দেশে গত এক দশকে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৫ সালে যৌন সহিংসতা ছিল ২৭ দশমিক ২ শতাংশ। আর ২০২৫ সালে এক দশক পরে যৌন সহিংসতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে এই সময়ে নারীর প্রতি শারীরিক সহিংসতা কমেছে। ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ নারী সহিংসতার বিষয়ে পদক্ষেপ নেন না।
বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিবিএসের অডিটোরিয়ামে নারীদের ওপর সহিংসতা শীর্ষক জরিপ ২০২৪-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। জরিপে সহায়তা দিয়েছে জাতিসংঘের ইউএনএফপিএ। খানাভিত্তিক এ জরিপে শহর-গ্রাম-দুর্যোগপ্রবণ এলাকার ২৭ হাজার ৪৭৬ জন নারীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
জরিপে চার ধরনের সহিংসতা তুলে ধরা হয়। এগুলো হচ্ছে- শারীরিক সহিসংতা, যৌন, অর্থনৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক সহিসংতা। বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী তাদের জীবনসঙ্গী বা স্বামীর মাধ্যমে সহিংসতার শিকার হয়। বাংলাদেশে জীবনসঙ্গীর দ্বারা সহিংসতা এখনো ব্যাপকভাবে বিদ্যমান, যা লাখ লাখ নারীর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে মাত্র ৭ দশমিক ৪ শতাংশ আইনের আশ্রয় নেন। বাকি ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ নারী এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেন না। সহিংসতার শিকার ৬৪ শতাংশ নারী তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সহিংসতার কথা কারও সঙ্গে শেয়ার করেন না।
বাংলাদেশের প্রায় ৭০ ভাগ নারী তাদের জীবদ্দশায় অন্তত একবার হলেও শারীরিক, যৌন, মানসিক এবং অর্থনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আকতার। অতিথি ছিলেন ইউএনএফপিএর প্রতিনিধি মাসাকি ওয়াটাবে এবং অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনের ডেপুটি হেড অব মিশন ক্লাইনটন পবিক। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ইফতেখার করিম। প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম সচিব দীপঙ্কর রায়।