pterospermum semisagittatum ও গোত্র মালভেসি। প্রজাতিগত নামের প্রথমাংশ টেরোস্পার্মাম–এর অর্থ ডানাযুক্ত বীজ এবং শেষাংশের অর্থ আংশিক বর্শার ফলার মতো আকৃতিবিশিষ্ট পাতা। বন আসরা বনের গাছ, এ দেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের অরণ্যে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে। রমনা উদ্যানের গাছটি মাঝারি আকারের বৃক্ষ প্রকৃতির।

আবহাওয়া ও অবস্থানভেদে গাছ পর্ণমোচী বা চিরসবুজ হতে পারে; গাছ ১৫ থেকে ২৫ মিটার লম্বা হতে পারে। গোড়া থেকে বেশ খানিকটা অংশের কাণ্ডে কোনো শাখা থাকে না। বীজ থেকে চারা হয়। পাতাগুলো কিছুটা ছুরি বা তলোয়ারের আগার মতো, পাতার ওপরের পিঠ সবুজ ও কিছুটা মসৃণ হলেও নিচের পিঠ রূপালি সবুজ ও খসখসে। এর কাণ্ড সোজা ও শক্ত হয়। গুড়ি বা কাণ্ডে বাকল ওঠা ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়।

বন আসরার কুঁড়িগুলোও বেশ ব্যতিক্রম, লম্বা খাঁজযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রের মতো। গাছের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ফুল। এর ফুলগুলো রাতের বেলা ফোটে, যার সাদা পাপড়ি ও হালকা সবুজ বৃতি দেখতে অসাধারণ লাগে। ভোরে ফুলগুলো মলিন হতে শুরু করে। ফুলগুলো সুগন্ধযুক্ত এবং নিশাচর পাখি ও কীটপতঙ্গকে আকৃষ্ট করে।

প্রাচীনকাল থেকেই এর শক্ত কাঠ গৃহনির্মাণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর লালচে-ধূসর কাঠ ভারী, বেশ শক্ত ও টেকসই। এটি কুড়ালের হাতল তৈরি করতে ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যে বাড়ির স্তম্ভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয়ভাবে চিবানোর জন্য এবং আঁশ ও কাঠের উৎস হিসেবে ব্যবহারের জন্য বন্য পরিবেশ থেকে এ গাছ সংগ্রহ করা হয়। সুপারির বদলে পানের সঙ্গে চিবানোর জন্য এর ছাল ব্যবহার করা যায়। ডালের বাকল খুব শক্ত, টেনে ছেঁড়া বা ছুরি দিয়ে সহজে কাটা যায় না।

এজন্য বন আসরার বাকলের আঁশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের দড়ি ও তন্তু তৈরি করা হয়। বনজীবীরা বন থেকে কাঠ কেটে আঁটি বাঁধার জন্য এ গাছের বাকল ব্যবহার করে। এটি একটি ঔষধি উদ্ভিদ, যা জ্বর, কাশি, মাথাব্যথা, চর্মরোগ ও প্রদাহের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। আধুনিক ফার্মাকোলজিক্যাল গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং মেজাজ ঠিক রাখতেও সহায়ক হতে পারে। 

লেখক: কৃষিবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ

কুরমা অভয়াশ্রমের হলদে-চোখ ছাতারে

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
কুরমা অভয়াশ্রমের হলদে-চোখ ছাতারে
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কুরমা চা-বাগানের গুল্মের ডালে শেষ বিকেলে সংকটাপন্ন হলদে-চোখ ছাতারে পাখি। ছবি: লেখক

হলদে চোখের বিরল ও সংকটাপন্ন পাখিটিকে প্রথম দেখি সাত বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি গ্রামের এক ভুট্টাখেতে। কিন্তু তার অতিরিক্ত চঞ্চলতা ও দ্রুত চলে যাওয়ার কারণে সেদিন ছবি তুলতে পারিনি। দুই বছর পর পাখিটিকে ফের দেখলাম মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা চা-বাগানের এক চিলতে ঘাসবন ও ঝোপঝাড়ে। এরপর থেকে অন্তত একবছর পাখিটিকে কুরমায় দেখেছি, প্রায় প্রতিবার যখন ওখানে গিয়েছি। বহু ছবি তুলেছি ওর। কিন্তু হার্ড ড্রাইভ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেসব ছবি হারিয়ে গেছে চিরতরে। কুরমার সেই জায়গাটি এখন এক চিলতে অভয়ারণ্য। নাম কুরমা পক্ষী অভয়াশ্রম। তবে অভয়াশ্রম হলেও বর্তমানে ওখানে তেমন একটা পাখির দেখা মিলছে না। চা-বাগান কর্তৃপক্ষ ঝোপঝাড় কেটে ফেলায় ভয় পেয়ে পাখিরা সেই যে চলে গেল, এখন পর্যন্ত আর ফিরে এল না, বিশেষ করে পরিযায়ী পাখিগুলো। দেশি আবাসিক পাখিদের সংখ্যাও কমে গেছে। এ বছরের ২৪ জানুয়ারি রাজকান্দির সংরক্ষিত বনের আদমপুর বিটে পাখি পর্যবেক্ষণ শেষে কুরমার বর্তমান অবস্থা দেখার জন্য বিকেলে সেখানে গিয়েছিলাম।
 
