চট্টগ্রামে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি আবৃত্তি অনুষ্ঠান মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক আবৃত্তি শিল্পীকে হেনস্তা করা হয়েছে। মাইকে নাম ঘোষণা না করায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নেতা-কর্মীরা তেড়ে যান ঘোষণা মঞ্চের দিকে। এ সময় উপস্থাপককে মঞ্চ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে পৃথক দুটি ঘটনা ঘটায় জাসাস। শহিদ মিনারে ওঠার আগে তারা চট্টগ্রাম আবৃত্তি সম্মিলনের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয় ও পুষ্পমাল্য অর্পণের পর ঘোষণা মঞ্চ থেকে উপস্থাপককে বের করে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাশে আবৃত্তি অনুষ্ঠানে একটি কবিতায় বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণের পর জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেন। এ সময় এমন কবিতা পড়ার জন্য এক আবৃত্তিশিল্পীকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে দেখা যায়, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) একটি বহর নিয়ে শহিদ মিনারে যায়। সেখানে ঘোষণা মঞ্চে আবৃত্তি ও শহিদদের স্মৃতিচারণ চলছিল। এ কারণে জাসাসের নাম ঘোষণা করতে দেরি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাসাসের নেতা-কর্মীরা ঘোষণা মঞ্চের টেবিলে গিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে এক নেতা টেবিল থাপড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। এ সময় চারপাশ থেকে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। কয়েকজন জাসাস নেতাকে মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে উচ্চশব্দে কথা বলতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের পরিদর্শনক মোহাম্মদ আফতাব হোসেন জাসাসের নেতা-কর্মীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের একান্ত সহকারী মোহাম্মদ ফারুফ। তিনি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
পুলিশের পরিদর্শনক মোহাম্মদ আফতাব হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, জাসাসের নাম ঘোষণা না করায় একটু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। ভুল বোঝাবুঝির কারণে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরে শান্ত হয়ে যার যার গন্তেব্যে চলে যান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আহ্বায়ক মূছা বাবলু খবরের কাগজকে বলেন, ‘আবৃত্তি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে উজ্জীবিত করার কথা বলা হচ্ছিল। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সবাইকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। কিন্তু আমরা অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিইনি। আমাদের উপস্থিতির মধ্যে আয়োজকরা অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। আমাদের নেতা-কর্মীরা কাউকে লাঞ্ছিতও করেরনি।’