রাজশাহীতে টানা তিন দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। আকাশ আজও মেঘলা রয়েছে। গত দুই দিন ছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস। এতে স্বস্তির পাশাপাশি ভোগান্তিও পোহাচ্ছিলেন নগরবাসী। শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে অব্যাহত ছিল।
শনিবার (২২ মার্চ) রাজশাহীর আবহাওয়া মেঘলা আকাশ। সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ৯০ দশমিক। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমান ৭ দশমিক ২ মিলিমিটার।
তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তন
আবহাওয়া অফিসসূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাজশাহীতে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল, যা মৃদু তাপপ্রবাহের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন আসে। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির বেশি কমে যায়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর থেকে বৃষ্টি শুরু হয়, তবে তা স্বল্পস্থায়ী ছিল। ওই দিন বেলা ৩টা পর্যন্ত মাত্র ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। শুক্রবার (২১ মার্চ) সকাল ৬টা থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
শনিবারও হতে পারে বৃষ্টি
এর আগে ১৭ মার্চ রাজশাহীতে বৃষ্টি হয়েছিল, তবে তা রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি। তখনো তাপমাত্রা কিছুটা কমেছিল, কিন্তু পরে সূর্যের দেখা মেলায় আবার তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সহকারী পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানিয়েছেন, আজ শনিবার (২২ মার্চ) বৃষ্টিপাত হতে পারে। সকাল থেকে আকাশ মেঘলা, সূর্যের দেখা মেলেনি। বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমে গেছে। শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।
এদিকে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জনজীবনে স্বস্তি এসেছে। তবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বাড়িয়েছে ভোগান্তি। নগরের বিনোদপুর এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক সফিকুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকলে ভালো। তবে বৃষ্টি হলে গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়। শরীর বৃষ্টিতে ভিজে যায়। তবে রিকশা চালাতে আরাম পাই। শরীর থেকে ঘাম ঝরে না। রোজা রাখতে সমস্যা হয় না।
অন্যদিকে, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে আম, ধান, গমসহ সব ফসলের উপকার হবে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে সালমা বলেন, এই বৃষ্টি আমের জন্য ভালো। আমের বোঁটা শক্ত হবে। দীর্ঘদিন খরার পরে হালকা বৃষ্টি হলো। তবুও চাষিদের আমের বাগানে সেচ দিতে হবে। এ ছাড়া অন্য সব ফসলের জন্য উপকার হবে।
এনায়েত করিম/জোবাইদা/