আকারে ক্ষুদ্র হলেও একসময় কুরমা পক্ষী অভয়াশ্রমটি ছোট ছোট বীজভুক পাখিদের স্বর্গরাজ্য ছিল। লাল মুনিয়া, লালগলা ফিদ্দা, চিনা লালগলা ফিদ্দা, বঘেরি, কালোমাথা বঘেরি, হলদেবুক বঘেরি, খয়েরিকান বঘেরি, মদনটাক এবং হলদে চোখের পাখিসহ প্রায় আশি প্রজাতির পাখি দেখেছি ওখানে। কিন্তু জানুয়ারিতে ওখানে গিয়ে ২-৩ প্রজাতির বেশি পাখি দেখলাম না। তাই ওখান থেকে আরেকটু সামনের দিকে বাগানের সবচেয়ে উঁচু স্থানটিতে গেলাম। সেখানে ছোট যে ঝোপটি রয়েছে, ওখানে বুলবুলি, ফিঙ্গে, বাদামি কসাই ও অল্প কিছু সাধারণ পাখি দেখলাম। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা প্রায় হয় হয়। এমন সময় কোত্থেকে যেন হলদে চোখের পাখিটি এসে হাজির হলো। তবে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য। এই সময়ের জন্য ৪-৫ বার ক্লিক করতে পারলাম। ছবি বেশি তুলতে না পারলেও বিরল পাখিটিকে যে ওখানে দেখলাম, তাতেই আমি খুশি। কারণ এর আগে বেশ কয়েকজন বার কয়েক গিয়েও পাখিটির দেখা পাননি। সন্ধ্যা হয়ে এল, তাই সঙ্গে আনা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে পাখিপ্রেমী রূপকের দোকানে জিলাপি খাওয়ার জন্য চলে গেলাম। 

এতক্ষণ বিরল ও সংকটাপন্ন যে পাখিটির কথা বললাম, সে এদেশের এক প্রজাতির আবাসিক পাখি হলদে-চোখ ছাতারে। বাগেরহাট জেলায় পাখিটি ‘সাদা মইনে’ নামে পরিচিত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বলে গুলাবচশম। ওর ইংরেজি নাম Yellow-eyed Babbler। প্যারাডক্সওরনিথিডি (Paradoxornithidae) গোত্রের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Chrysomma sinense (ক্রাইসোমা সাইনেনস)। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাখিটির দেখা মেলে।

হলদে-চোখ ছাতারের দেহের দৈর্ঘ্য ১৮ সেন্টিমিটার। ওজন ১৯ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। দেহের উপরটা লালচে-বাদামি। থুতনি-গলা-বুক সাদা; পেট-তলপেট হলদেটে সাদা। শক্ত মোটা ঠোঁটটি কালো। চোখের চারদিকের বলয় কমলা হলেও মনি হলুদ। পা ও পায়ের পাতা হলুদ। লেজ লম্বা। অপ্রাপ্তবয়ষ্ক পাখির পিঠ বেশি লালচে ও ঠোঁট বাদামি।  

প্রজাতিটি মূলত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা, তবে খুলনা বিভাগ ও উত্তরবঙ্গেও কোথাও কোথাও দেখা যায়। সচরাচর জলাসংলগ্ন লম্বা ঘাস ও ঝোপঝাড়ে এরা বাস করে। বেশ লাজুক। জোড়ায় বা ছোট দলে ঝোপঝাড় বা গাছের গোড়ার দিকে আড়ালে-আবডালে ঘুরে বেড়ায়। উঁচু ঘাসের আড়ালে খাবার খোঁজে। কীটপতঙ্গ, শুককীট, রসালো ফল ও ফুলের রস খায়। সুমধুর কণ্ঠে ‘চিপ-চিপ-চিপ…’ শব্দে ডাকে।

