রাজধানীতে সঞ্চালন লাইনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় দায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) কোনোভাবে এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) ওই ঘটনায় আহত আরও দুই বিদ্যুৎ কর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দেখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি দুর্ঘটনা নয়, এটি সম্পূর্ণ অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা। এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিকনগর এলাকায় ডিপিডিসি দপ্তরের আওতাধীন ১১ কেভি ওয়াসা বহির্গামী ফিডার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বিদ্যুৎ কর্মী নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি হলেন বিদ্যুৎ লাইনের কর্মী (ফোরম্যান) মো. নবীর হোসেন। আহতরা হলেন মাসুম মিয়া ও রবিউল ইসলাম। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। ফোরম্যান মো. নবীর হোসেন ডিপিডিসির মানিকনগর ডিভিশনের বার্ষিক ঠিকাদার ‘মেসার্স মুন পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং’ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, ‘লাইনে কাজ করা অবস্থায় কেন লাইন চালু করা হলো এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর দায় ডিপিডিসি, কোম্পানি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এড়াতে পারে না। এই অবহেলার জন্য একজন মানুষ মারা গেছেন এবং দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।’
তিনি আহতদের সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার নির্দেশনা দেন। আহতদের জন্য কেবিন দেওয়ার নির্দেশনাও দেন। এ ছাড়া ডিপিডিসির পক্ষ থেকে হাসপাতালে সার্বক্ষণিক লোক নিয়োগের নির্দেশনা দেন।
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা নিহত এবং আহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। এ সময় তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। তাৎক্ষণিক নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ, গুরুতর আহতকে ২ লাখ ও আহতকে ১ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশনা দেন। আহতদের চিকিৎসার সব খরচ সরকার বহন করবে বলে তিনি এ সময় জানান।
এর আগে তিনি মানিকনগরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং কেন এ দুর্ঘটনা ঘটল তার কারণ দ্রুত উদঘাটনের জন্য নির্দেশনা দেন। উপদেষ্টার সঙ্গে এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ, ডিপিডিসি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ লাইনে মেরামতের কাজ করতে গিয়ে হতাহতের ঘটনায় ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন্স) কিউ এম শফিকুল ইসলামকে তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ডিপিডিসি দপ্তরের সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার ও নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. সেলিম সিরাজ এবং অফিস সহকারী মো. আলী আজম খানকে ডিপিডিসি (কর্মচারী) বিধিমোতাবেক চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে ডিপিডিসির দপ্তরে মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রাথমিক তদন্তে ডিপিডিসিতে কর্মরত দুজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ডিপিডিসি।