পৌষের শেষ সময়ে হঠাৎ উষ্ণতা বেড়ে গিয়েছিল। দুই দিন ধরে আবার জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। গত বৃহস্পতিবার দেশের পাঁচ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় শৈত্যপ্রবাহ। গতকাল শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) থেকে ১০ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। তবে আজ শনিবার থেকেই তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, দুই দিনের শৈত্যপ্রবাহের পর শনিবার থেকে দেশের গড় তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা আগামীকাল রবিবারও অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর আবারও শুরু হতে পারে শৈত্যপ্রবাহ।
গতকাল সকাল ৯টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু এলাকায় অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কুয়াশার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। বাতাস উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হবে। গতকাল ঢাকার বায়ুর আদ্রতা ছিল ৭৬ শতাংশ।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে দেশের পাঁচ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। জেলাগুলো ছিল রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, পঞ্চগড় ও চুয়াডাঙ্গা। ওই দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নওগাঁর বদলগাছীতে ৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দেশের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গতকাল তার আগের দিনের চেয়ে প্রায় দুই ডিগ্রি কমে গেলেও রাজধানীর তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে। গতকাল রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তা ছিল ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
গতকাল সকাল ৬টায় জেলার তেঁতুলিয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। একই সময়ে বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড করা হয়েছে ঘণ্টায় ৮-৯ কিলোমিটার। তীব্র শীতে চরম ভোগান্তি আর কষ্টে দিনযাপন করছেন এ জেলার চা ও পাথরশ্রমিকসহ শ্রমজীবী মানুষ। কাজকর্ম করতে পারছেন না তারা। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ জেলার চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলার আজিজনগর এলাকার চাশ্রমিক ইমন তরফদার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত থেকে অনেক শীত অনুভূত হচ্ছে। আমরা চা-বাগানে কাজ করতে পারছি না। আমাদের তেমন শীতের পোশাকও নেই, এই সময় যদি সরকার বা কেউ যদি শীতবস্ত্র সহযোগিতা দিয়ে করত তাহলে আমরা অনেক উপকার পেতাম।’
অটোচালক ইউসুফ আলী বলেন,‘শীতের কারণে বাজারঘাট সবকিছুই ফাঁকা। আমরা যাত্রী না পেয়ে বেকার সময় পার করছি। আমাদের আয় কমে গেছে। যার কারণে আমাদের অনেক কষ্টে দিনরাত যাপন করতে হয়।’
তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলা। হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার ছিন্নমূল ও শীত উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বের হওয়া খেটে খাওয়া মানুষ। রাস্তাঘাটেও লোকজনের আনাগোনা সীমিত হয়ে পড়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
যদি কোনো এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, তবে সেই এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে বলে ধরা হয়। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। আর অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ তখনই হয়, যখন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকে। প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন পঞ্চগড় ও চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি