‘আমার দেশ’ পত্রিকা নতুন রূপে আসছে আগামী ২২ ডিসেম্বর। এই নতুন অভিযাত্রায় পত্রিকাটি ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলার পাশাপাশি দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না বলে জানিয়েছেন পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আমার দেশ পত্রিকার নতুন অভিযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জনগণকে আমার দেশ পত্রিকা উপহার দিতে যাচ্ছি। এটা আমাদের নতুন যাত্রা। আপনারা আমাদের এক মাস সময় দেন। পত্রিকা শুরু করলে প্রথম মাসে অনেক ভুলভ্রান্তি হয়। আপনারা ভুলগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।’
পত্রিকাটির সম্পাদকীয় নীতি কেমন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যথাসম্ভব সঠিক খবরটাই দেওয়ার চেষ্টা করব। আপনারা জানেন, হাসিনার ফ্যাসিবাদ আমলে অনেক পত্রিকা ইসলামি জঙ্গি নাটক সাজিয়েছে, বড় বড় অনেক পত্রিকায় শুধু এক পক্ষের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। বক্তব্যে ভিকটিমের কখনো বক্তব্য ছিল না। শুধু পুলিশ, র্যাবের বক্তব্য দিয়ে মিডিয়া নিউজ করত। দুই পক্ষের বক্তব্য দেয়নি। আমি একজন সম্পাদক, কোনো পত্রিকার নাম উল্লেখ করব না।’
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘গত ১৭ বছরে হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে কারও লেখার সামর্থ্য ছিল না। দৈনিক আমার দেশ আগেই লেখা শুরু করেছিল। আমার দেশ পত্রিকার দরজা অসহায় মানুষের জন্য সব সময় খোলা থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে দেশের মিডিয়ায় ইসলামোফোবিয়া আছে। আমরা আমার দেশ পত্রিকার মাধ্যমে ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলা করব। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। অথচ ফিলিস্তিন ইস্যুতে আমাদের পত্রিকাগুলোতে লেখা অনেক কম। দেশের পত্রিকাগুলো ফিলিস্তিন নিয়ে আন্তর্জাতিক পাতায় এক-দুই কলাম রাখে মাত্র। প্রথম পাতায় ফিলিস্তিনের নিউজ যায় না। আমরা কাশ্মিরের মুসলিম নির্যাতন, চীনের উইঘুর মুসলিম নির্যাতন ও রোহিঙ্গা মুসলিমসহ সারা বিশ্বে নির্যাতিত মুসলমানদের নিয়ে লিখব।’
আমার দেশের সম্পাদক বলেন, ‘গত ১৫ বছরে দালালির কারণে মানুষের মধ্যে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস কমে গেছে। বড় বড় পত্রিকার সার্কুলেশন কমেছে ৫০ শতাংশ। আমার দেশ মানুষের মধ্যে পত্রিকার প্রতি আস্থা বাড়াবে। পত্রিকা হলো সমাজ-সংস্কৃতির দর্পণ। আমরা চাই, মানুষ অপেক্ষা করুক। সকাল বেলা পত্রিকার জন্য অধীর আগ্রহে থাকুক। আমার দেশ সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে।’
সাংবাদিকের এক প্রশ্নে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতার কথা বলব। আমরা আগেও কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি নাই। এখনো করব না। হাসিনার আমলে আমরা অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে ছিলাম। আমরা কখনোই কোনো দলকে অ্যাডিশনাল কাভারেজ দেইনি। এখনো কোনো দলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নাই। যে দল আধিপত্যের বিরুদ্ধে থাকবে, গণতন্ত্রের পক্ষে থাকব, আমরা তাদের পক্ষে থাকব।’
তিনি বলেন, “যখন শাহবাগ আন্দোলন চলছিল, তখন সব পত্রিকায় জ্বর ছিল। শাহবাগ যে হাসিনা ও পার্শ্ববর্তী দেশের চক্রান্ত ছিল, সেটা আমার দেশ পত্রিকা বুঝতে পেরেছে। তখন আমাদের হেডলাইন ছিল ‘শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি’।”
এ সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক কবি হাসান হাফিজসহ আমার দেশ পত্রিকার অন্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
শফিকুল/পপি/