ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সুনামগঞ্জে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত হাইড্রোলিক হর্নের অত্যাচার ও বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ‘কমল দাদার পাঠশালায়’ আদিবাসী শিশুদের পাশে ফারুক হোসেন একটি ব্রিজের অভাবে থমকে আছে জনজীবন সামাজিক অস্থিরতায় মানবতা হত্যা: প্রতিকার কোথায়? জার্মানির জয়ের নায়ক কে এই ডেনিজ উন্দাভ? অস্ট্রেলিয়ার দাপুটে জয়ে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ বাংলাদেশে সমৃদ্ধি ও বঞ্চনার পাহাড় গ্যালাক্সি ওয়াচে যেভাবে ব্যবহার করবেন গুগল ওয়ালেট শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাসুদ চৌধুরী রিমান্ডে বাজার ছিল যার ঠিকানা, পরিচয় রয়ে গেল অজানা স্বাগতিকদের সিরিজ পরাজয়ে গ্যালারিতে দর্শক ফাঁকা কেন মন্টেরি স্টেডিয়াম পরিষ্কার করলেন জাপানি সমর্থকরা? মৌয়ের জন্মদিনে বাবার গানে আবেগঘন উপহার বিপ্লব সাহার প্রবাসে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধনের অনুমোদন ঢাকাগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার জাপানের কাছে হারের পর যা বললেন তিউনিসিয়া কোচ বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: স্পিকার ইস্টার্ন ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন নেওয়া শুরু উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ৩০ মিটার বিলীন কামাদাকে প্রশংসায় ভাসালেন জাপান কোচ মোরিয়াসু বগুড়ায় এসএমই উদ্যোক্তাদের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্যেগ নিল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক চান্দগাঁও বিসিকে দিনদুপুরে ফাঁকা গুলি, যুবদল নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা নিভে গেল ক্রীড়াঙ্গনের বাতিঘর: এক কিংবদন্তির প্রস্থান সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ডে’ ডিসি প্রত্যাহার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কানসাসে আর্জেন্টিনার অনুশীলন, স্কালোনির একাদশে দুই সংশয়

সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আদালতের রায় কার্যকর

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০১:০২ এএম
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আদালতের রায় কার্যকর
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্ধারিত কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট কোটার শূন্য পদগুলো সাধারণ মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে। এতে কোটাসংক্রান্ত ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনসহ আগের সব পরিপত্র, প্রজ্ঞাপন, আদেশ, নির্দেশ ও অনুশাসন বাতিল করা হয়। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন জারির পর বেলা আড়াইটায় গুলশানে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রজ্ঞাপনটির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তার সঙ্গে ছিলেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. এ আরাফাত, জনপ্রশাসন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব গোলাম সারওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত সংস্কারের যে রায় দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ প্রতিপালন করা হয়েছে। আপিল বিভাগের রায়ের একটা দাড়ি, কমা, সেমিকোলন বদলানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। যেহেতু সেটা নেই, সেহেতু তারা (আদালত) যে রায় দিয়েছেন সেভাবেই আমরা প্রতিপালন করেছি। এই প্রজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনসহ আগের সব প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা আন্দোলনের ঘটনায় আগে যে সহিংসতা হয়েছে তা তদন্তের জন্য এক সদস্যবিশিষ্ট বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি কাজ শুরু করেছেন। পরিস্থিতি একটু শান্ত হলেই তিনি স্পটগুলো ঘুরে দেখবেন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যেসব সাধারণ ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার দেখভাল করবে। সাধারণ শিক্ষার্থী যারা কোটাবিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলেন তাদের বিরুদ্ধে মামলার ব্যাপারে তথ্য পেলে তা প্রত্যাহারের বিষয়টি আমরা অবশ্যই দেখব। সরকার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং সব ছাত্রছাত্রীর সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করবে।’ 

এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমে ছিল কোটা সংস্কার চেয়ে আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চাওয়া বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের উচিত নিজ নিজ জায়গায় ফিরে গিয়ে পড়াশোনা শুরু করা। এটা তাদের কাছে আমার আহ্বান।’

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সব গ্রেডে নিয়োগ: আইনমন্ত্রী বলেছেন, সর্বোচ্চ আদালত এখানে পরিষ্কারভাবে চারটা ক্যাটাগরিতে সব গ্রেডে নির্ধারিত কোটা নিশ্চিত করে দিয়েছেন। এটা সর্বোচ্চ আদালতের রায়। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই এবং এর বাইরে যাওয়ার সরকারের কোনো অভিপ্রায়ও নেই। 

