ভোট-সন্ত্রাস করে আপাত দৃষ্টিতে জেতা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল ও দেশের জন্য তা ভালো হয় না, টিকে থাকা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীন।
রবিবার (২ মার্চ) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ৭ম জাতীয় ভোটার দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
'তোমার আমার বাংলাদেশে, ভোট দিবো মিলেমিশে', এই প্রতিপাদ্যে আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস। সকালে নির্বাচন ভবনের সামনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ৭ম জাতীয় ভোটার দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর পর নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে র্যালি বের করে নির্বাচন কমিশন।
এ সময় ২০২৪ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে জানানো হয় দেশে বর্তমানে মোট ভোটার ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন। ভোটার বৃদ্ধির হার ১.৫৪%।
সিইসি বলেন, 'ভোট-সন্ত্রাস করে আপাত দৃষ্টিতে জেতা যায়। কিন্তু আখেরে নিজের জন্য দলের জন্য, দেশের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনে। সন্ত্রাস করে আখেরে টিকা যায় না। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই এর ফল ভালো হয় না। তাই আমার প্রত্যাশা, ভোটে গোলযোগ করবেন না। আমরা ইনশাআল্লাহ সর্বশক্তি দিয়ে ১৮ কোটি মানুষের পাশে আছি। দেশবাসীর কাছে আমার আবেদন, আপনারা আমাদের পাশে থাকুন।
সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, 'আমরা জাতির কাছে ওয়াদা দিয়েছি আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমাদের ব্যক্তিগত কোনো অ্যাজেন্ডা নেই। অন্য কারোর অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেও আসিনি। আমাদের অ্যাজেন্ডা হলো ১৮ কোটি মানুষের অ্যাজেন্ডা। আমাদের অ্যাজেন্ডা বাংলাদেশের অ্যাজেন্ডা। আমাদের অ্যাজেন্ডা বাংলাদেশিদের অ্যাজেন্ডা- একটা সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন করা। আমরা যে ওয়াদা দিয়েছি, সেটা বাস্তবায়নে কাজ করছি।'
এ সময় সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে নিজের এক বন্ধুর কাছে টেলিফোনে দোয়া চাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে সিইসি অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের ওয়াদা করান।
তিনি বলেন, অনেকে মনে করে আমার দলটাই দেশপ্রেমিক, অন্যরা তা নয়। কিন্তু সেটা ভুল। মানুষ জন্মগতভাবেই দেশপ্রেমিক। তাই নির্বাচনে অনিয়মের আশ্রয় না নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান সিইসি।
আলোচনায় নির্বাচন কমিশনাররা বলেন, সহিংসতামুক্ত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে প্রতিজ্ঞ কমিশন। নির্বাচনে অপরাধের দায় ইসি এড়াতে পারবে না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ভোটবিমুখ জনগণকে নির্বাচনমুখী করার সুযোগ কাজে লাগাতে চায় কমিশন।
ইসি মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র উত্তরণের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভঙ্গুর নির্বাচন পরিস্থিতিতে ভোটবিমুখ জনগোষ্ঠীর এই মুহূর্তে ভোটে ফেরার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তাই এবারের ভোটার দিবস তাৎপর্যপূর্ণ। যাতে করে কেউ ভুয়া কিংবা অস্বচ্ছ ভোটার তালিকা না বলতে পারে। ‘এমনকি তরুণ ভোটারদের ভোটে অন্তভুর্ক্ত করা এবং নারী ভোটাররা যাতে বাদ না পড়ে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নতুন করে আবারও নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। 'রাতের ভোট দেখতে চায় না নির্বাচন কমিশন। ভোটে কারও কর্তৃত্ব দেখতে চাই না।’
ইসি রহমানেল মাছউদ বলেন, বিগত নির্বাচনগুলো নিয়ে বিতর্কের দায়ভার কমিশন এড়াতে পারবে না। অতীতে ভালো নির্বাচন না হয়ে থাকলে তার দায় কমিশনকে নিতে হবে। ভোটাধিকার নিশ্চিত করার কঠিন চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবিলা করব। সেই পরীক্ষায় সফল হব আশা রাখি।
ইসি তাহমিদা আহমদ বলেন, 'চারদিকে শুধু শুনছি সংস্কার সংস্কার। কমিশনে কি সংস্কার হবে না? বদ্ধ ঘরে ভোট না, আমি চাই ভোট হোক খোলা মাঠে। কর্মীদের সহায়তা চাইলে তারা আশ্বাস দেন। দেখিয়ে দিতে চাই খোলা মাঠেও ভোট সম্ভব। নির্বাচনের স্বচ্ছতার জন্য ভোটটা হোক খোলা মাঠে। এ বিষয়টা অনেকে পাগলামি মনে করতে পারেন। তবে সবাই সোচ্চার থাকলে সেটা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।'
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, 'নির্বাচনের মাধ্যমে পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রের শাসক নির্বাচন করেন। কিন্তু সেই ভোটই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।'
এলিস/মেহেদী/