ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন
Nagad desktop

আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ প্রতিবাদ বিক্ষোভ

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:৫৯ এএম
আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০৩ পিএম
আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ প্রতিবাদ বিক্ষোভ
ছবি : খবরের কাগজ

বিরাজমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনে-দুপুরেও খুন-ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটছে। এর সঙ্গে বেড়েছে ধর্ষণসহ নারী-শিশু নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির ঘটনা। এসব কারণে বাধ্য হয়ে নাগরিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। 

রবিবারও (২৩ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। 

গতকাল বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। সেখানে বক্তারা বলেন, দেশব্যাপী ছিনতাই, হামলা, ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়ে গেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশে তারা বলেন, দেশের মানুষকে সুরক্ষা দিতে না পারলে পদত্যাগ করুন। এ ছাড়া ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা এসব ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই প্রতিরোধসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে আলটিমেটাম দিয়ে গতকাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেন মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা। এ ছাড়া গতকাল আসাদ গেটে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা। ধর্ষণের বিস্তার ও রাষ্ট্রের বর্তমান বিশৃঙ্খলায় সরকারের কার্যকর ভূমিকা না রাখার প্রতিবাদে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ইনকিলাব মঞ্চ। পাশাপাশি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সন্ধ্যার পর মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও গতকাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। ঢাকার বাইরেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং টাঙ্গাইলে নারী ও শিশু যৌন নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। 

যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর খবরের কাগজকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। আরও কীভাবে পরিস্থিতির উন্নয়ন করা যায়, সে লক্ষ্যে আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।’

ঘটনা বিশ্লেষণে জানা যায়, সম্প্রতি টাঙ্গাইলে রাজশাহী রুটের একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানি করার ঘটনা ঘটে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে যৌথ বাহিনীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া উত্তরা ও মগবাজারে গত সপ্তাহে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছিনতাইকারী-সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। 

গতকাল ভোরে ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার জিরাবোতে নিজ বাড়িতে ডাকাতের হামলায় পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অভিনয়শিল্পী আজিজুর রহমান আজাদ। ডাকাতের আক্রমণে আজাদের মা ও স্ত্রীও আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। যৌথ বাহিনীর চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ও নিয়মিত অভিযানের পরও অপরাধীরা কীভাবে এমন বেপরোয়া তৎপরতা চালাচ্ছে, সেটাও এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই জাতীয় পরিস্থিতিতে সাধারণত দুটি বিষয় কাজ করে। একটি হলো উদ্দেশ্যমূলক অপরাধ এবং অন্যটি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধ। তবে বিশেষ অভিযান (অপারেশন ডেভিল হান্ট) চললে একটা প্রভাব পড়ার কথা। কিন্তু সেখানে সেভাবে উন্নতি হয়তো দেখা যাচ্ছে না। যদিও এটার জন্য কিছুটা সময় লাগবে। তার পরও যেটা মনে হচ্ছে, পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অভাব আছে। মাঠপর্যায়ের পর্যাপ্ত তথ্য ঘাটতি আছে। গোয়েন্দা তথ্য বাড়াতে হবে। সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের বিকল্প নেই।’