বিসিএসসহ অন্যান্য নিয়োগ: আইনমন্ত্রী বলেন, ৩১ জুলাই যে পরীক্ষাটা আছে এবং পরবর্তী সব নিয়োগই এই প্রজ্ঞাপনের আলোকেই বিবেচনা করতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। 

নারী কোটা ও অন্যান্য বিষয়ে ভবিষ্যতে সংশোধন: আইনমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ আদালত অত্যন্ত বিচক্ষণ রায় দিয়েছেন। এটা সুদূরপ্রসারী। সর্বোচ্চ আদালত যদি শুধু রায়ের কার্যকারিতা এখানেই শেষ করে দিতেন, তা হলে এটা বদলানোর প্রয়োজন হলে আবার রিভিউ (পুনর্বিবেচনার আবেদন) করতে হতো। কারণ এটা সর্বোচ্চ আদালত। ততদিনে রিভিউয়ের সময়ও শেষ হয়ে যেত। সে জন্য সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, ‘ভবিষ্যতের কথাই ওনারা বলেছেন, সেই ভবিষ্যতে যদি প্রয়োজন হয়, তখন দেখা যাবে। আদালত সরকারের পলিসি ম্যাটারে হাত দিতে চাননি। সরকারের কখনো যদি মনে হয়, এটা বাতিল, পরিবর্তন, কমানো বা বাড়ানো প্রয়োজন তখন সেটা করা যাবে। এ জন্য আর কোর্টে যেতে হবে না। এখন সেটা করা হচ্ছে না তার কারণ হচ্ছে, সর্বোচ্চ আদালত যে রায়টা দিয়েছেন সেটাতে হাত দিলে আইনের শাসনের প্রতি মারাত্মক হাত দেওয়া হবে। সে জন্য এটা আমরা করব না।’ 

প্রজ্ঞাপনের প্রেক্ষাপট বর্ণনায় আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে একটা পরিপত্রের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই কোটা বাতিল করেন। এর পর মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন সন্তান হাইকোর্টে একটা রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিটের শুনানি হওয়ার পর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রায় দেন, সেই রায়ে ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ও বাতিল করেন। কোটা বাতিলের পক্ষে রায় প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিল করে সরকার। আপিল করার আগেই যদিও কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা হাইকোর্টে যখন মামলাটির শুনানি হয় কোনো পক্ষভুক্ত হয়নি। সরকার যখন আপিল করে তখনো তারা পক্ষভুক্ত হয়নি। সেই ক্ষেত্রে যখন আপিলটি আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চে পাঠানো হয় সেইটাকে ‘শুনবে’ বলে একটা তারিখ দেন। তখন আন্দোলনকারীরা এই আপিল শুনানির আগে একটা পক্ষভুক্ত হন। তাদের পক্ষভুক্তের দরখাস্তের ওপরে যখন শুনানি হয় তখন আপিল বিভাগ একটা আদেশ দেন। সেই আদেশে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলেন যে, স্ট্যাটাস কো-মেইনটেইন করতে হবে। আরও বলেন যে, হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে কোটা বাতিল করার পরিপত্র বাতিলের যে আদেশ দিয়েছিলেন সেটা অকার্যকর থাকবে, যতদিন পর্যন্ত আপিল বিভাগের এই শুনানি না হবে। তার মানে হচ্ছে, সেই দিন থেকে বাংলাদেশে কোটা ছিল না। এবং তারিখ নির্ধারণ করেন যে, ৭ আগস্ট এই মামলার শুনানি হবে। 

