লাখো মুমিনের আমিন ধ্বনিতে আখেরি মুনাজাত ও সমাপনী বয়ানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো চরমোনাই মাদরাসা ময়দানের তিন দিনব্যাপী ফাল্গুনের মহফিল।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় মহফিল মাঠে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে সমাপনী বয়নায় ও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন চরমোনাইর পীর হজরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
এ সময় তিনি ফিলিস্তিন, ভারত, কাশ্মীর, মায়ানমার, সিরিয়া-সহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেন। পাশাপাশি আখেরি মুনাজাতে অংশ নেওয়া প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, ওলামায়ে কেরাম এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মোবারকবাদ জানান তিনি।
সমাপনী বয়ানে চরমোনাইর পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, মানুষ আল্লাহকে ভুলে অহরহ নাফরমানি করছে। অথচ একজন মানুষ কবরে গিয়ে মাফ না পাওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিকৃষ্ট পশুর মতো মনে করতে হবে। সুতরাং তাক্বওয়া বা আল্লাহর ভয় অর্জনের মাধ্যমে মহান রবের সন্তুষ্টি নিয়ে কবরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমিত্ব ভাব ও তাকাব্বুরি পরিত্যাগ করতে হবে। হিংসা বিদ্বেষ পরিত্যাগ করতে হবে। সকাল-সন্ধ্যা জিকিরের মাধ্যমে কলপ পরিশুদ্ধ করতে হবে। গিবতের মতো গুনাহ থেকে দূরে থাকতে হবে। আল্লাহর ভয় যার অন্তরে নেই ওই মানুষ এমনকি আলেম, মুফতি ও পীরের কোনো মূল্য নেই।
তিনি বলেন, পরিবারের সবাইকে দ্বিন শিক্ষা দিয়ে দ্বিনের পাবন্দি করতে হবে। পরিবারে খাছ পর্দা জারি করতে হবে। সকল প্রকার নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করতে হবে। আল্লাহওয়ালাদের কিতাব পড়া ও ছহিহ শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে।
চরমোনাই মাহফিলের মিডিয়া উপ-কমিটি সদস্য কে এম শরীয়াতুল্লাহ জানান, এ বছরের মাহফিলের আখেরি মুনাজাত পরিচালনাসহ পীর সাহেব মাহফিলে মূল সাতটি বয়ানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেছেন। তিন দিনের মহফিলে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশসহ সৌদি আরব, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিশর, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও তুরস্কের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামরা যোগদান করেছেন।
মাহফিলে আসা মুসল্লিদের মধ্যে ১০ জন বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। তারা হলেন- মুন্সিগঞ্জের মো.আলাল খালাসি (৭২), পাবনার আব্দুল জলিল খান (৬৫), গাজীপুরের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ব্যাপারী (৫০), চুয়াডাঙ্গার মো. ওসমান (৫০), নীলফামারীর মো. মঞ্জুরুল ইসলাম (৬০), চাঁদপুরের আলি আহম্মদ (৫৫), বগুড়ার মো. আব্দুল হামিদ (৬৫), চাঁদপুরের মো.আইউব আলী (৬০), নারায়ণগঞ্জের মো. আলতাফ হোসেন (৬৫), নরসিংদীর মো. আবুল কালাম (৪২)।
এ ছাড়া চরমোনাই অস্থায়ী মহফিল হাসপাতালে প্রায় তিন হাজার মুসল্লিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মঈনুল ইসলাম/অমিয়/