ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রথম কবি দেখা ও কয়েক টুকরো স্মৃতি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪ ‘দোষ সব আমার, খেলোয়াড়দের ওপর থেকে নজর সরান’: প্যারাগুয়ে কোচ মিথ্যার চোরাস্রোত বয়ে যায় আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত, শিক্ষার্থীর পাশে প্রতিমন্ত্রী অনুবাদ হয় না মানুষের স্মৃতির ভেতর অন্ধকারের গান প্রেমের এলিজি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত দুবাইগামী যাত্রীর লাগেজ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ রেকর্ড থেকে ৫ কদম দূরে দিবু মার্তিনেস সমাজবোধ ও জীবনবীক্ষা জুহান্নুস: ফিনল্যান্ডের সেই অনন্য উৎসব, যখন পুরো দেশ চলে যায় প্রকৃতির কোলে জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী হাইতি ম্যাচে পরিবর্তনের আভাস আনচেলত্তির বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য ফুটবল ও লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্য ‘আফ্রিকান ব্রাজিলিয়ান’ মরক্কো ফুটবল শেখাল আসল ব্রাজিলকে: বোমেল প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী টিভিতে আজকের খেলা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান দেখা পেলাম দুষ্প্রাপ্য চামেলির সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার

রাত অবধি আনসার বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ-ছাত্র, সমন্বয়ক হাসনাতসহ আহত ৫০

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৪, ১০:৫৭ পিএম
আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৪, ০১:৩২ পিএম
রাত অবধি আনসার বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ-ছাত্র, সমন্বয়ক হাসনাতসহ আহত ৫০
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয় গতকাল রবিবার ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন আনসার সদস্যরা। পরে রাত ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনরত আনসার সদস্যদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেন। এ সময় আনসার সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৫১ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আটজন শিক্ষার্থী। বাকিরা আনসার সদস্য। 

আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে কেউ গুরুতর আহত নন। তারা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। এ সময় একটি সেনাবাহিনীর গাড়িসহ ৫টি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আনসার সদস্যরা ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা সেখানে ফেসবুকে লাইভ দেওয়ার পর সেখানে আরও সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকেন। এতে পুরো সচিবালয় অঙ্গন শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

এ সময় সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সচিবালয়ে অবরুদ্ধ থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাইরে বের হয়ে আসেন। এদিকে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী, আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে চাকরি জাতীয়করণসহ চার দফা দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও করে অবস্থান নেন আনসার সদস্যরা। দুপুর ১টার দিকে আনসার সদস্যরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা সচিবালয় থেকে কাউকে বের হতে দেননি। পরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে যায় আনসার সদস্যদের ছয়জনের একটি প্রতিনিধিদল। সেখানে তারা তাদের চার দফা দাবি পেশ করেন। ওই বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগ দেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা সেখান থেকে চলে আসেন। ওই প্রতিনিধিদল বাইরে এলে আনসার সদস্যরা দাবি করেন, তাদের এক দফা দাবি- চাকরি জাতীয়করণ করতে হবে। এ সময় আরও কিছু আনসার সদস্য সচিবালয়ে আসেন। এতে সচিবালয়ের থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৈষম্যবিরোধী কয়েকজন ছাত্র সচিবালয়ে গেলে আনসার সদস্যরা কয়েকজনকে মারধর করেন। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম তাদের ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদের আটকে রাখার খবর পোস্ট করলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জমা হতে থাকেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোতাসিম বিল্লাহ মাহফুজ এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘উপদেষ্টা নাহিদ ভাইসহ হাসনাত ও সার্জিস ভাইকে সচিবালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বিপথগামী কিছু আনসার সদস্য ও ছাত্রলীগের প্রেতাত্মারা। আমরা সবাই মিলে সচিবালয়ে মার্চ করে তাদের মুক্ত করে নিয়ে আসব। সবাই যোগ দিন, বিষয়টি সবাইকে অবগত করুন।’ 

পরে রাত ৯টায় শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন। শিক্ষার্থীদের মিছিলটি শিক্ষা ভবন পার হয়ে সচিবালয়ের দিকে গেলে আনসার সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেন। এতে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে উভয়পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে আনসার সদস্যদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। 

পরে আনসার সদস্যরা সচিবালয় ছেড়ে দৌড় দিয়ে চলে যান। সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। উভয়পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ৫১ জন আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহেল নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সচিবালয় অবরোধ হওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আনসার সদস্যদের বোঝানোর চেষ্টা করি যে দেশে বন্যা হচ্ছে। পরিস্থিতি ভালো নয়। আপনারা আজ চলে যান। কিন্তু তারা আমাদের মারধর করেন।’ 

ওয়াদুদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আনসার সদস্যরা আমাদের মারধর করেছেন। তারা গত ১৫ বছর কেন তাদের দাবি নিয়ে গত আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে কিছু বলেননি? তাদের দাবির পেছনে একটি মহলের ষড়যন্ত্র আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে নসাৎ করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা একে প্রতিরোধ করব।’

ঢামেকে সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ
সচিবালয় এলাকায় আনসার সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) নেওয়া হয়েছে। ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমে বলেন, সচিবালয়ে অবরুদ্ধ থাকায় হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জরুরি বিভাগে তাকে অক্সিজেন লাগিয়ে রাখা হয়েছে।

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ জন বাংলাদেশি হাজি। অন্যদিকে হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদিতে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে ও পরে এ পর্যন্ত ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
 
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রত্যাবর্তনকারী ৬০ হাজার ৫৮৮ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫৬ হাজার ২৬৯ জন। সৌদি আরবে মারা যাওয়া ৫৪ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় সর্বোচ্চ ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২৪৯টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১৯৮টি সেবা দেওয়া হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন। হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অন্তরা/

দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ১৩টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তার। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। সতর্কবার্তাটি ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

পাশাপাশি এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

অন্তরা/

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ
ছবি: খবরের কাগজ

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ২০২৫ সালে তাদের দেশের ব্যাংকগুলোর দায় ও সম্পদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে এসএনবি।

এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের নামে জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ। প্রতি সুইস ফ্রাঁ সমান ১৫৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জমার রেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ জমার পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। আগের বছর ২০২৪ সাল শেষে এই জমার পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ৮ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি।

এর আগে ২০২২ সালেও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত ছিল সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ। ২০২৩ সালে যার অনেকটাই সরিয়ে নেওয়া হয়। আর ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ জমা হয়। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন দেশ থেকে জমা হওয়া এসব অর্থ সে দেশের দায় হিসেবে আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ প্রতিবছরই বাড়ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এসব অর্থ সরাসরি সুইস ব্যাংকে না গিয়ে বিভিন্ন আর্থিক চ্যানেল ও মধ্যবর্তী গন্তব্যের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জমা হয়েছে, যা মূলত মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের বহিঃপ্রকাশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ২০২৫ সালে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানো এবং এক বছরে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শুধু বর্তমান সময়ের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না। তার মতে, এই অর্থের একটি বড় অংশ আগের কয়েক বছরে দেশ থেকে বিভিন্ন উপায়ে বের হয়ে গেছে এবং ধাপে ধাপে বিদেশি আর্থিক ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাচার কমবে বলে আশা করা হলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বরং যাদের হাতে বড় অঙ্কের অর্থ ছিল, তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে সম্পদ নিরাপদ রাখতে বিদেশে সরিয়ে নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অর্থ পাচারের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যখন দেশে বিনিয়োগ, সম্পদ সংরক্ষণ বা ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের মধ্যেই অর্থ বিদেশে স্থানান্তরের প্রবণতা বাড়ে। তিনি বর্তমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার রোধ করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; বরং আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিগত পরিবেশই অর্থ পাচার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অর্থ পাচার বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কমবেশি ঘটে। তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা যত বাড়ে, পাচারের ঝুঁকিও তত বৃদ্ধি পায়।

