কর্মরত সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাসপোর্ট-সংক্রান্ত তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
দুদকের পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং তাদের আওতাধীন দপ্তরে কর্মরত সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত তথ্যাদি দাখিল করার জন্য নির্দেশনা প্রদান এবং যাবতীয় তথ্য দুদকের চাহিদানুযায়ী পাঠাতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট গ্রহণ-সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে গত ৬ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি পাঠান দুদকের মহাপরিচালক (মানি লন্ডারিং) মো. মোকাম্মেল হক।
চিঠিতে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এর ৪০ ধারা অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ দণ্ডনীয় অপরাধ। যদি কোনো সরকারি চাকরিজীবী দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করে থাকেন এবং তা তার কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন করেন তাহলে কারণ দর্শানোর যুক্তিসংগত সুযোগ দিয়ে সরকার/নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তার চাকরির অবসান করতে পারবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ব্যত্যয় অথবা শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
সরকারি কর্মচারীর দ্বৈত নাগরিকত্ব/পাসপোর্ট গ্রহণের তথ্য পাঠানো বিষয়ে দুদকের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু অসাধু সরকারি চাকরিজীবী তথ্য গোপন করে বাংলাদেশ ব্যতীত ভিন্ন দেশের নাগরিক হিসেবে পাসপোর্ট গ্রহণ ও ব্যবহার করছেন। চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে শাস্তি অথবা আইনগত পদক্ষেপ এড়ানোর লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সে সব দেশে অবস্থান করছেন। এভাবে সেসব সন্দেহভাজন ব্যক্তি আইনি পদক্ষেপ থেকে নিজেদের রক্ষা করাসহ নিজেদের অপকর্ম ঢেকে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এসব ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে থাকেন। অথচ, তাদের এ ধরনের কার্যকলাপ সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এর ৪০ ধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালিত বিভিন্ন অনুসন্ধানকালে এ মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে যে, সরকারি কর্মচারীদের এরূপ একাধিক পাসপোর্ট গ্রহণের অন্যতম লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত তাদের অবৈধ সম্পদ গোপন করে বিদেশে পাচার ও ভোগ করা। তাদের এরূপ কার্যকলাপ দেশে দুর্নীতির প্রসারে ভূমিকা রাখছে এবং দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তা ছাড়া, ভিন্ন একটি দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের সরকারি চাকরির নৈতিক দায়-দায়িত্বের প্রতি তাদের অনাগ্রহ পরিলক্ষিত হয়, যা কোনোক্রমেই বাঞ্ছনীয় নয়।
উল্লেখ্য, দণ্ডবিধির ২১ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭-এর ২ ধারা এবং ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১১০ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট অন্য সব আইন অনুযায়ী প্রতিরক্ষা বিভাগে কর্মরত সব কমিশন্ড অফিসার, আদালতে কর্মরত কর্মচারী ও বিচারক, সরকারি রাজস্ব খাত হতে বেতনভুক্ত সব কর্মচারী, সব স্বায়ত্তশাসিত, স্বশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিতে কর্মরত সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে বিবেচিত হন। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় পাবলিক সার্ভেন্ট অথবা তাদের পোষ্যরা দ্বৈত নাগরিকত্ব নেওয়ার বিষয়ে তার দপ্তরে থাকা তথ্যাদি পর্যালোচনা করা একান্ত আবশ্যক।
এ অবস্থায়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করা পাবলিক সার্ভেন্টদের পাসপোর্ট ও এতদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য পাঠাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমোদনক্রমে ও আদিষ্ট হয়ে অনুরোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়োগ/পুনঃনিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।