রাজধানীর সড়কে চলাচল করা জরাজীর্ণ বাসের মালিকদের ডেকেও লাভ হচ্ছে না জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, রাজধানীর সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ, জরাজীর্ণ ও রঙচটা বাসগুলো তুলে নিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও পরিবহন মালিকদের অসহযোগিতায় তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। ধাপে ধাপে এই জরাজীর্ণ বাস তুলে নিতে বিআরটিএ সম্প্রতি পরিবহন মালিকদের বারবার সময় বেঁধে দিলেও তাতে তারা কর্ণপাত করছেন না।
রবিবার (১৯ মে) সকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) আয়োজিত ঢাকা মেট্রোরেলের ব্র্যান্ডিং সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহরে যে বাসগুলো চলে তার কী গরিব গরিব চেহারা! ঢাকা শহরে যে বাস চলে তার চেয়ে আফ্রিকার ছোট শহরের বাস সুন্দর। কেন এত জরাজীর্ণ চেহারা! বিআরটিএতে বারবার মিটিং ডেকেও তো বিষয়টি সমাধান করা যাচ্ছে না।’
ঈদুল ফিতরের আগে গত ২ এপ্রিল বিআরটিএ পরিবহন মালিকদের সঙ্গে যৌথ সভার আয়োজন করেছিল। ওই সভায় ঢাকার সড়ক থেকে জরাজীর্ণ বাস সরিয়ে নিতে ৩১ মে পর্যন্ত সময় চেয়ে নেন পরিবহন মালিকরা। কিন্তু ওই সভার পরে পরিবহন মালিকরা এ ব্যাপারে জোরালো পদক্ষেপ নেননি বলে জানা গেছে।
রঙচটা কিছু বাস নতুনভাবে রঙ করে সড়কে নামানো হয়েছে। কিছু পরিবহন কোম্পানির আনফিট বাস নতুন করে বিআরটিএর ফিটনেস টেস্ট উতরে গেছে। তবে তাতে জরাজীর্ণ বাসের সংকট সমাধান হয়ে যায় না বলে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের।
রবিবারের অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের ঢাকার দুই মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও মো. আতিকুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘উত্তরের মেয়র, দক্ষিণের মেয়র- তাদের বলব এই ব্যাপারটা দেখা দরকার। আপনাদের কর্মপ্রয়াসের সঙ্গে এটি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বাংলাদেশকে স্মার্ট করতে হলে ঢাকাকে স্মার্ট করতে হবে। লিপ সার্ভিস দিয়ে তো লাভ নেই। জীর্ণশীর্ণ বাসগুলো দেখতে কেমন! আমরা লজ্জা পাচ্ছি, আমাদের মালিক সাহেবরা কী লজ্জা পান না, বিদেশে যান না!’
মেট্রোরেলের উত্তরা-টঙ্গী রুটে হবে ৫ স্টেশন
মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬৷ বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত কাজ শেষে যাত্রী চলাচল করছে। এই রুটটি বর্তমানে মতিঝিল থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এখন মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত কাজ সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানান ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক।
তিনি বলেন, ‘এ রুটের কাজ শেষ হলে মেট্রোরেল অতিরিক্ত ৫ লাখ যাত্রী বহন করতে পারবে। উত্তরা-উত্তর থেকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত এ রুটের দৈর্ঘ্য হবে ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এ রুটে হবে নতুন ৫ স্টেশন- দিয়াবাড়ী বাজার, সোনারগাঁও জনপদ রোড পূর্ব ও পশ্চিম, টঙ্গী বাজার, টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন।
এম এ এন ছিদ্দিক জানান, দিয়াবাড়ি থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মেট্রোরেল বর্ধিত করতে সমীক্ষা চলমান। মূলত টঙ্গী রেলস্টেশন এবং সড়ক জংশনকে সংযুক্ত করতে পারলে ওই অঞ্চলের মানুষের সুবিধা বাড়বে। এ পথ চালু হলে টঙ্গী থেকে কমলাপুর পর্যন্ত যাত্রাপথ হবে ৪৮ মিনিটের। এমআরটি লাইন-৬ নির্মাণের সময়ই দিয়াবাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পথ তৈরি করে রাখা হয়েছে ভবিষ্যতের কথা ভেবে। এরই মধ্যে বর্ধিত এ পথের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। দ্রুতই নকশা চূড়ান্ত করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মেট্রোরেলের এমডি বলেন, ‘পরিকল্পনা ছিল পথটি আশুলিয়া পর্যন্ত নেওয়ার। তবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে নতুন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
জয়ন্ত সাহা/ইসরাত চৈতী/অমিয়