বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অনিন্দিতা দত্তকে রবিবার (১৬ মার্চ) তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন শাহবাগ থানা ছাত্রদল পরিচয়ে কয়েক যুবক। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বেলা আড়াইটার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
অনিন্দিতা দত্ত রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। বিভাগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ ব্লকে, ক্যানসার ভবনে। তার বাবা অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। এ ছাড়া প্রাণ গোপাল ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। তিনি ২০২১ সালে কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই। মনে হয় আর্মি গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে একটু কথা বলেন।’
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নোমান মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দীন জানান, বেলা আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই চিকিৎসককে হাসপাতাল থেকে বের করে ধানমন্ডি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন।
অনিন্দিতা দত্তকে অবরুদ্ধকারীদের মধ্যে রুবেল আহমেদ নামের একজন নিজেকে শাহবাগ থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের কর্মী বলে পরিচয় দেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অনিন্দিতা দত্তকে তারা অনেক দিন ধরে খুঁজছিলেন, কিন্তু পাচ্ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় জুলাই গণহত্যার সংশ্লিষ্টতায় মামলা রয়েছে। রবিবার সকালে মামলার বাদী তাদের জানিয়েছেন অনিন্দিতা দত্ত অফিস করছেন। তারপর তারা এসে অবরুদ্ধ করেন।
শাহবাগ থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। শাহবাগ থানা ছাত্রদলের কেউ ওখানে যাননি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কেউ গেলে জানতাম।’