ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ‘কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন’ আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ যুদ্ধবিরতির পথে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ শুরু জেনেভায় সিলেটে টানা বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা পাউবোর বাংলাদেশের বাজেট ২০২৬-২০২৭: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা গাজীপুরে নিষিদ্ধ আ. লীগের বিক্ষোভ মিছিল প্রযুক্তির অপচ্ছায়া সড়কে ‘এআই ক্যামেরা’ ও অভিনব ডিজিটাল ডাকাতি বাবা দিবসে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: আমরা কি বাবা-মাকে হারাচ্ছি, নাকি তাদের সঙ্গে সময়ের সংযোগ হারাচ্ছি! ১০ দফা দাবিতে চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের মানববন্ধন সোমবার মোহভঙ্গের বাংলাদেশ: যখন বুঝলাম সর্বনাশ হয়ে গেছে অরণ্যের অন্ত্যজ কথা বরিশালে গ্রেপ্তার এড়াতে ছাদ থেকে পড়ে আ. লীগ নেতার মৃত্যু ইরান ম্যাচে বেলজিয়ামের মূল ফোকাস নিজেদের খেলায়: গার্সিয়া কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু গোপনে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বিপ্লব দেব প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র জাহাজডুবির দুঃসহ অধ্যায় শেষে দেশে ফেরা সুনামগঞ্জে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত হাইড্রোলিক হর্নের অত্যাচার ও বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ‘কমল দাদার পাঠশালায়’ আদিবাসী শিশুদের পাশে ফারুক হোসেন একটি ব্রিজের অভাবে থমকে আছে জনজীবন সামাজিক অস্থিরতায় মানবতা হত্যা: প্রতিকার কোথায়? জার্মানির জয়ের নায়ক কে এই ডেনিজ উন্দাভ? অস্ট্রেলিয়ার দাপুটে জয়ে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ বাংলাদেশে সমৃদ্ধি ও বঞ্চনার পাহাড় গ্যালাক্সি ওয়াচে যেভাবে ব্যবহার করবেন গুগল ওয়ালেট শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাসুদ চৌধুরী রিমান্ডে

পরিকল্পিত সংস্কার অবশ্যই টেকসই হতে হবে: ফলকার তুর্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৩২ এএম
আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৩৫ এএম
পরিকল্পিত সংস্কার অবশ্যই টেকসই হতে হবে: ফলকার তুর্ক
সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক। ছবি : সংগৃহীত

গত কয়েক দশকে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পিত সংস্কার অবশ্যই টেকসই হতে হবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশে তার দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

ফলকার তুর্ক বলেন, ‘এবার, অবশ্যই ন্যায়বিচার হতে হবে। এইবার, সংস্কার অবশ্যই টেকসই ও স্থায়ী হতে হবে, যাতে গত কয়েক দশকের নিবর্তনমূলক অনুশীলনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’

তুর্ক মৌলিক পরিবর্তনের জন্য দেশের বর্তমান সুযোগের কথা তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের পরিবর্তন মানবাধিকারের সমুন্নত রেখে শাসন, উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে একটি নতুন পথ নির্ধারণ করতে পারে।

তিনি বিভাজন, বৈষম্য ও দায়মুক্তি অবসানের লক্ষ্যে একটি দৃঢ় ভিত্তি স্থাপনের জন্য সাম্প্রতিক সামাজিক আন্দোলনের দ্বারা অনুপ্রাণিত উচ্চ প্রত্যাশাগুলোর উল্লেখ করে বলেন, ‘বৈষম্য, প্রতিশোধ ও প্রতিশোধের চক্র, প্রান্তিকতা, দুর্নীতি ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন অবশ্যই অতীতের বিষয় হওয়া উচিত।’

তিনি এসব নজিরগুলো ভাঙার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

হাইকমিশনার এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে তার দপ্তরের প্রতিশ্রুতিও নিশ্চিত করে উল্লেখ করেন, ‘এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সফল করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর সবকিছু করতে প্রস্তুত রয়েছে।’

তিনি মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া সাম্প্রতিক বিবৃতিকে স্বাগত জানান।

