স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে রাজধানীর মহাখালীর রেলগেটে সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থায় করায় ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রেলপথ অবরোধ করেন তারা। এতে ঢাকা থেকে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলা শহর থেকে আসা ঢাকামুখী ট্রেনগুলো ঢাকার কাছাকাছি বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, রেলপথ অবরোধের কারণে রাজশাহীগামী সিল্ক সিটি, সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেস, দেওয়ানগঞ্জগামী জামালপুর কমিউটার, সিরাজগঞ্জগামী সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস, তারাকান্দিগামী যমুনা এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়ের চিলাহাটিগামী চিলাহাটি এক্সপ্রেস, জয়দেবপুরগামী তুরাগ কমিউটার ট্রেনগুলোর ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সাধারণত এই ট্রেনগুলো বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যায়।
শিডিউল বিপর্যয়ে পড়া ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্ধুর গোধূলি, খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়গামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রামগামী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস, লালমনিরহাটগামী লালমনি এক্সপ্রেস, সিলেটগামী উপবন এক্সপ্রেস, মোহনগঞ্জগামী হাওর এক্সপ্রেস, কক্সবাজারগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস, রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস।
অবরোধের কারণে কমলাপুর স্টেশনে জামালপুর এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, যমুনা এক্সপ্রেস, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো আটকা পড়েছে। এ ছাড়া আখাউড়াগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনটিও আটকা পড়েছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহাখালী রেলগেট থেকে ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ের কমান্ড্যান্ট (রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যে অবস্থা দেখছি, তাতে মনে হয় না শিক্ষার্থীরা আজ রাতে রেলপথ ছেড়ে যাবে। রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়াও পুলিশ, এপিবিএন সদস্যরা বোঝানোর চেষ্টা করছে। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের সিদ্ধান্তে অনড়। এখন রেলওয়ের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে, যে ট্রেনগুলো ঢাকার কাছাকাছি বিভিন্ন স্টেশনে আছে সেগুলো অন্তত টঙ্গী, বিমানবন্দর বা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন পর্যন্ত আনা যায় কি-না। তাহলে যাত্রীরা অন্তত ঢাকায় ঢুকতে পারবেন। কমলাপুর স্টেশনে আসতে না পারলেও সেখান থেকে বাস বা অন্য কোনো পরিবহনযোগে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।’
ট্রেন বন্ধ থাকায় যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে কি-না এ নিয়ে জানতে চাইলে কমলাপুর স্টেশনমাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি।’
এর আগে বিকেল ৪টার দিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আজ বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আমরা খবর পেয়েছি যে ছাত্ররা নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে দিয়েছে। রেলওয়ে থানার ওসি বলেছেন, আপাতত পরিস্থিতি ভালো না। ট্রেন চলাচল যেন বন্ধ রাখি। তার কথামতো সব ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে।’
ঘটনাস্থল থেকে একজন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা সাড়ে ৩টার কিছু পরে নাখালপাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় শিক্ষার্থীরা লাল কাপড় দেখিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অনেকে রেললাইনে শুয়ে পড়েন।
জয়ন্ত/সালমান/