প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনে কোনো সংঘাত চাই না। মানুষ তার ইচ্ছামতো ভোট দেবে। ইনশাল্লাহ ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আমরা সফল হব। জনতার জয় হবে।
বুধবার (৩ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে (ভার্চুয়ালি) পাঁচটি জেলা ও একটি উপজেলায় দলের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খবর ইউএনবির
নির্বাচনি জনসভা জেলা ও উপজেলাগুলো হলো গাইবান্ধা, রাজশাহী জেলা ও মহানগর, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা জেলা ও মহানগর এবং চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা। সভা শেষে আওয়ামী লীগ সভাপতি এসব অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “আজকে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের প্রার্থী আছেন। সেই সঙ্গে আমরা আমাদের নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আমাদেরই স্লোগান- ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব।’ কাজেই আপনাদের পছন্দমতো ভোট দেবেন। কোনো রকম সংঘাত আমি চাই না। কোনো রকম কোনো দুর্ঘটনা বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব যেন না থাকে। প্রত্যেককে সহনশীলতা দেখাতে হবে। সেই পরিবেশটা আমাদের রক্ষা করতে হবে। আমি চাই এই নির্বাচন সত্যিকারভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে; যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবাইকে মনে রাখতে হবে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক খেলা খেলতে চায়। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না, তারা জয় বাংলা স্লোগান ও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করে। তারা দেশকে ধ্বংস করে দেবে। তারা এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে। সুতরাং আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, কেউ যেন আর এ ধরনের খেলা খেলতে না পারে তা নিশ্চিত করা।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে পেরেছে আওয়ামী লীগ সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হয়নি বলে ২০০১ সালের নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের শিকার হয় আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি ক্ষমতায় এসেই লুটপাট ও দুর্নীতি শুরু করে। বর্তমানে দলটির আগুন-সন্ত্রাসের জবাব ৭ জানুয়ারিতে ভোটের মাধ্যমে দিতে হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে। তাই সবাইকে ভোট দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আমরা সফল হব এবং জনগণই বিজয়ী হবে। আপনারা আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতীক নৌকায় ভোট দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নৃশংসতার উপযুক্ত জবাব দিন। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দেওয়া জরুরি। এটিই আমরা চাই।’
ভার্চুয়াল জনসভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সংশ্লিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা/থানা/পৌর আওয়ামী লীগ, ইউনিয়ন/ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা এবং সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর নির্বাচনি সব এলাকার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা।
প্রসঙ্গত, ২০ ডিসেম্বর সিলেট থেকে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা। ওই দিন হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরানের (রহ.) মাজার জিয়ারতের পর দলের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।