তুর্ক প্রধান উপদেষ্টার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সব প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য মোকাবেলার গুরুত্ব উল্লেখ করেন।

তিনি বিচার বিভাগ, নির্বাচনি ব্যবস্থা, প্রশাসন, পুলিশ, সাংবিধানিক বিষয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সংস্কারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে দ্রুত বিভিন্ন কমিশন গঠনের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, শ্রম অধিকার এবং নারীবিষয়ক সমস্যা সমাধানের জন্য অতিরিক্ত কমিশন গঠন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, ‘আজকের বেশ কয়েকজন কমিশনারের সঙ্গে আমার আলোচনায় আমরা আস্থা-নির্মাণ, অন্তর্ভুক্তিকরণের গুরুত্ব এবং একই ধরনের সমস্যা-আক্রান্ত অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ যে শিক্ষা নিতে পারে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, এসব সংস্কার বাংলাদেশে কয়েক দশকের তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে আনার এবং পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতিকে দমন করার জন্য একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হতে পারে যা এর গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই ও আগস্টে নিহত ও গুরুতর আহত বিক্ষোভকারী এবং শিশুসহ অন্য জনগণের বিরুদ্ধে নৃশংস সহিংসতার বিচারের প্রয়াস অগ্রাধিকার পাবে।’
 
তুর্ক বাংলাদেশের সব হত্যাকাণ্ডের তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে সমাবেশের ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুরক্ষার আহ্বান জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যে কোনো হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হওয়া দরকার। আমরা হত্যাকাণ্ড ঘটতে দিতে পারি না।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সদস্য বা সমর্থকদের বিরুদ্ধে কেবল তাদের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা সমীচিন নয়। 

জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান সতর্ক করে বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক হত্যার অভিযোগসহ কিছু অভিযোগ যথাযথ তদন্তে প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার কারণে উদ্বেগ রয়েছে। ‘অতীতের দৃষ্ঠান্তের পুনরাবৃত্তি না করা গুরুত্বপূর্ণ।’

‘ব্যাপক সংখ্যায় মিথ্যা মামলা দায়ের করার বিষয়টি মোকাবেলা করার একটি হাতিয়ার হিসাবে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক একটি কমিটি গঠনকে তুর্ক স্বাগত জানিয়ে বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য।’

ফলকার তুর্ক বলেন, ফৌজদারি বিচার করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে যাতে অভিযোগ আনা না হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ (আইসিটি) সব পর্যায়ে যথাযথ প্রক্রিয়া ও ন্যায্য বিচারের মান বজায় রাখা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি অন্তর্বর্তী সরকার অতীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হবেন।’

ভবিষ্যতে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ নিয়েও জনসমক্ষে আলোচনা হবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি, আইন ও প্রমাণের তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্ট; মৃত্যুদণ্ড অতীতের বিষয় হওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ছাত্ররা তাকে জানিয়েছেন যে, তাদের উদ্বেগ শোনার জন্য দেশে কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তায় নামা ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই।
 
তিনি বলেন, ‘সামাজিক সংহতি এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা পুনরুদ্ধার করার জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অব্যাহতভাাবে কণ্ঠরোধ হয়ে যাওয়া নাগরিক অবস্থানের পুনর্গঠন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এ জন্য ভিন্নমত রোধ করাসহ দমনমূলক আইনগুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার প্রয়োজন হবে। 

তিনি বলেন, শুধুমাত্র পদ্ধতিগত পরিবর্তনই নিশ্চিত করবে যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকারকে সম্মান করা হবে।

তুর্ক সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে মতপ্রকাশের অপরাধের পুরানো মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। 

হাইকমিশনার বলেন, ‘একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি, যেখানে শ্রেণি, লিঙ্গ, জাতি, রাজনৈতিক মতাদর্শ, পরিচয় বা ধর্ম নির্বিশেষে প্রতিটি কণ্ঠস্বর শোনা যায় এবং মূল্যায়ন করা হয়, তা মুখ্য হবে। আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ও বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে যা এই পরিবর্তনের জন্ম দিয়েছে।’
 
জুলাই মাসের বিক্ষোভসহ সামাজিক ন্যায়বিচার আন্দোলনের কেন্দ্রস্থলে নারীরা ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের অবশ্যই উত্তরণের সময় এবং তার পরেও অগ্রভাগে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সংস্কার কাঠামোতে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সেইসঙ্গে আদিবাসীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।’ 

তিনি সংখ্যালঘুদের রক্ষায় ছাত্র এবং অন্যদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

তুর্ক বলেন, যে কোনো দমন-পীড়ন, অভ্যুত্থান ও সহিংসতার পর এগিয়ে যাওয়ার জন্য সত্য প্রকাশ ও ক্ষত কাটিয়ে ওঠার একটি জাতীয় প্রক্রিয়া থাকা দরকার।

ভুক্তভোগীদের তাদের প্রিয়জনদের এবং সমাজে বৃহত্তর সমাজের বেদনা এবং ক্ষোভের জন্য একটি ব্যাপক পদ্ধতির প্রয়োজন যাতে ন্যায্য অপরাধমূলক বিচার, সত্য-সন্ধানী প্রক্রিয়া, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং ইতিহাসকে স্মরণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

তুর্ক গুম সংক্রান্ত সনদে বাংলাদেশের অনুমোদন এবং একটি তদন্ত কমিশন নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন গত ৫ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তদন্ত করছে।

তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা বাড়ানোর জন্য পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং জবাবদিহিতার ব্যবস্থাসহ এই ধরনের ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে সামাজিক মিডিয়াতে ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তি ও ঘৃণামূলক প্রচারণার প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা গড়ে তুলতে হবে। 

অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগসহ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যে চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন হয়েছে, তা স্বীকার করে তুর্ক সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভের ফলে পরিবর্তনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, ‘মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতি উপলব্ধি করার জন্য সাহস ও সহিষ্ণুতার প্রয়োজন হবে, তবে এটি আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং বদ্ধমূল বিভাজন নিরসনে সহায়তা করবে।’

তিনি মানবাধিকারকে এসব পরিবর্তনের দিশারী হিসাবে পরিচালনা করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘আমি উৎসাহিত হয়েছি যে, আমার অনেক আলোচনায়, ‘জোরদার উপস্থিতির মাধ্যমে আমার দপ্তরের বর্ধিত সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশে আমাদের বর্ধিত উপস্থিতির পদ্ধতির ওপর আলোচনা শেষ করার অপেক্ষায় রয়েছি।’

তিনি এ বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন মোতায়েন করার জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণকে অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন।

দুই দিনের সফর শেষ করার আগে তুর্কি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বাসস/অমিয়/

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু
হামে আক্রান্ত এক শিশু। ছবি: মাসুদ মিলন

হামের উপসর্গে নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৬৩ শিশু হাসপাতালে এসেছে।

রবিবার (২১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৮৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার এক জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯২ হাজার ৭৯০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৬২ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১১ জন।

আরও বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৬ হাজার ৮৫৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭২ হাজার ৮৪৯ জন।

রিফাত/

প্রবাসে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধনের অনুমোদন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
প্রবাসে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধনের অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার প্রবাসী এনআইডির জন্য আবেদন করেছেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে ২২ হাজারের বেশি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। অনুমোদন পেয়েছেন ৪৭ হাজারের বেশি আবেদনকারী। ইসির প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানসংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ৮৯৭টি নিবন্ধন আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ২২৯ জন বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়েছেন। তদন্ত শেষে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ২ হাজার ৯৭৮টি আবেদন। অন্যদিকে তদন্তে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ হাজার ১৪১ জনের তথ্য এখনও আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ১৬ জনের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৬৯টি এনআইডি স্মার্টকার্ড প্রিন্টের উপযোগী হয়েছে। এছাড়া ২২ হাজার ১৮টি স্মার্টকার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ মিশনে পাঠানো হয়েছে।

দেশভিত্তিক আবেদনের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি থেকে ২৩ হাজার ৯৪০টি আবেদন জমা পড়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৩০ জন প্রবাসী। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন এসেছে ১৬ হাজার ৮১২টি এবং ইতালি থেকে ৯ হাজার ৩৮টি।

