ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক নিরাপত্তা আরও উন্নত করার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) যৌথভাবে ‘নিরাপদ পথচারী পারাপার পাইলট প্রকল্প’ চালু করেছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ঢাকা রোড ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্ট (ডিআরএসপি) এর কারিগরি সহযোগিতায় রবিবার (২০ এপ্রিল) এ প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে।
সোমবার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিএমপির মুখপাত্র উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, পথচারীদের মতামত এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে পাইলট প্রকল্পটি মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্পটি ঢাকা মহনগরীতে ট্রাফিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে ডিএমপির সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এ প্রকল্পের প্রধান অংশীদার হিসেবে আমরা ঢাকার দুটি সিটি কর্পোরেশনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।’
এ প্রকল্পের আওতায় ডিআরএসপির অধীনে এ পাইলট প্রকল্প চলাকালীন পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য পুশ বোতামসহ এক সেট পোর্টেবল ট্রাফিক লাইট স্থাপন করা হবে।
সড়কে চলাচলরত যানবাহনগুলোকে অবশ্যই ট্রাফিক সিগন্যাল এবং লাইট মেনে চলতে হবে। ট্রাফিক লাইট হলুদ এবং লাল হলে যানবাহনগুলো স্টপ লাইনের আগে থামাতে হবে। জেব্রা ক্রসিংয়ে কোনোভাবেই যানবাহন থামানো যাবে না।
অপরদিকে রাস্তা পারাপার হওয়ার আগে পথচারীরা ফুটপাতে থাকতে হবে। ট্রাফিক লাইট সবুজ হলে পথচারী জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হবে। রাস্তা পার হতে পথচারীকে ফুটপাতে ট্রাফিক লাইটের খুঁটিতে পথচারী পুশ সুইচ টিপতে হবে এবং পথচারী সিগন্যাল লাইট সবুজ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
এই পাইলট প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত সুফল বিবেচনা করে ডিএমপি এবং সিটি কর্পোরেশন ভবিষ্যতে ঢাকার ট্রাফিক নিরাপত্তা উদ্যোগগুলোকে আরও উন্নত করতে কাজে লাগাবে।
পাইলট প্রোগ্রামটি আগামী ৮ মে পর্যন্ত প্রতিদিন (ছুটির দিন ব্যতীত) সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এবং মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে অবস্থিত পথচারী ক্রসিংগুলোতে বাস্তবায়ন করা হবে।
পাইলট প্রকল্পটি সফল করতে ডিএনসিসি রাস্তাটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করে ক্রসিংটি প্রশস্ত করেছে যাতে ব্যস্ত সময়ে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
পথচারীদের সার্বিক সহায়তা প্রদান এবং ট্রাফিক লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের জন্য সেখানে ডিএমপি ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
পথচারীদের অনিরাপদ ক্রসিং, অপর্যাপ্ত পথচারী ক্রসিং স্থান, অবৈধ পার্কিং এবং জেব্রা ক্রসিংয়ে অননুমোদিত বাস থামানোসহ আশেপাশের স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ পর্যবেক্ষণ করে এই স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে।
ডিএমপির ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, নিরাপদ রাস্তা পারাপারের জন্য তারা চালক এবং পথচারীদের জন্য একটি নির্দেশিকা প্রস্তুত করেছেন।
সড়ক ব্যবহারকারী, পথচারী এবং যানবাহন চালকদের ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা এবং নির্ধারিত ক্রসিং সুবিধা ব্যবহারের অনুরোধ জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
এ পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সকল মানুষ এবং রাস্তা ব্যবহারকারীদের পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছে ডিএমপি।
সূত্র: বাসস
সিফাত/