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, গত জানুয়ারিতে সারা দেশে ৩৯ জন নারী-শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন তিনজন। এ ছাড়া গত বছরে তথা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৪০১ জন নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হন। এর মধ্যে ‘গ্যাং রেপ’ বা গণধর্ষণের শিকার হন ১০৫ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৪ জনকে। অন্যদিকে গত মাসে পারিবারিক ও সামাজিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৪০ জন নারী, যার মধ্যে খুনের শিকার হন ২১ জন। গত জানুয়ারিতে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৪ জন। হয়রানির শিকারদের মধ্যে তিনজন পুরুষও রয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার সহকারী কমিশনার (এসি) মো. জাহাঙ্গীর কবির খবরের কাগজকে জানান, রাজধানীতে গত ডিসেম্বর মাসে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে (থানায় মামলা অনুসারে) ৩৯টি এবং জানুয়ারিতে ৫৪টি। গত ডিসেম্বরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৯টি এবং জানুয়ারিতে ঘটেছে ৮টি, চুরির ঘটনা ডিসেম্বরে ১২৬টি এবং জানুয়ারিতে ঘটেছে ১৪৬টি, হত্যাকাণ্ড গত ডিসেম্বরে ৪৬টি ও জানুয়ারিতে ৩৬টি। ডিসেম্বরে মোট ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার ৩৮৫ জন এবং জানুয়ারিতে ৭১৯ জন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম খবরের কাগজকে বলেন, ‘পুলিশের সক্ষমতা এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি। মাঠপর্যায়ে নিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের মনোবল বাড়ানোর বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এখনো পুলিশের মধ্যে কী করব, কী করব না- এমন দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে। কিন্তু ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে তো দ্বিধার কিছু নেই। এখানে তো পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নিতেই পারে। ফলে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।’ তিনি বলেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ছাড়া এই জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা খুব কঠিন। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার।

এ বিষয়ে গতকাল রাত ৮টার দিকে মুঠোফোনে কথা হয় বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে সেটি একই রকম আছে। তবে ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়েছে, সেটা আমরাও লক্ষ করছি। মাঝখানে সহনীয় মাত্রায় থাকলেও ইদানীং তাদের বাড়তি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এটার কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। আমরা এসব নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছি। এরই মধ্যে র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান নিয়ে গত শনিবার আমরা বৈঠক করেছি। ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। এ লক্ষ্যে আজ (গতকাল রবিবার) থেকেই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

জামিন নিয়ে অপরাধীরা আবারও জড়াচ্ছে একই অপরাধে: র‌্যাব ডিজি
সম্প্রতি কয়েক শ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হলেও তারা আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমান। গত শনিবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী টোলপ্লাজায় টহল ও চেকপোস্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে র‌্যাব মহাপরিচালক এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ দমনে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। 

শহিদুর রহমান বলেন, ‘ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। র‌্যাবের ঢাকার ৫টি ও ঢাকার বাইরের ১০টি ব্যাটালিয়ন নিয়ে আমরা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছি।’ তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ছিনতাই, দস্যুতা, ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহীগামী একটি যাত্রীবাহী নৈশবাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মা-বোনের সম্ভ্রমহানির অভিযোগও আছে। ঢাকা শহরেও অনেক ক্ষেত্রে মা-বোনরা ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, এই অপরাধগুলো দমন করার জন্য। রাজশাহীগামী সেই নৈশবাসের ঘটনায় বেশ কয়েকজন দস্যুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ-মশাল মিছিল
সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ, খুন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সরকারি ইডেন কলেজে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া গতকাল আসাদগেটে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা। গতকাল ইডেন কলেজে এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও আসাদগেটে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ধর্ষণকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের আশ্বাসে ৩ ঘণ্টা পর বেলা ২টার দিকে সড়ক ছেড়েছেন তারা।

ইডেনের সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সম্প্রতি সারা দেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। নারী নির্যাতন রোধে রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে নারীরা নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন। আমরা চাই, নতুন বাংলাদেশে কেউ যাতে আর ধর্ষণের শিকার না হন। আমরা চাই, ভাইয়েরা-বোনেরা একসঙ্গে আন্দোলন করবে, রাজপথে থাকবে, দেশ গড়বে।’

দেশজুড়ে অব্যাহতভাবে নারী ও শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে নারী ও শিশু যৌন নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়করা নারী ও শিশু যৌন নিপীড়ন ব্যানারে এ আন্দোলন করছেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা লেখাসংবলিত ফেস্টুন নিয়ে এ অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা।

সারা দেশে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বিক্ষোভ ও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ নিচতলায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।

ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে বিক্ষোভ করেছেন রংপুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি জানান তারা। অন্যথায় আগামীতে বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে
ছবি: সংগৃহীত

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন নির্ধারিত অনুষ্ঠানমালা বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের লক্ষ্যে তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। 

সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানমালা জুনের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী সময়সূচি যথাসময়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে।

 

মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ-ও বলেছেন, ভারতের সাথে সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রশ্নোত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে এবং সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ফেন্সিডিলসহ সব ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার মোতাবেক 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে বিজিবি। সেইসাথে, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, জানান মন্ত্রী।

এছাড়া, দুর্গম ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও  নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণের ফলে বিজিবির বিওপিসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং টহলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। সেগুলো হলো:

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় ইতিমধ্যে 'স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম' স্থাপন করা হয়েছে।
দুর্গম পার্বত্য সীমান্তে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যার ফলে বিজিবির টহল দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে যেকোনো সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সক্ষম হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের চোরাচালান ও অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে এবং অপরাধীদের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তার জন্য নিয়মিত 'জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম' পরিচালনা করা হচ্ছে।

এসএন/

যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী
মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে  না’ বলে যারা হুমকি দিচ্ছে, তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বিএনপি আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে বিএনপি কাজ করবে।’

‘যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা জনগণের স্বার্থে কথা বলছে না, তারা নিজের স্বার্থে কথা বলছে।  তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।’

একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে আছে তো— এখানে অনেক মুরুব্বি আছেন। মনে আছে তো— একাত্তরে এরা কী করেছিল? মনে আছে তো— ’৮৬ তে কী করেছিল? মনে আছে তো— এর মধ্যে এক যুগ যে আন্দোলন চলেছিল, সেই আন্দোলনে তাদেরকে কোথাও আমরা কিন্তু দেখিনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যদি শহিদদের তালিকা বের করা হয়, দেখা যাবে যে ছাত্রটি মারা গিয়েছে—তিনি ছাত্রদলের একজন কর্মী, যে ছাত্রটির বউ মরেছে তিনি ছাত্র দলের কর্মী, যে যুবকটি মারা গিয়েছে তিনি যুবদলের কর্মী, যে যুবকটি গুম হয়েছে তিনি যুবদলের কর্মী। যেই মানুষ বিনা কারণে জেল খেটেছে, খুঁজলে দেখা যাবে তিনি বিএনপির কর্মী, যে মানুষ মিথ্যা মামলা মাথায় করে বয়ে বেড়িয়েছে বছরের পর বছর, খোঁজ করলে দেখা যাবে তিনি শহিদ জিয়া, খালেদা জিয়ার কর্মী।’

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি জনগণের ম্যান্ডেটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘মানুষ বিএনপিকে বলেছে, তোমরা দেশকে গড়ে তোলো, মানুষ বিএনপিকে বলে দিয়েছে, আগামী পাঁচ বছর তোমাদেরকে সময় দিলাম তোমরা দেশকে ঠিক করো। স্বৈরাচার দেশকে খালি করে দিয়ে চলে গিয়েছে।’