এ ছাড়া সৌদি আরব থেকে ৬ হাজার ৩৫২টি, কুয়েত থেকে ৫ হাজার ৫৭৩টি, কাতার থেকে ৫ হাজার ৪০৬টি, কানাডা থেকে ৩ হাজার ২৯৮টি, ওমান থেকে ২ হাজার ২৪৬টি, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ হাজার ২০৬টি আবেদন জমা পড়েছে। সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে, যার সংখ্যা মাত্র ১২৬।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এসব স্টেশনের মাধ্যমে প্রবাসীরা আবেদন, বায়োমেট্রিক প্রদান এবং এনআইডি সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন। স্টেশনগুলো হলো- সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরন্টো; জাপানের টোকিও; যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া।

প্রবাসীদের ভোটার হতে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণের পাশাপাশি বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন আবেদন অনুমোদন করলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হয়।

এলিস/রিফাত/

বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: স্পিকার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি। ছবি: সংগৃহীত

বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। জাতীয় বাজেট ও সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি।

রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে ‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’-এর অধীনে আয়োজিত বাজেট বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, ‘বর্তমানে রাজস্ব আহরণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য-উপাত্তভিত্তিক বাজেট বিশ্লেষণে বাজেট হেল্পডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি সংসদ সদস্যদের সংসদ লাইব্রেরির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারি আর্থিক নীতি ও কৌশল সম্পর্কে গভীর ধারণা অর্জনের আহ্বান জানান।’

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি এমপি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমী সংসদ এবং জনগণ এর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তথ্যভিত্তিক সংসদ গঠনে বাজেট ডিব্রিফিং সেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার একটি বাস্তবমুখী বাজেট উপস্থাপন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত বাজেট হেল্পডেস্ক সংসদ সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, হুইপরা, আমন্ত্রিত সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্পিকার অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এলিস/রিফাত/

সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ডে’ ডিসি প্রত্যাহার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ডে’ ডিসি প্রত্যাহার
মো. সারওয়ার আলম। ছবি: সংগৃহীত

হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ড’ নিয়ে সমালোচনার মুখে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

আদেশে যা বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশটি আজই জারি করা হয় বলে জানা গেছে।

প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ নেই।

মো. সারওয়ার আলম সিলেটে যোগ দেওয়ার পর প্রথমদিকে তার কিছু কর্মকাণ্ড বেশ প্রশংসিত হলেও তার কথার সাথে কাজের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সাদাপাথর লুটের ঘটনার প্রেক্ষিতে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত তিনি সাদাপাথর লুটের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত করতে পারেননি।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশের জমি অধিগ্রহণের কাজও তিনি এগোতে পারেননি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডিসি মো. সারওয়ার আলম বলেছিলেন, ২/৩ মাসের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশের জমি অধিগ্রহণ শেষ হবে। এই আশ্বাসের প্রায় ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও সড়কের এক চতুর্থাংশ জমিও অধিগ্রহণ করা হয়নি।

এরপর গত বছরের নভেম্বরে ভূমিকম্পের পর বলেছিলেন, নগরের ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত সব ভবন ভেঙে ফেলা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া ফুটপাত থেকে হকার সরানোসহ আরও কিছু কর্মকাণ্ড আছে।

তবে সম্প্রতি তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকার স্বচ্ছতা আনার নামে মাজারের তিনটি ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করান।

 বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করানো হয় এবং ডেগের পাশে আনসার সদস্যও নিযুক্ত ও সিসি ক্যামেরা বসান। এতেই জনগনের তোপের মুখে পড়েন মো. সারওয়ার আলম। এই ঘটনার তিনদিনের মাথায় প্রত্যাহার হন ডিসি মো. সারওয়ার আলম।

শাকিলা ববি/তামান্না রুপা

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটিতে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট রোববার (২১ জুন) বিকেল পৌনে ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন , মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। এতে ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য রয়েছেন। আমরা এটিকে একটি যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি। এ সফরগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। সরকারি সফরের অংশ হিসেবে তিনি ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

আমান/