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন একদিকে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা যখন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল এর সুযোগ নিয়ে কিছু মহল এই আন্দোলনকে অন্য দিকে প্রবাহিত করার জন্য সহিংসতা অবলম্বন করেন। একপর্যায়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা বলেন যে, তারা আন্দোলন চালানোর পাশাপাশি আলোচনায় বসতে চান। আমি প্রধানমন্ত্রীর আদেশে বলি যে, যখনই তারা বসতে চায় আমরা রাজি আছি। সেই সংবাদ সম্মেলনে আমি অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলি, কোটাবিরোধী আন্দোলনের যে মামলাটা আপিল বিভাগে ৭ আগস্ট শুনানি আছে, সেটা এগিয়ে আনতে আমরা ব্যবস্থা করব। সেই দিনই অ্যাটর্নি জেনারেল দরখাস্ত করলে আপিল বিভাগ মামলাটা এগিয়ে এনে ২১ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করেন। আপিল বিভাগ ২১ জুলাই এই মামলার শুনানি করেন এবং একটা সবিস্তারিত রায় দেন। সেখানে আপিল বিভাগ সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে তারা কোটার ব্যাপারে একটা নির্দেশনাও দেন।’ প্রজ্ঞাপন জারির পর গেজেট নোটিফিকেশন প্রায় হয়ে গেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, এটা পরিষ্কার হয়েছে- এই আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এতে জঙ্গি, বিএনপি-জামায়াত, ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এক হয়ে এই আন্দোলনে সংযুক্ত হয়ে দেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সমস্যা যেহেতু সমাধান করে দিয়েছি, সেহেতু আমাদের বিশ্বাস যে নতুন করে কোনো সমস্যা তৈরি করা হবে না এবং পরিস্থিতির অবনতি হবে না। তবে যদি কোনো অপশক্তি পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে সেটার ব্যাপারে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। আমরা ধৈর্য ধরেছি, কারণ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা চেয়েছি এবং এখনো চাচ্ছি এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যাক। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা সরকারের আছে।’ কারফিউ প্রত্যাহার কবে নাগাদ হতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এলেই কারফিউ প্রত্যাহার হবে। জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসছে তার ফলশ্রুতিতে কারফিউর বিরতি বাড়ানো হচ্ছে। আস্তে আস্তে যতই জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসছে, ততই কারফিউর মেয়াদ কমিয়ে আনা হচ্ছে। 

পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা বের করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তথাকথিত আন্দোলনে কতটুকু অংশে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল এবং কোন কোন জায়গায় শিক্ষার্থী ছিলেন, শিক্ষার্থীদের পেছনে কারা ছিলেন সেটা আগে নিরূপণ করতে হবে। আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধার্য করার জন্য আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পর এবং তার আগেই একটা অ্যাসেসমেন্ট করা হচ্ছে। এখন যেটা দেখছি, সেটা হলো কিছুটা আছে তথ্য, কিছুটা আছে অপতথ্য, আর কিছুটা গুজব। তথ্যের যে বিভ্রাট সেটাকে ব্যবহার করেই জনমনে সার্বক্ষণিক এক ধরনের আবেগ, উত্তেজনা বা সেটাকে ব্যবহার করে নাশকতামূলক কাজগুলোর ক্ষেত্রে জাস্টিফিকেশন করা হচ্ছে। সুতরাং এই পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ার পরেই আমাদের পক্ষে সঠিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হবে আসলে কারা কারা শিক্ষার্থী ছিলেন এবং শিক্ষার্থী কোন কোন প্রতিষ্ঠানের ছিলেন। সেটা এই মুহূর্তে নিরূপণ করা খুবই কঠিন।’

 

প্রবাসে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধনের অনুমোদন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
প্রবাসে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধনের অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার প্রবাসী এনআইডির জন্য আবেদন করেছেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে ২২ হাজারের বেশি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। অনুমোদন পেয়েছেন ৪৭ হাজারের বেশি আবেদনকারী। ইসির প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানসংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ৮৯৭টি নিবন্ধন আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ২২৯ জন বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়েছেন। তদন্ত শেষে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ২ হাজার ৯৭৮টি আবেদন। অন্যদিকে তদন্তে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ হাজার ১৪১ জনের তথ্য এখনও আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ১৬ জনের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৬৯টি এনআইডি স্মার্টকার্ড প্রিন্টের উপযোগী হয়েছে। এছাড়া ২২ হাজার ১৮টি স্মার্টকার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ মিশনে পাঠানো হয়েছে।

দেশভিত্তিক আবেদনের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি থেকে ২৩ হাজার ৯৪০টি আবেদন জমা পড়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৩০ জন প্রবাসী। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন এসেছে ১৬ হাজার ৮১২টি এবং ইতালি থেকে ৯ হাজার ৩৮টি।

এ ছাড়া সৌদি আরব থেকে ৬ হাজার ৩৫২টি, কুয়েত থেকে ৫ হাজার ৫৭৩টি, কাতার থেকে ৫ হাজার ৪০৬টি, কানাডা থেকে ৩ হাজার ২৯৮টি, ওমান থেকে ২ হাজার ২৪৬টি, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ হাজার ২০৬টি আবেদন জমা পড়েছে। সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে, যার সংখ্যা মাত্র ১২৬।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এসব স্টেশনের মাধ্যমে প্রবাসীরা আবেদন, বায়োমেট্রিক প্রদান এবং এনআইডি সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন। স্টেশনগুলো হলো- সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরন্টো; জাপানের টোকিও; যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া।

প্রবাসীদের ভোটার হতে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণের পাশাপাশি বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন আবেদন অনুমোদন করলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হয়।

এলিস/রিফাত/

বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: স্পিকার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি। ছবি: সংগৃহীত

বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। জাতীয় বাজেট ও সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি।

রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে ‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’-এর অধীনে আয়োজিত বাজেট বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, ‘বর্তমানে রাজস্ব আহরণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য-উপাত্তভিত্তিক বাজেট বিশ্লেষণে বাজেট হেল্পডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি সংসদ সদস্যদের সংসদ লাইব্রেরির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারি আর্থিক নীতি ও কৌশল সম্পর্কে গভীর ধারণা অর্জনের আহ্বান জানান।’

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি এমপি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমী সংসদ এবং জনগণ এর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তথ্যভিত্তিক সংসদ গঠনে বাজেট ডিব্রিফিং সেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার একটি বাস্তবমুখী বাজেট উপস্থাপন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত বাজেট হেল্পডেস্ক সংসদ সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, হুইপরা, আমন্ত্রিত সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্পিকার অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এলিস/রিফাত/

সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ডে’ ডিসি প্রত্যাহার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ডে’ ডিসি প্রত্যাহার
মো. সারওয়ার আলম। ছবি: সংগৃহীত

হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ড’ নিয়ে সমালোচনার মুখে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

আদেশে যা বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশটি আজই জারি করা হয় বলে জানা গেছে।

প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ নেই।

মো. সারওয়ার আলম সিলেটে যোগ দেওয়ার পর প্রথমদিকে তার কিছু কর্মকাণ্ড বেশ প্রশংসিত হলেও তার কথার সাথে কাজের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সাদাপাথর লুটের ঘটনার প্রেক্ষিতে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত তিনি সাদাপাথর লুটের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত করতে পারেননি।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশের জমি অধিগ্রহণের কাজও তিনি এগোতে পারেননি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডিসি মো. সারওয়ার আলম বলেছিলেন, ২/৩ মাসের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশের জমি অধিগ্রহণ শেষ হবে। এই আশ্বাসের প্রায় ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও সড়কের এক চতুর্থাংশ জমিও অধিগ্রহণ করা হয়নি।

এরপর গত বছরের নভেম্বরে ভূমিকম্পের পর বলেছিলেন, নগরের ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত সব ভবন ভেঙে ফেলা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া ফুটপাত থেকে হকার সরানোসহ আরও কিছু কর্মকাণ্ড আছে।

তবে সম্প্রতি তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকার স্বচ্ছতা আনার নামে মাজারের তিনটি ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করান।

 বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করানো হয় এবং ডেগের পাশে আনসার সদস্যও নিযুক্ত ও সিসি ক্যামেরা বসান। এতেই জনগনের তোপের মুখে পড়েন মো. সারওয়ার আলম। এই ঘটনার তিনদিনের মাথায় প্রত্যাহার হন ডিসি মো. সারওয়ার আলম।

শাকিলা ববি/তামান্না রুপা

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটিতে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট রোববার (২১ জুন) বিকেল পৌনে ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন , মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। এতে ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য রয়েছেন। আমরা এটিকে একটি যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি। এ সফরগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। সরকারি সফরের অংশ হিসেবে তিনি ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

আমান/

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস,এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার। এ ছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে ধাত্রীবিদ্যায় দক্ষ আরো ২৫ হাজার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ দেওয়া হবে।

রবিবার (২১ জুন) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস,এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

তিনি বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করে চিকিৎসাব্যবস্থাকে ‘ট্রিটমেন্ট সেন্ট্রিক’ ধারা থেকে ‘প্রিভেনশন সেন্ট্রিক’ বা প্রতিরোধভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে চায় সরকার। এজন্য আগামী তিন থেকে চার বছরে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

তবে এই বিপুল সংখ্যক মিডওয়াইফ নিয়োগের আগে মাঠপর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে তাদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি শক্তিশালী ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলা হবে। এই নতুন নেটওয়ার্কের আওতায় বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এবং সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন।

দেশের কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ হবে না। ‘কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো যেভাবে আছে সেভাবেই সচল থাকবে। তবে সেবার পরিধি আরও বাড়াতে এবং মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছে দিতেই এই নতুন প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক কাজ করবে।’

আমান/