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের নামে থাকা এই দায়ের মধ্যে গ্রাহকের আমানত এবং বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা অন্তর্ভুক্ত। তবে এর মধ্যে অধিকাংশই হলো ব্যাংকগুলোর দায়, যা মূলত বাণিজ্য-সম্পর্কিত লেনদেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা অর্থের একটি অংশ পাচার হওয়া সম্পদ হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। অতীতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পাচারকারীদের তথ্য চেয়ে সুইজারল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো ব্যক্তির তথ্য পায়নি। সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সরবরাহ করা হলে তারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএফআইইউর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশ থেকে যে অর্থ পাচার হয়েছে, তা ফেরত আনতে বদ্ধপরিকর। সরকারের নির্দেশে আমরা শুরু থেকে সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি। সুইস ব্যাংকেও আমরা যোগাযোগ করব। কারণ তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করব।’

বাংলাদেশ ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সঞ্চিত অর্থের সবই পাচারকৃত, তা বলা যাবে না। কারণ সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও বৈধভাবে দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। ব্যক্তির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও অর্থ জমা রাখা হয় সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। একসময়ে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো পাচার হওয়া অর্থ জমা রাখার জন্য অন্যতম পছন্দের গন্তব্য ছিল। কারণ তখন দেশটির ব্যাংকগুলো এসব তথ্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আদান–প্রদান করত না। গোপনে অর্থ গচ্ছিত রাখার জন্য খ্যাত ছিল সুইজারল্যান্ড। কঠোরভাবে গ্রাহকদের নাম-পরিচয় গোপন রাখে সুইস ব্যাংকগুলো। ফলে সুইস ব্যাংকে অবৈধ আয় ও কর ফাঁকির টাকা জমা রাখা হয় বলে এক বিশ্বাস প্রচলিত আছে। এ ছাড়া অর্থ পাচারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ছিল না সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো; কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে। বর্তমানে অধিকাংশ দেশের সঙ্গেই সুইজারল্যান্ডের চুক্তি রয়েছে। আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির কারণে এখন সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে। নির্দিষ্ট গ্রাহকের তথ্য না দিলেও এক দশক ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক। এতে বিভিন্ন দেশের আমানতের পরিমাণ উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ জমার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত শীর্ষস্থানে রয়েছে। যার পরিমাণ ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যদিও তাদের জমার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশ এই অঞ্চলে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতের বিপরীত চিত্র হিসেবে এখানে ৪১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান সুইস ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং মালদ্বীপের জমার পরিমাণ বেড়েছে।

সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময়’-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপর তিনজনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এ আদেশ দেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী। এর আগে আহমেদ জোবায়েরসহ চারজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তাদের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ‘সময়’ মিডিয়া লিমিটেডের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিশোধমূলকভাবে মোবারক হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। মামলার তদন্তে আসামিরা সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করবেন।

আদালতের আদেশ তামিল না করায় বুধবার জোবায়ের ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান থানায় বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় গত ১৩ মে সমন জারি করা হয়েছিল। হাজিরার তারিখ ১৭ জুন বুধবার ধার্য করে সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে মামলায় অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে সমনের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

বর্তমানে পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী ও তাদের কন্যা সারাফ নাওয়ার জয়ীতা।

পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:০২ এএম
পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের
ছবি: সংগৃহীত

অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

তিনি ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ছিলেন। এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ছিলেন।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন গোলাম সাকলায়েন।

এতে আরও বলা হয়, তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপন, তার সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন এবং সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সময় কাটানোর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠিয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ তিনি অভিযোগের জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। ওই বছরের ২৮ মার্চ তার ব্যক্তিগত শুনানি হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কারণ দর্শানোর জবাব ও অন্য বিষয় পর্যালোচনা করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ১২ ডিসেম্বর দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ১০ মার্চ তিনি ওই নোটিশের জবাব দেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের গুরুত্ব ও অন্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে পরামর্শ চেয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে পাঠানো হলে কমিশনও তার বিরুদ্ধে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড আরোপের পক্ষে মত দেয়। এরপর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি গত ১৭ জুন এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুমোদন করেন। বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ দায়ে মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

আমান/এসএন