রাজধানীর একটি নামি কলেজের ছাত্র ইফতি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তাকে বাসা থেকে বের হতে দেননি তার মা-বাবা। এখনো তার মা-বাবা উদ্বিগ্ন। কারণ পরিস্থিতি নিয়ে অজানা আতঙ্কে রয়েছেন তারা। যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, তাই ইফতির ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে মা-বাবা তাকে বাইরে বের হতে দিচ্ছেন না।
ইফতির বাবা বেসরকারি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ইফতির বয়স ১৭ বছর। পত্রিকায় দেখলাম তার বয়সী ছেলেদেরও পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কলেজ বন্ধ। আমরা সব সময় উদ্বেগে থাকি তাকে নিয়ে। কারণ এই বয়সী ছেলেকে আপনি কতদিন ঘরবন্দি রাখবেন? আবার চলমান পরিস্থিতিতে ও কার সঙ্গে মিশে বিপদে পড়ে তারও ঠিক নেই।’
ইফতির মতো একই অবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সালেরও। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পর তিনি যশোর চলে গেছেন। সেখানে গিয়েও স্বস্তি পাচ্ছেন না। প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার ভয়। ফয়সালের সঙ্গে উদ্বিগ্ন তার মা-বাবাও।’
ফয়সালের বাবা মতিউর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, “কোটা সংস্কার আন্দোলন’ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ায় ফয়সাল বাড়ি চলে এসেছে। কিন্তু যশোরেও তো শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ফলে আমরা খুব আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
১২ সিটি করপোরেশন ও নরসিংদী সদর ছাড়া আগামী রবিবার থেকে খুলছে প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তে একদিকে অভিভাবকরা খুশি হলেও অজানা আতঙ্কও কাজ করছে। অভিভাবকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে অন্তত এক ডজন শিশু রয়েছে। এসব শিশু বারান্দায়, ছাদে অথবা বাইরে বের হওয়ার কারণে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
জানতে চাইলে জামালপুরের একজন অভিভাবক জহির হোসেন ফোনে খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার বাচ্চা ক্লাস ফোরে পড়ে। প্রাইমারি স্কুলে। স্কুল খোলার ঘোষণা শুনে ভালো লাগছে। কিন্তু বাচ্চাকে বাইরে নেওয়াও তো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এখন। অদৃশ্য স্থান থেকে গুলি এসে শরীর ভেদ করার বেশ কয়েকটি ঘটনা পত্রিকায় পড়েছি।’
সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতায় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী প্রায় ২০৯ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ১০৩ জনের বয়স খুবই কম। এদের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, কেউই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। ‘অদৃশ্য স্থান থেকে’ গুলি এসে তাদের গায়ে লেগেছে। এ ছাড়া সহিংসতায় আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
এখন এসব খুনের বিচার দাবি করে আন্দোলন করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-জনতা। এর ওপর আবার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগের কারণে নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন অভিভাবকরা।