শ্রীমঙ্গল থেকে বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান মৌলভীবাজারে। এই অনুষ্ঠানে জেলার প্রান্তিক নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ১০ জন নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বাটন চেপে মৌলভীবাজারের ১৯ ওয়ার্ডসহ অনলাইনের মাধ্যমে আরো ২১ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তৃতীয় পর্যায়ে নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি একযোগে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের আগে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি আম ও নিম গাছের চারা  এবং এর আগে শ্রীমঙ্গলে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাম ও কৃষচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠানে চা-শ্রমিকের আবাসন এবং তাদের সন্তানদের বৃত্তি প্রদানসহ দুঃস্থ-অসহায়, প্রতিবন্ধী, প্রান্তিক মানুষের মধ্যে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেন সরকার প্রধান।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বলেছে, সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। তাদের সম্পর্কে সর্তক করে  আমি বলতে চাই, বিএনপির প্রতিশ্রুতির পরিকল্পনা জনগণের পরিকল্পনা। এটি যারা ভেস্তে দিতে চায়, তাদের সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কিছু করা লাগবে না। জনগণ সতর্ক থাকলেই বিএনপির কাজ হয়ে যাবে। কারণ, এ দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। মালিক যদি সতর্ক থাকে আর কারো টেনশন থাকবে না। এ দেশের মালিক জনগণ, জনগণের হাতে এই দেশের নিরাপত্তা, এ দেশের উন্নয়ন, এ দেশের ভবিষ্যৎ আমি সঁপে দিয়ে গেলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিএনপিকে সময় দিতে চায় না তারা বলে ফ্যামিলি কার্ড কোত্থেকে করবা? টাকা পাবা কই? তাদের উদ্দেশ্যে পরিস্কার করে বলে দিতে চাই, বিগত এক যুগ আমরা দেখেছি, সারা পৃথিবী দেখেছে, সারা পৃথিবী সাক্ষ্য দিয়েছে— কীভাবে এ দেশের অর্থ পাচার হয়ে গিয়েছিল। এখন থেকে বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে সেই পাচার আমরা রুখে দেব।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশের মানুষের অর্থ, এই দেশের মানুষের সম্পদ দেশেই থাকবে। কোথাও যেতে পারবে না। এ দেশের  মানুষের অর্থ এই দেশের মানুষের সম্পদ এ দেশের মানুষের ভালোর জন্য ব্যবহার হবে। যারা বলে টাকা কোথায় পাবা, তাদের কাছে এই হচ্ছে আমার জবাব। তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলতে চাই, মানুষকে নিয়ে চিন্তা করুন, মানুষকে নিয়ে কাজ করার চিন্তুা করুন, দেখবেন উপায় বের হবে।’

সামনে সময় দেশের জন্য কাজ করার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনের সময় হচ্ছে কাজ করার, সামনে সময় হচ্ছে দেশ গড়ার, সামনের সময় হচ্ছে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। আজকে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, এই ৪০ কোটি হাত যদি অবশ হয়ে পড়ে থাকে, অলস হয়ে পড়ে থাকে— তাহলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যাবে না।’

একাত্তরে দেশ স্বাধীন করেছিল বাংলাদেশের জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছিল কে? বাংলাদেশের জনগণই মুক্ত করেছিল। কাজেই দেশকেও গড়ে তুলবে বাংলাদেশের জনগণ। কারণ, খালেদা জিয়াকে যখন বলেছিল দেশ ছেড়ে চলে যাও। তখন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বাংলাদেশের মাটি হচ্ছে আমার প্রথম  এবং শেষ ঠিকানা। মনে আছে আপনাদের? আমাদের সকলের এই বাংলাদেশই হচ্ছে প্রথম ও শেষ ঠিকানা।’

‘কাজেই এ দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, এ দেশকে যদি গড়ে তুলতে হয় তাহলে সকলে আমাদেরকে হাতে হাত মিলিয়ে এক সাথে কাজ করতে হবে।’

উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন এখানে সবাই আমরা হাত তুলে প্রতিজ্ঞা করি যে, আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি, আমাদের আগামী দিনের প্রত্যাশা, আমাদের আগামী দিনের সকল কর্ম পরিকল্পনা হবে এই দেশ ও এ দেশের মানুষকে ঘিরে। দেশ গড়াই হবে আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি।’

১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো যেমন— ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, মুয়াজ্জিন, ইমামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের সম্মানিভাতা প্রদান, স্কুল শিক্ষার্থীদের ড্রেস প্রদান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা প্রভৃতি কাজ শুরু করার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর উপকারটা কার হবে? দলমত নির্বিশেষে এর উপকার পাবে সকল মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী করেছে।  ১৭ তারিখের পর এ সরকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার। বর্তমান সরকার হচ্ছে, দলমত নির্বিশেষে সবার সরকার। আমাদের সরকারের মূখ্য বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশের মানুষ।’

অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের এই অঞ্চলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে গত এক যুগেরও বেশি সময় এই জেলায় উন্নয়ন না হওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারহানা শারমিন, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউস, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এবং কেরানিগঞ্জ থেকে অনলাইনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠান শেষ করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেটের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

নাঈম/

যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে আবেদন অনুমোদন পাওয়া প্রায় ছয় হাজার নাগরিকের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দূতাবাসের মাধ্যমে এসব এনআইডি সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বুধবার (১৭ জুন) জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ১৬ হাজার ৭১৫ জন প্রবাসী এনআইডির জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ১০ হাজার ৯৬৮ জনের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিতদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০৭ জনের এনআইডি বর্তমানে প্রিন্টিং পর্যায়ে রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডার মায়ামি এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে দূতাবাসের মাধ্যমে এনআইডি কার্যক্রম শুরু হয়। এর আওতায় নিউইয়র্কের ৪ হাজার ১৭০ জন, ওয়াশিংটনের ৪৩০ জন, মায়ামির ৩৬৫ জন এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ৪৪২ জনের এনআইডি পাঠানো হচ্ছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ইসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার প্রবাসী ইতোমধ্যে এনআইডি পেয়েছেন।

বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদনকারীদের অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র, বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন, অনলাইন জন্মনিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হয়। বিশেষ কিছু উপজেলার নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্রও দাখিল করতে হয়।

ইসি আরও জানায়, প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট উপজেলায় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আবেদন অনুমোদন করে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের এনআইডি সরবরাহ করা হয়।

ইসি/এলিস/আমান

নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (ডিইডব্লিউ) লিমিটেড থেকে নির্মিত হচ্ছে পাঁচটি রিভারাইন পেট্রল ভেসেল।

বুধবার (১৭ জুন) নারায়ণগঞ্জে ডিইডব্লিউ চত্বরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য ওই পাঁচটি রিভারাইন পেট্রোল ভেসেল (আরপিভি) নির্মাণের লক্ষ্যে ‘কিল-লেয়িং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড ও শিপইয়ার্ডগুলো সাফল্যের ধারাবাহিকতায় অগ্রযাত্রার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ও নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ ধারাবাহিকতায় বুধবার ডিইডব্লিউ লিমিটেড থেকে কোস্টগার্ডের জন্য পাঁচটি ‘আরপিভি’ নির্মাণের লক্ষ্যে ‘কিল-লেয়িং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ডিইডব্লিউ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তির ওই আরপিভির দৈর্ঘ্য ৩৮ দশমিক ৫ মিটার, প্রস্থ ৭ দশমিক ৯০ মিটার, গভীরতা ২ দশমিক ৪৫ মিটার এবং ২৩২ টন ডিসপ্লেসমেন্ট ক্ষমতাবিশিষ্ট সক্ষমতায় এটি নির্মিত হচ্ছে। প্রতিটি নৌযান ঘণ্টায় ২৫ মাইল বেগে চলাচল করতে সক্ষম হবে। এতে নৌযানে নেভিগেশন র‍্যাডার, জিপিএস, যোগাযোগ প্রযুক্তি, নাইট ভিশন ও বিভিন্ন ধরনের আধুনিক সরঞ্জামাদি সংযোজিত থাকবে। কম গভীরতায় চলাচলের উপযোগী ও উচ্চগতি সম্পন্ন এ নৌযানসমূহ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বহরে সংযোজনের মধ্য দিয়ে দেশের নদী, মোহনা এবং উপকূলীয় এলাকার সংকীর্ণ ও দুর্গম নৌপথে অধিক দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, কম গভীরতাসম্পন্ন জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নজরদারি জোরদারকরণ, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নদীপথ ব্যবস্থাপনায় কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

আলমগীর হোসেন/নাঈম