হাদি হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের পদযাত্রায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হামলা চালান। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে রাজধানীতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সাংবাদিকরা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে অংশ নিয়ে নিজের ওপর হামলার ঘটনা বর্ণনা করেন দৈনিক যুগান্তরের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবু সালেহ মুসা।
তিনি বলেন, ‘যখন ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়, তখন আমি লাইভে ছিলাম। নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সেটি লাইভে বলার কারণে এক পুলিশ সদস্য আমাকে আঘাত করেন। আমি পড়ে গেলে কয়েকজন সদস্য আমাকে ঘিরে ধরে আবারও আঘাত করেন। গলায় আইডি কার্ড ও হাতে বুম থাকার পরও তারা হামলা চালিয়েছে। পরে তারা বলে, বুঝতে পারেনি আমি সাংবাদিক। এর আগেও গণমাধ্যমের ওপর এমন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছোট একটি বিবৃতি দিয়ে তারা দায় এড়িয়ে যায় এটি দিয়ে আমরা কী করব? যেসব পুলিশ সদস্য আমাদের ওপর হাত তুলেছেন, তারা অনেকের চেয়ে জুনিয়র হলেও তাদের এক ধরনেরভাবে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো বিবৃতি বা দুঃখ প্রকাশ নয়, পারলে বিচার করুন আমরা তা তুলে ধরব।’
বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ জাকারিয়া ইউসুফ বলেন, ‘২০২২-২৩ সালে শেখ হাসিনার শাসনামলে পেটোয়া বাহিনী ছাত্রলীগ-যুবলীগ আমাদের দুই সহকর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছিল, তার প্রতিবাদে আমরা প্রতিবাদ করেছি। একইভাবে এবার শুধুমাত্র ভিডিও ধারণ করার কারণে হামলা চালানো হলো। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পুলিশ সদস্য ল্যাং মেরে এক চিকন যুবক সাংবাদিককে ফেলে দিলেন। এই ল্যাং শুধু ওই সাংবাদিককে নয়, আমাদের পুরো গণমাধ্যমকেই আঘাত করেছে।’
সাংবাদিক নিরাপত্তা চেয়ে আদালতে রিট করা হবে এমন প্রসঙ্গ তুলে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিবেদক আলী আজগর ইমন বলেন, ‘আপনারা চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট করতে পারি। নির্বাচনের আগে ঢাকার মতো জায়গায় যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে নির্বাচনের পর সারাদেশে কী ঘটতে পারে তা ভেবে দেখুন। আমরা বলতে চাই, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে দেখান যে আপনারা ন্যায়ের পক্ষে আছেন।’
টাইমস টুডের মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ অন্তু মুজাহিদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যদি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, প্রয়োজনে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো। শিগগিরই আমরা প্রেস সচিবসহ প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করব।’
বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন বাংলাভিশনের প্রতিবেদক কেফায়েত শাকিল বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০ জনের বেশি সাংবাদিক আহত হয়েছেন। একজন সাংবাদিকের প্রতিও আমরা পেশাদার আচরণ দেখিনি। আমরা কোনো আল্টিমেটাম দেব না, তবে আশা করি সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।’
এ সময় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান, রূপালী বাংলাদেশের হেড অব মাল্টিমিডিয়া মো. রহমতুল্লাহসহ অন্যান্যরা।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর লাঠিচার্জ ও ল্যাং মেরে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।
আরিফ/রিফাত/