বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে মায়ানমার থেকে দেশে ফিরছেন ৮৫ বাংলাদেশি। পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের অস্থিরতায় পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২৩ জন মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এবং সেনা সদস্য নিজ দেশে ফেরত যাবেন।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশিরা কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএর ঘাটে পৌঁছাবেন।
পাশাপাশি এ ঘাট থেকে ১২৩ বিজিপি-সেনা মিয়ানমারে ফেরত যাবেন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন ।
তিনি বলেন, ‘মায়ানমারে কারাগারে বন্দি থাকা ৮৫ বাংলাদেশি কারাভোগ শেষে বাংলাদেশে ফিরবেন। একইসঙ্গে ১২৩ জন মিয়ানমারের বিজিপি এবং সেনা সদস্য মিয়ানমারে ফেরত যাবেন। এর মধ্যে আট সেনা সদস্য এবং ১১৫ বিজিপি সদস্য রয়েছেন।’
জেলা প্রশাসক জানান, বিষয়গুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সবকিছু করা হয়। তবে আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় করে জেলা প্রশাসন, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মায়ানমার কর্তৃপক্ষ এবং সামাজিকভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে। একইরকম প্রক্রিয়া এর আগেও কয়েক দফায় হয়েছে।
জানা গেছে, ৮৫ বাংলাদেশির মধ্যে ২৬ জন মায়ানমারের মলামাইন কারাগারে, ১৬ জন পাথেইন কারাগারে, তিনজন চকমারউ কারাগারে এবং বাকিরা রাখাইনের বিভিন্ন কারাগারে ছিলেন।
প্রত্যাবর্তনকারীদের অধিকাংশই (৫৬ জন) কক্সবাজার, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার এবং বাকিরা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী ও ঢাকা জেলার।
এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি ইনানী নৌবাহিনীর জেটিঘাট থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া ৩৩০ বিজিপি, সেনা এবং কাস্টমস কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
পরে ২৫ এপ্রিল কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ২৮৮ সেনা ও বিজিপি ফেরত পাঠানো হয় এবং ১৭৩ বাংলাদেশি নাগরিক বাংলাদেশে ফেরত আসেন।
সর্বশেষ ৮ জুন একই ঘাট থেকে ১৩৪ জন বিজিপি এবং সেনা সদস্য মায়ানমারে ফেরত যান এবং মায়ানমার থেকে ফেরত আসেন ৪৫ বাংলাদেশি নাগরিক।
মুহিববুল্লাহ/পপি/