জুন থেকে নভেম্বর প্রজননকাল। এ সময় ভূমির কাছাকাছি আখ, পাট বা অন্যান্য ঘাসের কাণ্ডে ঘাস দিয়ে গোলাকার বাসা বানায়। লালচে-বাদামি ছিটছোপসহ ঘিয়ে-সাদা রঙের ৩ থেকে ৫টি ডিম পাড়ে। ডিম ফোটে ১৫-১৬ দিনে। ছানারা ১৩ দিন বয়সে উড়তে শিখে ও বাসা ছাড়ে। আয়ুষ্কাল ৫ থেকে ৮ বছর। 

লেখক: পাখি ও বন্যপ্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এবং অধ্যাপক গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শখ থেকে স্বাবলম্বী গৃহবধূ, ঘরের ছাদ যেন ক্যাকটাস রাজ্য

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
শখ থেকে স্বাবলম্বী গৃহবধূ, ঘরের ছাদ যেন ক্যাকটাস রাজ্য
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে গৃহবধূ কারিশমা আমরিন রুনার ব্যতিক্রমী ছাদবাগানে ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট দেখছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ইউটিউব দেখে ব্যতিক্রমী এক ছাদবাগান করেছেন গৃহবধূ কারিশমা আমরিন রুনা। তার এই শখের বাগানটি এখন বিরল গাছের এক বিশাল সাম্রাজ্য হয়ে উঠেছে। তার ছাদবাগানে এখন রয়েছে প্রায় হাজার প্রজাতির ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট ও দৃষ্টিনন্দন ইনডোর প্ল্যান্ট। শখের বশে শুরু করলেও তিনি এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। স্থানীয় কৃষি বিভাগ তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

জানা গেছে, পাঁচবিবি রেলস্টেশন রোডের বাসিন্দা ইমন হোসেনের স্ত্রী গৃহবধূ কারিশমা আমরিন রুনা। তিনি স্থানীয় একটি স্পেশাল চাইল্ড বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। করোনা মহামারির সময় তার স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। সেই ঘরবন্দি সময়ে ইউটিউব দেখে অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা জাতের ক্যাকটাস সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর বাড়ির ছাদে ছোট পরিসরে শুরু করেন ছাদবাগান। সংসারের কাজের পাশাপাশি তিনি বাগানের যত্ন নিতেন।

ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিরল প্রজাতির ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট সংগ্রহ করেন রুনা। এখন তার পুরো ছাদ জুড়ে বিভিন্ন ধরনের পাতাবাহার, লতাবাহার, বনজ ও ফলজ গাছের সামরোহ। তবে হাজার প্রজাতির ক্যাকটাস ও সাকুলেন্টই মানুষের নজর কাড়ছে বেশি। প্রতিদিন অনেকে এই বাগান দেখতে আসেন, কেউ কেউ আসেন গাছ কিনতে। পাশাপাশি তিনি অনলাইনেও গাছ বিক্রি করে ভালো লাভ করছেন। তাকে দেখে এখন অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বাড়াতেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখছে।

পাঁচবিবি পৌর শহরের চামড়া গুদাম এলাকার শবনম আরা সানি বলেন, ‘আমি কারিশমা আমরিন রুনা আপুর ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করে কয়েকটা ক্যাকটাস গাছ কিনেছি। পরে বাগান দেখার আগ্রহ থেকে এখানে এসেছি। সাধারণত ছাদবাগানে ফুলের গাছ দেখা যায়। কিন্তু এখানে এসে অনেক রকম ক্যাকটাস দেখলাম। আমার খুব ভালো লেগেছে।’

স্টেশন রোড এলাকার আরজু আরা শাম্মি বলেন, ‘এই বাগানে এসে নানা প্রজাতির ক্যাকটাস গাছ দেখলাম। এসব সাধারণত রংপুর, রাজশাহীতে পাওয়া যায়। কিন্তু এখান থেকে কিনতে পেরে আমি অনেক খুশি। রুনা আপা গৃহবধূ হয়েও উদ্যোক্তা হয়ে আয় করতে পারছেন। আমারাও এখান থেকে শিখে নিজে এমন উদ্যোগ নিতে পারি।’

মালঞ্চা এলাকার সাব্বির হোসেন বলেন, ‘এই ছাদবাগান দেখে আমি মুগ্ধ। এখানে এত সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যে সবার চোখ জুড়িয়ে যাবে। আমার জীবনে একসঙ্গে এত প্রজাতির ক্যাকটাস আগে কখনো দেখিনি। আমি নিজেও দুটি গাছ কিনেছি।’

