আজ ২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘গ্লেসিয়ার্স প্রিজারভেশন’ অর্থাৎ ‘হিমবাহ সুরক্ষা’। বরফ গলার কারণে সাগরের পানি বাড়ছে। তার নেতিবাচক প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়বে। সে জন্য এটিকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ব পানি দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে যেহেতু গ্লেসিয়ার নেই। সেহেতু এবারের পানি দিবসের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে পানি ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের বিষয়টি।
পানি নিয়ে অনুষ্ঠানে পরিবেশবিদরা আগামী দিনে করণীয় নিয়ে মতামত উপস্থাপন করবেন। পানি ব্যবস্থাপনায় তারই আলোকে সরকারকে সেই ধরনের সংস্কার প্রস্তাব দেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এ কে এম তাহমিদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্লেসিয়ার যদি সুরক্ষা করা না যায়, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব আমাদের সবার ওপর পড়বে। হিমবাহ গলে গেলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়বে। সমুদ্রের পানি বাড়লে আমাদের ঝুঁকি বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টির পাশাপাশি আমাদের আলোচনা বা থিমের মধ্যে থাকবে পানি ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের বিষয়টি। সম্প্রতি আমাদের দেশে যে পরিবর্তন হয়ে গেল, বহু জায়গাতেই সংস্কার হচ্ছে। পানি ব্যবস্থাপনাও সংস্কার প্রয়োজন। এই সেক্টরে সরকারি এবং বেসরকারিভাবে অনেকেই কাজ করছেন। তাদের কাছ থেকে আমরা জানতে চাই কী ধরনের সংস্কার দরকার। আমরা এখন এক ধরনের ম্যানেজমেন্ট করছি। এখানে কোন ধরনের সমস্যা আছে, তা চিহ্নিত করে সেগুলো বাদ দিয়ে কী সংস্কার করা যায় তার প্রস্তাব দেওয়া হবে।’
শনিবার বেলা ১১টায় পানি ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব পানি দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিটিভিতে স্ক্রল, মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। বিশ্ব পানি দিবসকে ‘গ’ শ্রেণি থেকে ‘ক/খ’ শ্রেণিতে উন্নীতকরণে কাজ করা হচ্ছে।
১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে জাতিসংঘ পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনের (ইউএনসিইডি) এজেন্ডা ২১-এ প্রথম বিশ্ব জল দিবস পালনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। পানির গুরুত্ব তুলে ধরতে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ২২ মার্চ বিশ্ব জল দিবস বা বিশ্ব পানি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সে বছরই প্রথম দিবসটি পালিত হয়। তারপর থেকে দিবসটির গুরুত্ব বাড়তে থাকে।
প্রতিবছর বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা যেকোনো একটি বিশেষ কর্মসূচি পালন করে থাকে। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ব পানি দিবসের থিম, বার্তা ও প্রধান সংস্থা নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছে জাতিসংঘ। পরিশুদ্ধ জল ও জলসম্পদ রক্ষা সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও এই দিন বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে।