ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ ১৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু ১৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিয়াটলে স্বাগতিকদের সামনে অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে তবু হাইতিকে নিয়ে সতর্ক ব্রাজিল কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি স্কটিশদের হিসাব মেলানোর রাত পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ

আসিয়ানে সদস্য পদ পেতে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ১১:৫৩ পিএম
আসিয়ানে সদস্য পদ পেতে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা
ছবি: পিআইডি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোটে (আসিয়ান) বাংলাদেশের সদস্য পদ পেতে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রবিবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত হেরু হারতান্তো সুবোলো প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ সমর্থন চান।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রাবোও সুবিয়ানতোর দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান। এ ছাড়া সুবিধাজনক সময়ে তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

আসিয়ানের সদস্য পদ পাওয়ার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূতকে বলেন, আমি আশা করি, ইন্দোনেশিয়া আমাদের আসিয়ানের সদস্য পদ পেতে সাহায্য করবে। এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রধান উপদেষ্টা জানান, তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের সময়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগামী জানুয়ারিতে মালয়েশিয়া আসিয়ানের সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে।

এ সময় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তার দেশের সমর্থনের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া আসিয়ানে সদস্য হওয়ার বাংলাদেশের আবেদন নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করবে। ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। আশা করি, এটি উভয় দেশের জন্য উপকারী হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা ইন্দোনেশিয়ায় তার একাধিক সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘একটা বিষয় খুব পরিতাপের যে, ইন্দোনেশিয়ায় খুব বেশি বাংলাদেশি নেই।’ 

তিনি আরও বলেন, ইন্দোনেশিয়া বৃহত্তম মুসলিম দেশ। কিন্তু সে দেশের মানুষ, বাংলাদেশ সম্পর্কে তেমন জানেন না। আমরাও খুব বেশি যোগাযোগ করছি না। আমাদের কাছাকাছি আসার জন্য অবশ্যই একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি ইন্দোনেশিয়াকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিসহ বাংলাদেশি চিকিৎসক নিয়োগ এবং বাংলাদেশ থেকে ওষুধপত্র আমদানি করার আহ্বান জানান।

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ
ছবি: খবরের কাগজ

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ২০২৫ সালে তাদের দেশের ব্যাংকগুলোর দায় ও সম্পদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে এসএনবি।

এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের নামে জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ। প্রতি সুইস ফ্রাঁ সমান ১৫৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জমার রেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ জমার পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। আগের বছর ২০২৪ সাল শেষে এই জমার পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ৮ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি।

এর আগে ২০২২ সালেও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত ছিল সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ। ২০২৩ সালে যার অনেকটাই সরিয়ে নেওয়া হয়। আর ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ জমা হয়। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন দেশ থেকে জমা হওয়া এসব অর্থ সে দেশের দায় হিসেবে আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ প্রতিবছরই বাড়ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এসব অর্থ সরাসরি সুইস ব্যাংকে না গিয়ে বিভিন্ন আর্থিক চ্যানেল ও মধ্যবর্তী গন্তব্যের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জমা হয়েছে, যা মূলত মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের বহিঃপ্রকাশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ২০২৫ সালে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানো এবং এক বছরে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শুধু বর্তমান সময়ের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না। তার মতে, এই অর্থের একটি বড় অংশ আগের কয়েক বছরে দেশ থেকে বিভিন্ন উপায়ে বের হয়ে গেছে এবং ধাপে ধাপে বিদেশি আর্থিক ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাচার কমবে বলে আশা করা হলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বরং যাদের হাতে বড় অঙ্কের অর্থ ছিল, তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে সম্পদ নিরাপদ রাখতে বিদেশে সরিয়ে নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অর্থ পাচারের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যখন দেশে বিনিয়োগ, সম্পদ সংরক্ষণ বা ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের মধ্যেই অর্থ বিদেশে স্থানান্তরের প্রবণতা বাড়ে। তিনি বর্তমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার রোধ করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; বরং আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিগত পরিবেশই অর্থ পাচার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অর্থ পাচার বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কমবেশি ঘটে। তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা যত বাড়ে, পাচারের ঝুঁকিও তত বৃদ্ধি পায়।

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের নামে থাকা এই দায়ের মধ্যে গ্রাহকের আমানত এবং বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা অন্তর্ভুক্ত। তবে এর মধ্যে অধিকাংশই হলো ব্যাংকগুলোর দায়, যা মূলত বাণিজ্য-সম্পর্কিত লেনদেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা অর্থের একটি অংশ পাচার হওয়া সম্পদ হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। অতীতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পাচারকারীদের তথ্য চেয়ে সুইজারল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো ব্যক্তির তথ্য পায়নি। সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সরবরাহ করা হলে তারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএফআইইউর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশ থেকে যে অর্থ পাচার হয়েছে, তা ফেরত আনতে বদ্ধপরিকর। সরকারের নির্দেশে আমরা শুরু থেকে সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি। সুইস ব্যাংকেও আমরা যোগাযোগ করব। কারণ তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করব।’

বাংলাদেশ ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সঞ্চিত অর্থের সবই পাচারকৃত, তা বলা যাবে না। কারণ সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও বৈধভাবে দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। ব্যক্তির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও অর্থ জমা রাখা হয় সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। একসময়ে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো পাচার হওয়া অর্থ জমা রাখার জন্য অন্যতম পছন্দের গন্তব্য ছিল। কারণ তখন দেশটির ব্যাংকগুলো এসব তথ্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আদান–প্রদান করত না। গোপনে অর্থ গচ্ছিত রাখার জন্য খ্যাত ছিল সুইজারল্যান্ড। কঠোরভাবে গ্রাহকদের নাম-পরিচয় গোপন রাখে সুইস ব্যাংকগুলো। ফলে সুইস ব্যাংকে অবৈধ আয় ও কর ফাঁকির টাকা জমা রাখা হয় বলে এক বিশ্বাস প্রচলিত আছে। এ ছাড়া অর্থ পাচারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ছিল না সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো; কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে। বর্তমানে অধিকাংশ দেশের সঙ্গেই সুইজারল্যান্ডের চুক্তি রয়েছে। আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির কারণে এখন সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে। নির্দিষ্ট গ্রাহকের তথ্য না দিলেও এক দশক ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক। এতে বিভিন্ন দেশের আমানতের পরিমাণ উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ জমার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত শীর্ষস্থানে রয়েছে। যার পরিমাণ ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যদিও তাদের জমার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশ এই অঞ্চলে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতের বিপরীত চিত্র হিসেবে এখানে ৪১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান সুইস ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং মালদ্বীপের জমার পরিমাণ বেড়েছে।

সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময়’-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপর তিনজনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এ আদেশ দেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী। এর আগে আহমেদ জোবায়েরসহ চারজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তাদের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ‘সময়’ মিডিয়া লিমিটেডের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিশোধমূলকভাবে মোবারক হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। মামলার তদন্তে আসামিরা সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করবেন।

আদালতের আদেশ তামিল না করায় বুধবার জোবায়ের ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান থানায় বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় গত ১৩ মে সমন জারি করা হয়েছিল। হাজিরার তারিখ ১৭ জুন বুধবার ধার্য করে সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে মামলায় অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে সমনের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

বর্তমানে পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী ও তাদের কন্যা সারাফ নাওয়ার জয়ীতা।

পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:০২ এএম
পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের
ছবি: সংগৃহীত

অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

তিনি ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ছিলেন। এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ছিলেন।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন গোলাম সাকলায়েন।

এতে আরও বলা হয়, তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপন, তার সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন এবং সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সময় কাটানোর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠিয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ তিনি অভিযোগের জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। ওই বছরের ২৮ মার্চ তার ব্যক্তিগত শুনানি হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কারণ দর্শানোর জবাব ও অন্য বিষয় পর্যালোচনা করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ১২ ডিসেম্বর দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ১০ মার্চ তিনি ওই নোটিশের জবাব দেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের গুরুত্ব ও অন্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে পরামর্শ চেয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে পাঠানো হলে কমিশনও তার বিরুদ্ধে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড আরোপের পক্ষে মত দেয়। এরপর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি গত ১৭ জুন এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুমোদন করেন। বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ দায়ে মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

আমান/এসএন

এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে সেশনজট কমাতে পাঠ্যসূচি শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য দেন।
তিনি বলেন, চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ফল।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা খাতে সংস্কার, মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্থগিত থাকা বৃত্তি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতারও সমাধান হয়েছে।

ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধার জন্য এক বছর আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষককে আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শিক্ষা খাতকে আরও আনন্দময় ও মানবিক করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এসএন/

সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম, যার মাধ্যমে একজন সেনা সদস্য কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আদর্শবান, মর্যাদাবান ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলবে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন। ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নানা ধরনের বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যাডেটদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’র কার্যক্রম উদ্বোধন করা হলো। প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয়ে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ-যোগ্য ও চৌকস নেতৃত্ব তৈরিতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রশিক্ষণ শেষ করা অফিসার ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। সামরিক চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশপ্রেমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সাহসিকতার সঙ্গে সব পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে হবে। প্রতিনিয়ত নিজেদের সক্ষমতাকে বাড়াতে সচেষ্ট থাকতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র ধারণ করে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হবে তোমাদের জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত।’

সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘শৃঙ্খলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারত্ব ও উৎকর্ষতা অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি। সেনাবাহিনী সব বিষয়ে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রথা দিয়ে পরিচালিত হয়। কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকের দারস্থ হবে। তোমরা ভুলে যাবেন না, তোমাদেরকে গড়ে তুলতে দেশের খেটে খাওয়া অনেক মানুষের অনেক অবদান রয়েছে।’

বিএমএ’র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য একটি দক্ষ, আধুনিক ও দেশোপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। এই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব মূলত অফিসারদের। প্রশিক্ষণ শেষে যারা নতুন জীবনে পদার্পন করছো, সেখানে তোমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য অনেক বেশি।’

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সর্বমোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন। এছাড়াও ৪ জন ফিলিস্তিন, ১ জন তানজানিয়া, ১ জন জাম্বিয়া এবং ১ জন মালদ্বীপের অফিসার ক্যাডেট বিএমএ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, যারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ এবং কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এতে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে অসামান্য গৌরবমণ্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ ও সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন।

পাশাপাশি সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশী ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর। সেনাপ্রধান মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের জন্য একাডেমির কমান্ড্যান্ট, সংশ্লিষ্ট সব অফিসার, জেসিও, এনসিও, সৈনিক এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পরে সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’র শুভ উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএমএ-তে প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে '১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন'র পাশাপাশি '২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানায় আইএসপিআর।

এছাড়া তিনি বিএমএতে নবনির্মিত সিএমএইচ, বিএমএ পার্কসহ বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সামরিক-অসামারিক ঊর্ধতন কর্মকর্তা, কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

আলমগীর হোসেন/আমান