উদ্যোক্তা কারিশমা আমরিন রুনা বলেন, ‘করোনা মহামারির সময় বাসায় বসে থাকার সময় শখের বশে ইউটিউব দেখে কয়েকটি ক্যাকটাস গাছ কিনে ছাদবাগান শুরু করি। এরপর দিন দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা প্রজাতির গাছ কিনে বাগান বড় করি। এখন আমার এখানে হাজার প্রজাতির ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট ও সুন্দর ইনডোর প্ল্যান্ট আছে। এ থেকে আমার মাসে মোটামুটি ভালো আয় হয়। অনলাইনে যোগাযোগ করে অনেকে কেনেন, আবার কেউ কেউ এখানে এসেও নিয়ে যান।’

পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি অফিসার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সচরাচর দেখি ছাদবাগানে শাক-সবজি বা ফুলের চাষ হয়। কিন্তু পাঁচবিবির গৃহবধূ রুনা তার ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাসসহ বিরল প্রজাতির গাছ লাগিয়েছেন। ছাদবাগান করেও যে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, রুনা তার দৃষ্টান্ত উদাহরণ। আমরা উদ্যোক্তাকে বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে থাকি। নতুন করে কেউ যদি এমন বাগান করতে চান, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব।’

বিল-ঝিলে পদ্ম ও শাপলার মায়াবী রূপ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
বিল-ঝিলে পদ্ম ও শাপলার মায়াবী রূপ
ছবি: সংগৃহীত

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে বর্ষার আগমনী বার্তার সাথে সাথেই বদলে যায় প্রকৃতির ক্যানভাস। দেশের মাঠ-ঘাট, পুকুর-ডোবা আর বিল-ঝিল মুখরিত হয়ে ওঠে নানা রঙের জলজ উদ্ভিদে।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের জলাশয়গুলোতে কয়েকশো প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ জন্মে, যার মধ্যে প্রায় ১৩০টি প্রজাতিই সপুষ্পক। আর এই জলজ ফুলের রাজ্যে সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে পদ্ম এবং আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা।

শুভ্রতার প্রতীক 'পুন্ডরিক' বা পদ্ম

জলজ ফুলের রানী বলা চলে পদ্মকে। চমৎকার সুগন্ধি এই ফুলের আরেকটি পরিচিত নাম ‘পুন্ডরিক’। পদ্মের পাতার গঠন অনেকটা শাপলার মতো হলেও এটি পেয়ালা আকৃতির এবং পানির ওপর আলতো করে জেগে থাকে।

পদ্মের প্রতিটি অংশের রয়েছে আলাদা নাম ও নান্দনিকতা। পানির নিচ থেকে উঠে আসা পদ্ম ফুলের ডাঁটিকে বলা হয় ‘মৃণাল’। আর এর কচি পাতার নাম ‘সংবর্তিকা’। সাধারণত বর্ষাকালে এই ফুলের সমারোহ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, যা যেকোনো বিল বা পুকুরকে এক মায়াবী রূপ দেয়।

রাতের স্নিগ্ধতায় ফোটে শাপলা, মাধুরী ছড়ায় দিনে

বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা সাধারণত দুই প্রজাতির দেখা যায়—ধবধবে সাদা এবং আকর্ষণীয় লাল। শাপলার বৈশিষ্ট্য হলো, এটি রাতের স্নিগ্ধতায় ডানা মেলে, তবে এর রূপের মাধুরী ও সৌন্দর্য ছড়ায় দিনের আলোতেও। একসাথে যখন বিশাল বিলজুড়ে অসংখ্য শাপলা ফুটে থাকে, তখন চারপাশের পুরো পরিবেশটাই বদলে যায়।

শাপলার শেকড় থাকে পানির নিচে কাদার গভীরে। লম্বা নালের ওপর ভর করে ফুলটি পানির ওপরে তার রূপের শোভা ছড়ায়। এর পাতার গোড়ার দিকটা দেখতে অনেকটা হৃদপিণ্ডের মতো এবং পাতার চারপাশটা থাকে ঢেউ খেলানো। রোদ ঝলমলে দিনে শাপলার রূপ যেমন খোলে, তেমনি ছায়া ঘেরা পুকুরের শান্ত পরিবেশেও এর সৌন্দর্য অন্যরকম এক শান্তি জোগায়।

শুধু রূপ নয়, গুণে ও ঔষধি গুণে অনন্য


জাতীয় ফুল শাপলা শুধু চোখের দেখাতেই সুন্দর নয়, এর রয়েছে দারুণ অর্থনৈতিক ও ঔষধি গুণ। শাপলার পুষ্পনল (ডাঁটা) আমাদের দেশে সবজি হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। গ্রামীণ অর্থনীতি ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এছাড়া শাপলার ফুল, কন্দ (শালুক) এবং বীজ বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

রক্তোৎপল: লালের মাঝে মায়ার ছোঁয়া


লাল রঙের যে শাপলা আমাদের চোখে পড়ে, তার আরেকটি সুন্দর নাম ‘রক্তোৎপল’। দেখতে দূর থেকে পদ্ম ফুলের মতো মনে হলেও এটি মূলত লাল শাপলা। এই প্রজাতির শাপলার নাল বা ডাঁটা প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং এর পাতার ব্যাস হয় ১০ থেকে ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত।

স্বভাবে কোমল ও রঙে উজ্জ্বল এই ফুলের লালের মাঝে এক ধরণের হালকা ও গাঢ় রঙের মিশ্রণ থাকে, যা সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

জলে জন্ম নিলেও জলকে ছাপিয়ে এই ফুলগুলো প্রকৃতিতে যে মায়াবী রূপ আর সুবাস ছড়িয়ে দেয়, তা বাংলার রূপকে পৃথিবীর বুকে অনন্য করে তুলেছে। বর্ষা আর শরতের এই জলজ রূপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির সাথে মানুষের আত্মিক বন্ধনের কথা।

আমান/

পাঁচ বছর না খেয়েও যেভাবে বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের প্রাণী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২১ পিএম
পাঁচ বছর না খেয়েও যেভাবে বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের প্রাণী
আইসোপড

গভীর সমুদ্রের এক ধরনের বিশালাকার আইসোপড কীভাবে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কোনো খাবার ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে, সেই রহস্য উন্মোচন করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।
চীনের শানতোং প্রদেশের ছিংতাওয়ে অবস্থিত চীনা বিজ্ঞান একাডেমির সমুদ্রবিজ্ঞান সংস্থা, হংকংয়ের দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি এবং নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সেল-এ প্রকাশিত হয়েছে।
সুপারজায়ান্ট আইসোপড দেখতে অনেকটা বাগানে পাওয়া সাধারণ পিল বাগের বিশাল সংস্করণ। গভীর সমুদ্রের খাদ্যসংকটপূর্ণ পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এদের রয়েছে বিশেষ অভিযোজন ক্ষমতা।

 


চীনা গবেষকদের মতে, এই প্রাণী দুটি কৌশল ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় খাদ্য ছাড়াই বেঁচে থাকে। প্রথমত, এর পাকস্থলী শরীরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত, যা একটি বিশাল খাদ্যভান্ডারের কাজ করে। খাদ্য পাওয়া গেলে এটি প্রচুর পরিমাণে খেয়ে সেই খাদ্য বছরের পর বছরও সংরক্ষণ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, এদের বিপাকীয় হারও কম। ফলে শরীর খুব ধীরে শক্তি খরচ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি ধরে রাখতে পারে।
গবেষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ছিল এনডি-১ নামের একটি জিন, যা আইসোপডের নিজস্ব জিন নয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, জিনটি একটি সহাবস্থানকারী ব্যাকটেরিয়া থেকে ‘হরাইজন্টাল জিন ট্রান্সফার’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইসোপডের জিনোমে এসেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক ইউয়ান চিয়ানবো বলেন, এটি অনেকটা এক জীব থেকে অন্য জীবের মধ্যে উপকারী ডিএনএ সরাসরি স্থানান্তরের মতো।
গবেষকরা জেব্রাফিশ, নেমাটোড এবং মানব কোষে এনডি১ জিন প্রবেশ করিয়ে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন। দেখা যায়, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এই জিন শক্তি খরচ বাড়িয়ে দেয় এবং অনাহার সহ্য করার ক্ষমতা কমায়। তবে গভীর সমুদ্রের মতো নিম্ন তাপমাত্রায় জিনটি ঠিক উল্টোভাবে কাজ করে।
শীতল পরিবেশে এনডি১ জিন বিপাক কমিয়ে দেয়, কোষের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া ধীর করে এবং জেব্রাফিশের অনাহার সহ্যক্ষমতা ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, ওই জিনটি একটি জৈবিক ‘থার্মোস্ট্যাট’-এর মতো কাজ করে, যা পরিবেশ অনুযায়ী শক্তি ব্যবহারের হার নিয়ন্ত্রণ করে। 
গবেষকদের ধারণা, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে বার্ধক্যজনিত গবেষণা, স্থূলতার চিকিৎসা এবং জলজ প্রাণীর উন্নত প্রজনন প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

সূত্র: সিএমজি