অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১ জানুয়ারি) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। এতে আনিসুল হকের ২৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গত ১০ বছরে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার স্থাবর-অস্থাবর প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার সম্পদের মধ্যে অন্তত ১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আনিসুল হকের ২৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩৪৯ কোটি ১৫ লাখ ২১ হাজার ৫৮২ টাকা জমা ও ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ৬৬৫ কোটি ৬৪ লাখ ৩ হাজার ১৯০ টাকার লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া তার নামে মোট স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১৫২ কোটি ৮৫ লাখ ৬৮ হাজার ৩০৪ টাকার। এর মধ্যে বৈধ সম্পদ ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯৮ হাজার ২০৮ টাকা। এ ক্ষেত্রে তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৬ টাকা।
খ্যাতনামা আইনজীবী সিরাজুল হকের ছেলে আনিসুল হক ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রথম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (আখাউড়া ও কসবা) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরই তিনি মন্ত্রী হন। এরপর ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য হন। একই সঙ্গে টানা তিনবার তিনি আইনমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ১৩ আগস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে তার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় আনিসুল হককে। গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করার কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর তাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে।
তার নামে রাজধানীর বনানীতে একটি বাড়ি, ময়মনসিংহে এক একর সাড়ে ২২ শতাংশ জমি এবং পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৮ কাঠার প্লট, সিটিজেন ব্যাংকে ৪০ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার রয়েছে। গুলশানে একটি বাড়ি কেনার জন্য অগ্রিম ৫৫ লাখ টাকা ও বনানীতে আরেকটি বাড়ি কিনতে অগ্রিম দিয়েছেন ২ কোটি টাকা। তার নামে সাড়ে ৫ কোটি টাকা মূল্যের পাঁচটি গাড়ি, ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র, অগ্রণী ব্যাংকের বনানী শাখায় ৫০ লাখ টাকা জমা, ব্র্যাক ব্যাংকের বনানী শাখায় ৫০ লাখ টাকা জমা, একই ব্যাংকে ২ কোটি টাকা গোল্ডেন ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে। এ ছাড়া ডাচ বাংলা ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ রয়েছে ৭১ কোটি ৯৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।